সময় ১৬০ কিংবা ১৭০ রান করলেই সন্তুষ্ট থাকত জিম্বাবুয়ে। কিন্তু আধুনিক ক্রিকেটে সেই মানসিকতা আর টিকিয়ে রাখতে চান না অধিনায়ক সিকান্দার রাজা। তার বিশ্বাস, বিশ্ব ক্রিকেটের সঙ্গে পাল্লা দিতে হলে শুধু প্রতিভা নয়, বদলাতে হবে চিন্তার ধরনও। আর সেই দর্শনেই বাংলাদেশকে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজে দারুণ সূচনা করেছে স্বাগতিকরা।
বুলাওয়েতে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে আগে ব্যাট করে ১৭০ রান তোলে জিম্বাবুয়ে। ম্যাচের আগে টস জিতে বাংলাদেশ অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয় ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিলে রাজা জানান, তিনি আগে ব্যাটিংই করতে চেয়েছিলেন। কারণ তার ধারণা ছিল, সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য আরও কঠিন হয়ে উঠবে।
ম্যাচ শেষে জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক জানান, আধুনিক ক্রিকেটে আগের মানসিকতা নিয়ে এগোনোর সুযোগ নেই। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় বিশ্ব ক্রিকেট অনেক এগিয়ে গেছে। জিম্বাবুয়ে এত দিন ধরে ১৬০-১৭০ রানের দল হিসেবে পরিচিত। কিন্তু আমরা যদি নিজেদের উন্নত না করি, নিজেদের আরও দক্ষ করে ২০০ রান করার লক্ষ্য না ধরি, তাহলে বিশ্ব ক্রিকেটের অন্য দলগুলোর থেকে পিছিয়ে পড়ব।’
সেই লক্ষ্য নিয়েই এবার দলের ব্যাটিং পরিকল্পনায় পরিবর্তন এনেছেন রাজা। তার মতে, নির্ধারিত পার স্কোরের চেয়ে এগিয়ে থাকাই হওয়া উচিত প্রতিটি দলের লক্ষ্য। তিনি বলেন, ‘১৫৫ রান যেখানে পার স্কোর, সেখানে আমরা ১৭১ করেছি। তাই আটজন ব্যাটার খেলানোর পেছনে আমার ভাবনা ছিল- একজন ব্যাটার সেট হয়ে গেলে যেন সে আরও নির্ভীকভাবে প্রতিপক্ষের ওপর চড়াও হতে পারে। তবে সেই সঙ্গে দায়িত্বশীলও থাকতে হবে।’
শুধু অতিরিক্ত ব্যাটার খেলানোই নয়, বড় স্কোর গড়তে ব্যাটারদের মানসিক প্রস্তুতিকেও সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক।
রাজা বলেন, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, একজন সেট ব্যাটারের আত্মবিশ্বাস থাকা উচিত যে সে ১৫ রানের একটি ওভার বের করতে পারবে, এরপর আরেকটি ১৫ রানের ওভারও নিতে পারবে। তাতে আমরা সবসময় পার স্কোরের চেয়ে এগিয়ে থাকতে পারব। আটজন ব্যাটার খেলানোর মূল উদ্দেশ্য ছিল দুটি- প্রথমত, বিশ্ব ক্রিকেটের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আরও আক্রমণাত্মক ও নির্ভীক ক্রিকেট খেলা। দ্বিতীয়ত, অনুশীলনের মাধ্যমে ব্যাটার হিসেবে আমরা কতটা নিজেদের দক্ষতা বাড়াতে পেরেছি, সেটি যাচাই করা। এটাই ছিল অন্যতম কারণ।’
জিম্বাবুয়ের এই বদলে যাওয়া মানসিকতার প্রতিফলন মিলেছে মাঠের পারফরম্যান্সেও। সীমিত ওভারের ক্রিকেটে যেখানে অধিকাংশ দল ২০০ রানকে নতুন মানদণ্ড হিসেবে ধরছে, সেখানে জিম্বাবুয়েও নিজেদের সেই পথেই এগিয়ে নিচ্ছে। বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের জয় যেন সেই পরিবর্তনেরই বাস্তব উদাহরণ।









Discussion about this post