২৭তম জাতীয় ক্রিকেট লিগের শেষ রাউন্ডের দ্বিতীয় দিনটিও হয়ে রইল সেঞ্চুরি ও পাঁচ উইকেটের উৎসব। ষষ্ঠ রাউন্ড শেষে ২৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে থাকা সিলেট নিজেদের দৃঢ় অবস্থান আরও মজবুত করেছে রাজশাহীর বিপক্ষে দারুণ প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে। অন্যদিকে শিরোপার লড়াইয়ে থাকা ময়মনসিংহ খুবই কঠিন পরিস্থিতিতে পড়ে গেছে রাজশাহীর বোলিং তোপে। তিন মাঠে সমান্তরালে তৈরি হচ্ছে রোমাঞ্চকর সমীকরণ, যা শেষ দিনের আগেই লিগকে টেনে নিয়েছে চূড়ান্ত উত্তেজনার মুখে।
মিরপুরে ঢাকা বিভাগ তৈরি করেছে বিশাল রানের পাহাড়। প্রথম দিন ২ উইকেটে ৩৫৬ রান নিয়ে শুরু করেই ৫৪১ রানে প্রথম ইনিংস ঘোষণা করে দলটি। আনিসুল ইসলাম মাত্র তিন রান যোগ করেই ডাবল সেঞ্চুরির স্বপ্ন হারান, তবে আগের দিনের সেঞ্চুরি করা মার্শাল আইয়ুব ব্যাট চালান ১৬৫ রান পর্যন্ত। দিনের সবচেয়ে দৃঢ় ব্যাটিং ছিল আশিকুর রহমানের; আগের দিন আহত হয়ে মাঠ ছাড়লেও তিনি আজ ফিরেই শতরান পূর্ণ করেন।
চট্টগ্রামের ব্যাটিং হয়েছে বিপর্যস্ত। ঢাকার পেসারদের আগুনে স্পেলে ২৩ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে মূলত ম্যাচ থেকে ছিটকেই যায় তারা। মধ্যপর্যায়ে ইয়াসির আলী ও ইরফান শুক্কুর কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও দ্রুত বিদায়ে দিনশেষে চট্টগ্রামের সম্ভাবনা আরও ক্ষীণ হয়ে গেছে।
এদিকে রাজশাহীতে ময়মনসিংহের শিরোপার স্বপ্ন প্রায় নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছে রাজশাহীর স্পিন আক্রমণ। প্রথম ইনিংসে রাজশাহী মাত্র ২১৯ রান করেও ৮২ রানের লিড নেয়, আর দ্বিতীয় দিনে ময়মনসিংহকে গুটিয়ে দেয় মাত্র ১৩৭ রানে। বাঁহাতি স্পিনার সানজামুল ইসলাম একাই নিয়েছেন ৫ উইকেট, সেটিও মাত্র ৫.১ ওভারে—যা তাঁর ২৭তম ফাইফার। দ্বিতীয় ইনিংসে রাজশাহী ২১০ রান তুলে লিড বাড়িয়ে নিয়েছে ২৯২-এ।
বগুড়ায় শিরোপা প্রত্যাশী দুই দল খুলনা ও রংপুরের ম্যাচেও ছিল নাটকীয়তা। প্রথম ইনিংসে ১৩৪ রানের লিড নেওয়া খুলনা দ্বিতীয় ইনিংসে হঠাৎ করেই ব্যাটিং ধস নামে—৪১ রানেই হারায় ৫ ব্যাটার। তবুও সফর আলীর ৫ উইকেটের দাপটে রংপুর ১৭৪ রানে অলআউট হওয়ায় ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ এখনো খুলনার হাতেই।
দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস আসে সিলেটের হয়ে জাকির হাসানের ব্যাট থেকে। বরিশালের ৩১২ রানে জবাবে সিলেট ৪৭ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়েছিল। সেখান থেকে জাকির ও আশরাফুল হাসানের ১১৩ রানের জুটি দলকে উদ্ধার করে। জাকির দিন শেষ করেন ১৩০ রানে অপরাজিত থেকে—এটি তাঁর ১৬তম প্রথম শ্রেণির সেঞ্চুরি এবং এই পথেই তিনি ছুঁয়ে ফেলেছেন ৬ হাজার রান।










Discussion about this post