সাফ নারী অনূর্ধ্ব-১৯ চ্যাম্পিয়নশিপে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব নতুন করে জানান দিল বাংলাদেশ। নেপালের পোখারার রঙ্গশালায় টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে ভুটানকে ১২-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে প্রতিযোগিতা শুরু করেছে লাল-সবুজের দল। ম্যাচের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মাঠের নিয়ন্ত্রণ ছিল বাংলাদেশের হাতে, আক্রমণের তীব্রতায় ভুটানকে রীতিমতো কোণঠাসা করে রাখে পিটার বাটলারের শিষ্যরা।
প্রথম দিকে একের পর এক আক্রমণ গড়লেও গোলের দেখা পেতে কিছুটা সময় নেয় বাংলাদেশ। ২৫তম মিনিটে কর্নার থেকে নেওয়া মামনি চাকমার নিখুঁত বাঁকানো শট সরাসরি জালে ঢুকে দলকে এগিয়ে দেয়। এই গোলের পর ভুটানের রক্ষণভাগে ভাঙন ধরে এবং বাংলাদেশের আক্রমণ আরও ধারালো হয়ে ওঠে।
প্রথমার্ধের শেষভাগে দ্রুত ব্যবধানে তিনটি গোল করে ম্যাচ কার্যত একপেশে করে ফেলে বাংলাদেশ। তৃষ্ণা রানী ফাঁকা পোস্টে বল পাঠিয়ে দ্বিতীয় গোল করেন। এরপর পুজা দাসের ফ্লিক থেকে গোল করেন মুনকি আক্তার। যোগ করা সময়ে পুজার ক্রস থেকে দারুণ দক্ষতায় বল নিয়ন্ত্রণ করে বাম পায়ের শটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন মুনকি। বিরতিতে ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকে বাংলাদেশ।
দ্বিতীয়ার্ধে গতি আরও বাড়ায় লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। ৫৪তম মিনিটে তৃষ্ণার কোনাকুনি শটে পঞ্চম গোল আসে। কিছুক্ষণ পর গোলকিপারের ভুলে পাওয়া সুযোগ কাজে লাগিয়ে হ্যাটট্রিক পূরণ করেন তৃষ্ণা। ভুটান মাঝেমধ্যে আক্রমণে উঠলেও বাংলাদেশের রক্ষণ আর গোলকিপার ইয়ারজান বেগম ছিল সতর্ক।
ম্যাচের শেষার্ধে গোলের মিছিল অব্যাহত থাকে। ডিফেন্ডারের ভুলে সুযোগ পেয়ে আলপি আক্তার গোল করেন। একক প্রচেষ্টায় গোল করে হ্যাটট্রিক পূরণ করেন মুনকি, পরে যোগ করেন নিজের চতুর্থ গোলও। জয়নব বিবি রিতার বাড়ানো বল থেকে আলপি আবারও স্কোরলাইন বাড়ান। যোগ করা সময়ে অধিনায়ক অর্পিতা বিশ্বাস গোলের খাতায় নাম লেখান এবং ম্যাচের একেবারে শেষে হ্যাটট্রিক পূরণ করেন আলপি আক্তার।
মুনকি আক্তার চার গোল করে ম্যাচের সর্বোচ্চ স্কোরার হন। তৃষ্ণা রানী ও আলপি আক্তার তিনটি করে গোল করেন, আর মামনি চাকমা ও অর্পিতা বিশ্বাস একটি করে গোল যোগ করেন। বড় এই জয়ে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে রাউন্ড রবিন লিগে নিজেদের পরের ম্যাচে ভারতের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ, যেখানে লক্ষ্য থাকবে দাপট বজায় রাখা।










Discussion about this post