প্রথম টি-টোয়েন্টিতে হারের ধাক্কা সামলে এবার সিরিজ বাঁচানোর লড়াইয়ে নামছে বাংলাদেশ। চট্টগ্রামে আজ শুক্রবার দ্বিতীয় ম্যাচটি টাইগারদের জন্য কার্যত ‘ডু অর ডাই’। এই ম্যাচে পরাজয় মানেই তিন ম্যাচের সিরিজ হাতছাড়া। তাই ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবে স্বাগতিকরা।
প্রথম ম্যাচের পারফরম্যান্সের পর বাংলাদেশের একাদশে পরিবর্তনের আভাস মিলছে। বিশেষ করে পেস আক্রমণে নতুন মুখ দেখা যেতে পারে। দলে ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে গতিময় পেসার নাহিদ রানা কিংবা অভিজ্ঞ তাসকিন আহমেদের। সেক্ষেত্রে শরিফুল ইসলাম বা আবদুল গাফফার সাকলাইনকে জায়গা ছাড়তে হতে পারে। অন্যদিকে চোট কাটিয়ে নিয়মিত অধিনায়ক লিটন দাসের ফেরার সম্ভাবনা এখনও ক্ষীণ। ফলে দ্বিতীয় ম্যাচেও নেতৃত্বের দায়িত্ব পালন করতে পারেন তাওহিদ হৃদয়।
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ভরসা বোলিং বিভাগ, বিশেষ করে পেস ইউনিট। প্রথম ম্যাচে প্রত্যাশা অনুযায়ী সাফল্য না মিললেও নতুন করে নিজেদের প্রমাণ করার সুযোগ পাচ্ছেন বোলাররা। স্পিন বিভাগেও খুব একটা পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। রিশাদ হোসেন ও শেখ মেহেদী হাসানকে ঘিরেই পরিকল্পনা সাজাচ্ছে টিম ম্যানেজমেন্ট। ঘরের মাঠে দুজনই ধারাবাহিকভাবে কার্যকর ভূমিকা রেখে চলেছেন।
তবে সিরিজে টিকে থাকতে হলে বড় দায়িত্ব নিতে হবে ব্যাটারদের। প্রথম ম্যাচে ব্যাটিং ব্যর্থতাই মূলত বাংলাদেশকে চাপে ফেলেছিল। ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ও সাইফ হাসানের ভালো শুরু যেমন প্রয়োজন, তেমনি তিন নম্বরে সৌম্য সরকারের কাছ থেকেও প্রত্যাশা বড় ইনিংসের।
মিডল অর্ডারে পারভেজ হোসেন ইমন ও অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয়ের ব্যাটে রান এলে দলের আত্মবিশ্বাসও বাড়বে। আর শেষের দিকে শামীম হোসেন পাটোয়ারীকে খেলতে হবে তার চেনা ফিনিশারের ভূমিকায়। একই সঙ্গে ব্যাট হাতে অবদান রাখতে হবে শেখ মেহেদী ও রিশাদদেরও।
চট্টগ্রামের উইকেট সাধারণত ব্যাটারদের সহায়তা করে। যদিও সিরিজের প্রথম ম্যাচে কিছুটা ধীরগতির উইকেট দেখা গেছে এবং দুই দলের ব্যাটাররাই রান তুলতে সংগ্রাম করেছেন। তবুও দ্বিতীয় ম্যাচে বড় স্কোর গড়ার সুযোগ রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারলেই সিরিজে সমতা ফেরানোর পথ খুলে যাবে বাংলাদেশের সামনে।
অন্যদিকে আত্মবিশ্বাসে টইটম্বুর অস্ট্রেলিয়া। সাম্প্রতিক সাফল্যের ধারাবাহিকতায় তাদের শিবিরে স্বস্তির আবহ বিরাজ করছে। টি-টোয়েন্টি দলে মিচেল মার্শের উপস্থিতি যেমন শক্তি বাড়িয়েছে, তেমনি টিম ডেভিডের মতো বিশেষজ্ঞ পাওয়ার-হিটারও প্রতিপক্ষের জন্য বড় হুমকি। প্রথম ম্যাচে অভিষেকেই নজর কাড়েন নিখিল চৌধুরী, আর জোয়েল ডেভিসও ছিলেন কার্যকর। ফলে কোনোভাবেই স্বস্তিতে থাকার সুযোগ নেই বাংলাদেশের।
চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টায় শুরু হবে ম্যাচটি। সিরিজের প্রথম ম্যাচ জিতে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া। ফলে সমতা ফেরাতে হলে এবার নিজেদের সেরাটাই উজাড় করে দিতে হবে টাইগারদের। মাঠের লড়াইয়ে অস্ট্রেলিয়াকে টপকাতে না পারলে সিরিজ স্বপ্নও শেষ হয়ে যেতে পারে বাংলাদেশের।









Discussion about this post