দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের পর এবার ক্রিকেট প্রশাসনে ভূমিকা রাখার ইচ্ছার কথা জানালেন তামিম ইকবাল। সুযোগ পেলে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি হতে চান বলে এক পডকাস্টে জানিয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক। বাংলাদেশ ক্রিকেটে দীর্ঘ সময় ওপেনিং ব্যাটসম্যান হিসেবে দলের ভরসার নাম ছিলেন তিনি। জাতীয় দলের সাবেক এই অধিনায়ক এবার ক্রিকেট প্রশাসনে ভূমিকা রাখার আগ্রহের কথাও প্রকাশ করেছেন।
বিসিবির নেতৃত্বে আসার ইচ্ছা নিয়ে ক্রিকেট অঙ্গনে আলোচনা নতুন নয়। সর্বশেষ বিসিবি নির্বাচনের সময়ই সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পরিকল্পনা করেছিলেন তামিম। তবে শেষ মুহূর্তে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে দাঁড়ান তিনি। নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সরকারি হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলেছিলেন সাবেক এই অধিনায়ক। তার সঙ্গে সরে দাঁড়ান ঢাকার ক্লাব সংগঠকদের বড় একটি অংশও, যা তখন ক্রিকেট প্রশাসনে বেশ আলোচনার জন্ম দেয়।
বাংলাদেশের হয়ে দীর্ঘ সময় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেছেন তামিম। ওয়ানডে ও টেস্ট, দুই সংস্করণেই দেশের অন্যতম সফল ব্যাটসম্যান হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তিনি। ক্যারিয়ারের একটি বড় সময় জুড়ে দলের নেতৃত্বও দিয়েছেন।
২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগে আচমকাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দেন তামিম। পরে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে আবারও দলে ফেরেন এবং একটি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেন। তবে শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ দলে জায়গা হয়নি তার। নানা জটিলতার সেই অধ্যায়ের পর আর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরেননি তিনি।
এদিকে ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলতে গিয়ে বড় ধাক্কাও খেতে হয়েছে তাকে। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের একটি ম্যাচ চলাকালে গুরুতর হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হন তামিম। এরপর থেকে মাঠের ক্রিকেটে নিয়মিত দেখা না গেলেও ক্রিকেট অঙ্গনের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন অন্য ভূমিকায়। বিশেষ করে ক্লাব ক্রিকেটে সংগঠক হিসেবে তার সক্রিয়তা দেখা যাচ্ছে।
সম্প্রতি ‘সামীরস্ক্যান’ নামের একটি পডকাস্টে অংশ নিয়ে বিসিবি সভাপতির পদ নিয়ে নিজের ভাবনার কথা খোলামেলাভাবে বলেন তামিম। সেখানে তাকে প্রশ্ন করা হয়, তিনি বিসিবি সভাপতি হতে চান কি না। জবাবে তিনি বলেন, ‘যদি সুযোগ আসে অবশ্যই।’
পডকাস্টে আরেকটি প্রশ্ন ছিল-বিসিবি সভাপতি হওয়ার মতো যোগ্যতা তিনি নিজের মধ্যে দেখেন কি না। এ প্রসঙ্গে তামিমের উত্তর ছিল, ‘আমি মনে করি (আছে)। অবশ্যই মনে করি।’
কেন তিনি ক্রিকেট প্রশাসনে আসতে চান, সেটিও ব্যাখ্যা করেছেন সাবেক এই অধিনায়ক। তার মতে, কেবল অভিজ্ঞতা নয়, ক্রিকেট পরিচালনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সঠিক উদ্দেশ্য বা সদিচ্ছা।
এই প্রসঙ্গে তামিম বলেন, ‘আমার সামর্থ্য (এর কারণে) একজন সংগঠক হিসেবে, আমার মনে হয় ক্রিকেটিং সার্কেলে তাদের সবার আইডিয়া আছে। অভিজ্ঞতা, বয়স -এগুলো সবকিছুর উপরে, এখানে ইনটেনশন সবচেয়ে জরুরি ব্যাপার। দেখেছেন না সবচেয়ে অভিজ্ঞ লোকজনও বিসিবি চালিয়েছে। ২০ বছর ধরে বিসিবিতে ছিল, বিসিবি কি খুব ভালো করতেছে? এতদিন তো করলেন বিশ্বাস অভিজ্ঞদের উপর, একবার বিশ্বাস করেন আমার (মত) অনভিজ্ঞদের উপর।’










Discussion about this post