মিরপুরে বাংলাদেশ–পাকিস্তান সিরিজের প্রথম একদিনের ম্যাচে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠেন বাংলাদেশের তরুণ পেসার নাহিদ রানা। গতির ঝড় আর শর্ট বলের আক্রমণে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামিয়ে ৭ ওভারে মাত্র ২৪ রান দিয়ে ৫ উইকেট তুলে নেন তিনি। এই পারফরম্যান্সে ম্যাচসেরার পুরস্কারও জিতে নেন রানা।
মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে গড়ে ঘণ্টায় প্রায় ১৪০ কিলোমিটার গতিতে বোলিং করেন রানা। সর্বোচ্চ গতি ছিল ঘণ্টায় ১৪৮.৩ কিলোমিটার। শর্ট বলের কৌশল কাজে লাগিয়ে তিনি সাহিবজাদা ফারহান, শামাইল হোসাইন, মাজ সাদাকাত ও সালমান আলী আগাকে আউট করেন। পরে ধারাবাহিক শর্ট বলের পর লেংথ পরিবর্তন করে ফেরান অধিনায়ক মোহাম্মদ রিজওয়ানকে।
সংবাদ সম্মেলনে রানা জানান, গত বিপিএলের সময় পাকিস্তানের কিংবদন্তি পেসার ওয়াকার ইউনিসের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ পেয়েছিলেন তিনি। সেই আলাপের কথা স্মরণ করে রানা বলেন, ‘‘তার (ওয়াকার ইউনিস) সঙ্গে আমার কথা হয়েছিল (বিপিএলের সময়)। তিনি শুধু একটা কথাই বলছিলেন, ‘তুমি নিজেকে ফিট রাখো এবং তোমার যে স্ট্রেংথ, এই জিনিসটা কখনো হারাতে দিও না। যত ম্যাচ খেলবে, তত শিখতে পারবে। আমি তোমাকে এখন যত কিছু বলি, তোমার মাথায় ঢুকবে না। কিন্তু তুমি যদি জিনিসটা নিজে বোঝো কিংবা নিজে কাজে লাগাও, এটা তোমার সব সময় মনে থাকবে।’ এই জিনিসটা আমার ভালো লেগেছে।’’
রানা মনে করেন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে শুধু গতি দিয়ে সফল হওয়া যায় না। তাই নিজের দক্ষতা বাড়ানোর দিকেই বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে রানা বলেন, ‘আমি দীর্ঘ সময় যখন অনুশীলন করি, তখন অনুভব করার চেষ্টা করি যে আর কী কী স্কিল ডেভেলপ করা উচিত। গতি নিয়ে আমি আসলে চিন্তা করি না। কারণ, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে গতির চেয়ে স্কিলটা দরকার। তো আমি এই জিনিসটা নিয়ে কাজ করার চেষ্টা করছি।’
পাঁচ উইকেট নেওয়ার সময় সতীর্থদের উচ্ছ্বাসও চোখে পড়েছে। বিশেষ করে তাসকিন আহমেদ হাসিমুখ টেলিভিশনের পর্দায় ধরা পড়ে। এ প্রসঙ্গে রানা বলেন, ‘আসলে আমরা হচ্ছি ধরেন ভাই-ব্রাদার টাইপের। আমরা মাঠে যতটা হাসিখুশি থাকি, মাঠের বাইরে ততটা বেশি হাসিখুশি থাকি। এই জিনিসটা আমাদের মাঠে অনেক সাহায্য করে। আমরা একজন আরেকজনকে অনুপ্রেরণা দিই। আমার কোনো কিছু যদি ভুল হয়, তারা ধরিয়ে দেয়। আমি তাদের কাছ থেকে অনুশীলনে শেখার চেষ্টা করি।’
এই পারফরম্যান্সে পাকিস্তানের বিপক্ষে একদিনের ম্যাচে বাংলাদেশের হয়ে ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেওয়ার তালিকায় নিজের নাম লেখান রানা। এর আগে এই কীর্তি ছিল মোস্তাফিজুর রহমান-এর। ২০১৯ বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে ১০ ওভারে ৭৫ রান দিয়ে পাঁচ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। তুলনায় রানার পারফরম্যান্স ছিল আরও মিতব্যয়ী, ৭ ওভারে মাত্র ২৪ রান।
রানার বোলিংয়ের প্রশংসা করেছেন পাকিস্তানের সাদা বলের প্রধান কোচ মাইক হেসন। প্রশংসা এসেছে পাকিস্তানের সাবেক পেসার মোহাম্মদ আমির থেকেও। নিজের ইউটিউব চ্যানেলে ম্যাচ বিশ্লেষণ করতে গিয়ে আমির বলেন, ‘পাকিস্তান ১১৪ রানে গুটিয়ে গেছে। নাহিদ রানা ৫ উইকেট নিয়েছে। ৩ উইকেট পেয়েছে মেহেদী হাসান মিরাজ। যে উইকেটে আমরা ১১৪ রান করলাম, একই উইকেটে বাংলাদেশ ১০-১২ ওভারে (১৫.১ ওভারে) খেলা শেষ করে দিল। আমাদের খুব মজা করেই পিটিয়েছে বাংলাদেশ।’
পরে মিরপুরের উইকেট নিয়েও মন্তব্য করেন আমির। তার ভাষায়, ‘আমরা ঘূর্ণি উইকেটের প্রত্যাশা করেছিলাম। আর তারা তৈরি করল পেসবান্ধব উইকেট। পাকিস্তানের কাছে সেটা সিলেবাসের বাইরে থেকে প্রশ্ন আসার মতোই। আবারও বলছি, পাকিস্তানকে কোনো স্পিনবান্ধব উইকেট দেবে না বাংলাদেশ। সিরিজ জেতার জন্য এটাই করবে (পেসবান্ধব উইকেটে ম্যাচ)।’










Discussion about this post