মিরপুরের পিচ যেন ধাঁধা-যেখানে ব্যাটারদের প্রতিটি পদক্ষেপে ফাঁদ, আর স্পিনারদের জন্য স্বর্গরাজ্য! সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে সেই স্পিনের রাজত্বে লেখা হলো এক নতুন ইতিহাস। ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল পুরো ৫০ ওভারই স্পিনারদের দিয়ে করিয়ে গড়ল এক অভূতপূর্ব রেকর্ড, যা ওয়ানডে ক্রিকেটের ৫৪ বছরের ইতিহাসে এর আগে কোনো দল কখনো করতে পারেনি।
বাংলাদেশ টস জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয়। আগের ম্যাচের মতো এবারও ব্যাটারদের সংগ্রাম স্পষ্ট ছিল শুরু থেকেই। মিরপুরের কালো উইকেটে গতি হারানো বল, অপ্রত্যাশিত টার্ন-সব মিলে যেন গোলকধাঁধায় আটকে যায় টাইগারদের ব্যাটিং। এক প্রান্তে লড়ে যান সৌম্য সরকার, কিন্তু ৮৯ বলে ৪৫ রানের ইনিংসের পর তিনিও ফেরেন হতাশার সুরে।
বাংলাদেশের ইনিংসের প্রাণ ফিরে আসে শেষের দিকে। রিশাদ হোসেন নামেন ৯ নম্বরে ব্যাট করতে, আর তার ব্যাট থেকে আসে ঝলমলে এক ঝড়। মাত্র ১৪ বলে ৩টি চার ও ৩টি ছক্কায় অপরাজিত ৩৯ রানের ইনিংস খেলেন এই তরুণ অলরাউন্ডার। তাঁর ব্যাটে ভর করেই বাংলাদেশ নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৭ উইকেটে ২১৩ রানের লড়াকু সংগ্রহ দাঁড় করায়।
তবে দিনের আসল আলো কেড়ে নেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্পিন আক্রমণ। পাঁচ স্পিনার মিলে বল করেন ইনিংসের প্রতিটি ওভার। নিয়মিত চার স্পিনারের সঙ্গে পার্ট-টাইম স্পিনার আলিক আথানেজও করান পূর্ণ ১০ ওভার। বিস্ময়ের ব্যাপার, এই ব্যাটিং স্বর্গে তিনি দেন মাত্র ১৪ রান এবং নেন ১ উইকেট-যা প্রমাণ করে মিরপুরে গতি নয়, টার্নই ছিল আসল শক্তি।
এমন নজির ওয়ানডে ইতিহাসে আগে দেখা যায়নি। শ্রীলঙ্কা এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ৪৪ ওভার স্পিন করানোর রেকর্ড তিনবার গড়েছিল। ওমান একবার করিয়েছিল ৪৩ ওভার ৩ বল। কিন্তু এবার ক্যারিবীয়রা ছাড়িয়ে গেছে সবাইকে-পুরো ৫০ ওভারই স্পিন!
প্রথম ওয়ানডেতে মিরপুরের পিচে স্পিনের প্রভাব বুঝেই দ্বিতীয় ম্যাচের আগে উড়িয়ে আনা হয়েছিল বিশেষজ্ঞ স্পিনার আকিল হোসেনকে। তিনিও ছিলেন সফল, তবে মূল আলোচনায় চলে আসেন দলীয় পরিকল্পনা-স্পিনেই জয় খোঁজা। যদিও ওয়েস্ট ইন্ডিজের ঘূর্ণি ফাঁদে পড়ে বাংলাদেশের ব্যাটাররা ব্যর্থ হয়, শেষ দিকে রিশাদের ব্যাটে কিছুটা আশার আলো জ্বলে।










Discussion about this post