মেজর লিগ ক্রিকেটে ব্যাটারদের চার-ছক্কার ঝড়ে যখন বোলাররা কার্যত অসহায়, তখন ব্যতিক্রমী পারফরম্যান্স দেখালেন সাকিব আল হাসান। তবে বাংলাদেশি অলরাউন্ডারের নিয়ন্ত্রিত বোলিংও এমআই নিউইয়র্ককে হার এড়াতে পারেনি। ২৬৭ রানের বিশাল লক্ষ্য দিয়েও শেষ পর্যন্ত ওয়াশিংটন ফ্রিডমের কাছে ৬ উইকেটে হেরে গেছে দলটি।
ক্যালিফোর্নিয়ায় টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন ওয়াশিংটনের অধিনায়ক স্টিভ স্মিথ। ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ২৬৬ রানের বিশাল সংগ্রহ গড়ে এমআই নিউইয়র্ক। দলের হয়ে ঝড়ো সেঞ্চুরি করেন অধিনায়ক নিকোলাস পুরান। মাত্র ৩৩ বলে ৫টি চার ও ১৩টি ছক্কায় ১০৬ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন তিনি। কাইরন পোলার্ডও ২৫ বলে ৬৪ রান যোগ করেন, আর শেষদিকে ট্রেন্ট বোল্ট ১০ বলে অপরাজিত ২২ রান করেন।
ছয় নম্বরে ব্যাট করতে নেমে অবশ্য সুবিধা করতে পারেননি সাকিব। ৫ বল খেলে মাত্র ৪ রান করে ফিরতে হয় তাকে। ওয়াশিংটনের হয়ে রাচিন রবীন্দ্র ৪টি এবং বেন ডোয়ারশুইস ২টি উইকেট নেন।
বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমেই বল হাতে নিজের ছাপ রাখেন সাকিব। ইনিংসের প্রথম ওভারেই অধিনায়ক পুরান তার হাতে বল তুলে দেন। সেই আস্থার প্রতিদান দিয়ে প্রথমে ফেরান মিচেল ওয়েনকে। এরপর নিজের দ্বিতীয় ওভারের প্রথম বলেই সাজঘরে পাঠান রাচিন রবীন্দ্রকে। শুরুতেই দুই উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচে এমআই নিউইয়র্ককে দারুণ অবস্থানে এনে দিয়েছিলেন তিনি।
কিন্তু এরপরই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন স্টিভ স্মিথ ও আন্দ্রিস গুজ। তৃতীয় উইকেটে তাদের ২৪১ রানের অবিশ্বাস্য জুটি নিউইয়র্কের জয়ের আশা শেষ করে দেয়। গুজ ৫১ বলে ১০টি চার ও ১২টি ছক্কায় ১৩২ রান করে আউট হলেও স্মিথ ৪৮ বলে ৭টি চার ও ৯টি ছক্কায় ১১০ রানে অপরাজিত থাকেন। তাদের ব্যাটে ১৮.৪ ওভারেই ৬ উইকেট হাতে রেখে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় ওয়াশিংটন।
দলের অন্য বোলাররা যেখানে একের পর এক বাউন্ডারি হজম করেছেন, সেখানে সাকিব ছিলেন একমাত্র ব্যতিক্রম। চার ওভারে মাত্র ৩৪ রান দিয়ে ২ উইকেট শিকার করেন তিনি। তার ইকোনোমি ছিল ৮.৫০, যা ম্যাচে নিউইয়র্কের অন্য সব বোলারের তুলনায় অনেক ভালো। দলের আর কোনো বোলারের ইকোনোমি ১১.৫০-এর নিচে ছিল না।
ব্যাটারদের দাপটে ম্যাচটি পরিণত হয় রানের উৎসবে। দুই দলের মিলিয়ে ওঠে ৫৩৬ রান। পুরো ম্যাচে দর্শকরা দেখেছেন ৩০টি চার ও ৫১টি ছক্কার বৃষ্টি। তবে এমন ব্যাটিং মহোৎসবেও বল হাতে নিয়ন্ত্রণ ও কার্যকারিতার দিক থেকে আলাদা করে নজর কেড়েছেন সাকিব।










Discussion about this post