মিরপুরের সন্ধ্যায় উত্তেজনা ছুঁয়ে গেল সীমা।
কম রান, টানটান উত্তেজনা, বারবার বদলে যাওয়া ম্যাচের সমীকরণ—শেষ পর্যন্ত জয়টা গেল ওয়েস্ট ইন্ডিজের ঘরে। ১১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশ থামল ৯ রানে, ১ রানে হেরে হাতছাড়া হলো ম্যাচ ও সিরিজের আগাম জয়।
রুদ্ধশ্বাস শেষ ওভার-যেখানে বদলে গেল গল্প! ওয়েস্ট ইন্ডিজের দরকার ছিল শেষ ওভারে মাত্র ৫ রান। হাতে ২ উইকেট। ম্যাচ তখন প্রায় তাদের নিয়ন্ত্রণেই।
কিন্তু বল হাতে আসেন সাইফ হাসান, আর তখনই শুরু হয় রোমাঞ্চের নতুন অধ্যায়।
প্রথম দুই বলেই কোনো রান নেই। তৃতীয় ও চতুর্থ বলে আসে দুটি সিঙ্গেল। পঞ্চম বলে আকিল হোসেনের উইকেট-এখন দরকার ৩ রান, ১ বল বাকি। শেষ বলে নতুন ব্যাটার খারি পিয়েরে ক্যাচ তুললেও সেটি হাতে রাখতে পারেননি উইকেটকিপার নুরুল হাসান সোহান। দৌড়ে ২ রান নিয়ে ম্যাচ টাই করে ফেলে ক্যারিবীয়রা!
টাই ম্যাচের পর খেলা গড়ায় সুপার ওভারে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ আগে ব্যাট করে মুস্তাফিজুর রহমানের ওভারে তোলে ১০ রান। জবাবে বাংলাদেশের শুরুটা ভালো হলেও শেষ পর্যন্ত আকিল হোসেনের দারুণ নিয়ন্ত্রণে থেমে যায় ইনিংস। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ করে ৯ রান-আর ১ রানে জয় পায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
দিনের শুরুতে টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। পিচ ছিল পরিচিত মিরপুরের ধাঁধার মতো-ধীর, টার্নিং, ব্যাটারদের জন্য বিষম।ওপেনার সাইফ হাসান (১৬ বলে ৬) দ্রুত ফিরলেও কিছুটা দৃঢ়তা দেখান সৌম্য সরকার। তবে তিনিও ফিফটির আগে (৮৯ বলে ৪৫) ফিরে গেলে ব্যাটিংয়ের ভরাডুবি শুরু হয়।
তাওহিদ হৃদয় (১২), শান্ত (১৫), অঙ্কন (১৭)—কেউই দাঁড়াতে পারেননি। ইনিংসের স্থিতি ফেরান মিরাজ (৩২)* ও সোহান (২৩)। কিন্তু বাংলাদেশের ইনিংসকে প্রাণ দেন রিশাদ হোসেন।
নবম ব্যাটার হয়ে নেমে মাত্র ১৪ বলে ৩ চার ও ৩ ছক্কায় ৩৯ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন তিনি। তার ব্যাটেই ৫০ ওভারে বাংলাদেশের ইনিংস থামে ৭ উইকেটে ২১৩ রানে।
এই ম্যাচে শুধু ফল নয়, ইতিহাসও তৈরি করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ওয়ানডে ক্রিকেটে প্রথমবার কোনো দল পুরো ৫০ ওভার স্পিনারদের দিয়ে বল করিয়েছে। আগের রেকর্ড ছিল শ্রীলঙ্কার—এক ইনিংসে ৪৪ ওভার স্পিন। আজ ক্যারিবীয়দের পাঁচ স্পিনার মিলে ৫০ ওভার সম্পন্ন করেন। এর মধ্যে আলিক আথানাজে ১০ ওভারে মাত্র ১৪ রান দিয়ে নিয়েছেন ১ উইকেট। গুডাকেশ মোটি নিয়েছেন ৩টি, আর আকিল হোসেইন ও আথানাজে ভাগাভাগি করেছেন ২টি করে উইকেট।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই লড়াইয়ে থাকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। অধিনায়ক শেই হোপ এক প্রান্ত আগলে রেখে ৬৭ বলে অপরাজিত ৬৩ রান করেন। তার সঙ্গে ৩৫ রানের অবদান রাখেন ক্যাসি কার্টি, আর ২৬ রান করেন জাস্টিন গ্রেভস।
শেষ অব্দি নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ২১৩ রান করে ম্যাচে সমতা আনেন তারা—যেখান থেকে গল্পটি গড়ায় সুপার ওভারে।
মিরপুরের উইকেটের চরিত্র যেন এখন বাংলাদেশের জন্যও এক রহস্যে পরিণত। প্রথম ম্যাচে সহজ জয় পেলেও দ্বিতীয় ম্যাচে একই মাঠেই হারতে হলো সুপার ওভারে।
তিন ম্যাচ সিরিজে এখন ১-১ সমতা।শেষ ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে ২৩ অক্টোবর, আর সেটিই নির্ধারণ করবে সিরিজের ভাগ্য।










Discussion about this post