জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজের দল ঘোষণার পর সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে দুটি নাম। একটি প্রত্যাশিত, অন্যটি কিছুটা বিস্ময়ের। দুর্দান্ত ফর্মের পুরস্কার হিসেবে দীর্ঘদিন পর জাতীয় টি-টোয়েন্টি দলে ফিরেছেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। অন্যদিকে সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স খুব একটা চোখে না পড়লেও সুযোগ পেয়েছেন ইয়াসির আলী চৌধুরী রাব্বি। দুই ক্রিকেটারকে দলে নেওয়ার পেছনের ভাবনা স্পষ্ট করেছেন প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন।
সাম্প্রতিক সময়ে সাদা বলের ক্রিকেটে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স করেছেন মোসাদ্দেক। বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে ব্যাট ও বল হাতে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার পর থেকেই তাকে টি-টোয়েন্টি দলে ফেরানোর দাবি জোরালো হয়েছিল। নির্বাচকরাও শেষ পর্যন্ত সেই পারফরম্যান্সকে মূল্যায়ন করেছেন।
মোসাদ্দেককে নিয়ে বাশার বলেন, ‘মোসাদ্দেককে নেওয়া হয়েছে ওর অলরাউন্ডার এবিলিটির জন্য। মাঝে মাঝে ষষ্ঠ বোলার দরকার হয়। সাদা বলের ক্রিকেটে ভালো ফর্মে আছে। আশা করছি ওর ব্যাটিং স্টাইল ও বোলিং টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে কাজে লাগবে।’
ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি প্রয়োজনের সময় কয়েক ওভার বল করতে পারার সামর্থ্যই মোসাদ্দেককে বাড়তি গুরুত্ব দিয়েছে। টি-টোয়েন্টির মতো ছোট সংস্করণে এমন বহুমুখী ক্রিকেটারের মূল্য যে অনেক বেশি, সেটিই যেন বোঝাতে চেয়েছেন প্রধান নির্বাচক।
অন্যদিকে ইয়াসির আলীকে দলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও নির্বাচকদের যুক্তি ভিন্ন। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে মোহামেডানের হয়ে ২০৭ রান করলেও তার স্ট্রাইক রেট ছিল দেড়শর বেশি। নির্বাচকদের বিশ্বাস, বড় শট খেলার সেই সামর্থ্য আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতেও কাজে লাগতে পারে।
বাশার বলেন, ‘ইয়াসির রাব্বি অন্যতম পাওয়ার হিটার। যদিও ওর পারফরম্যান্স ওরকম আলোচনায় থাকার মতো না। তবে সে তাদের একজন যারা বাউন্ডারি ক্লিয়ার করতে পারে। ওর পাওয়ার হিটিংয়ের সামর্থ্যের কারণেই ওকে নেওয়া হয়েছে।’
এই সিরিজে অবশ্য পূর্ণশক্তির দল পাচ্ছে না বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কান প্রিমিয়ার লিগে (এলপিএল) খেলতে যাওয়ায় অধিনায়ক লিটন দাস ও পেসার তাসকিন আহমেদকে আগেই ছাড়পত্র দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। একই সঙ্গে দলে ফিরেছেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, আর জায়গা হারিয়েছেন শামীম পাটোয়ারি।
তবে নির্বাচকদের ভাবনা শুধু এই সিরিজকে ঘিরে নয়। তাদের লক্ষ্য আরও দীর্ঘমেয়াদি। দুই বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে সামনে রেখে সম্ভাব্য ক্রিকেটারদের এখন থেকেই পর্যবেক্ষণে রাখতে চায় টিম ম্যানেজমেন্ট।
প্রধান নির্বাচক বলেন, ‘টি-টোয়েন্টিতে বোর্ড লিটন-তাসকিনকে আগেই ছুটি দিয়েছে। দুজন নতুন ব্যাটারকে নিয়েছি কারণ এ মুহূর্তে পারফরম্যান্স আশাব্যাঞ্জক নয়। আশা করি ফর্মে ফিরবে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২ বছর পর। আমরা আগেই ঠিক করেছিলাম অন্তত এক বছর আগে কিছু খেলোয়াড় যেন দেখতে পারি। এখনই দেখে নিব তাহলে বিশ্বকাপের প্রাক্বালে নতুন কাউকে দেখতে যাব না।’
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের সবগুলো ম্যাচই হবে বুলাওয়ের কুইন্স স্পোর্টস ক্লাবে। ১৫, ১৭ ও ১৯ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে ম্যাচগুলো। প্রতিটি ম্যাচ শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে ৪টায়।








Discussion about this post