বাংলাদেশ ক্রিকেটের প্রশাসনিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ এক দিন পার করল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। আজ রোববার মিরপুরের শেরে-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম-এ অনুষ্ঠিত হলো বিসিবির পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচন। সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া ভোটগ্রহণ চলে টানা বিকেল ৪টা পর্যন্ত। ভোট শেষে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে গণনার কাজ। নির্বাচনের পুরো প্রক্রিয়াজুড়েই ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ, পাশাপাশি ছিল নানা হিসাব-নিকাশ ও উত্তেজনা।
এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ছিলেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল। ঢাকার ক্লাব ক্যাটাগরি থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি পেয়েছেন সর্বোচ্চ ৭৩ ভোট। নির্বাচনে তাঁর এই বড় ব্যবধানের জয় ক্রিকেট প্রশাসনে তার গ্রহণযোগ্যতার প্রতিফলন হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। শুধু তামিমই নন, ঢাকার ক্লাব ক্যাটাগরি থেকে আরও বেশ কয়েকজন পরিচিত সংগঠক ও ক্লাব কর্মকর্তা জয় পেয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন মাসুদুজ্জামান, রফিকুল ইসলাম বাবু, ইয়াসির আব্বাস, ইসরাফিল খসরু, সাঈদ ইব্রাহিম, শাহনিয়ান তানিম, ফাহিম সিনহা, ইয়াসির ফয়সাল, আসিফ রাব্বানি, ডা. মাহবুব শামীম এবং সাকেফ আহমেদ সালাম।
নির্বাচনে আবাহনীর প্রতিনিধি ফাহিম সিনহাও উল্লেখযোগ্য ফল করেছেন। তিনি পেয়েছেন ৬৬ ভোট। অন্যদিকে বরিশালের একটি আসনে মোট সাত ভোটের মধ্যে পাঁচটি পেয়ে পরিচালক নির্বাচিত হয়েছেন মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। ফলে বিভাগীয় পর্যায়েও প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল বেশ জমজমাট।
সকালের দিকে ভোটার উপস্থিতি তুলনামূলক কম থাকলেও দুপুরের পর পরিস্থিতি বদলে যায়। মিরপুরে একে একে আসতে থাকেন ক্লাব প্রতিনিধি, সংগঠক ও ক্রিকেট সংশ্লিষ্টরা। ভোট দিতে দেখা যায় তামিম ইকবাল, রুবেল হোসেন, ইসরাফিল খসরু, ফাহিম সিনহা ও রফিকুল ইসলাম বাবুসহ অনেক পরিচিত মুখকে। ভোটকেন্দ্রজুড়ে ছিল কড়া নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ।
এবারের নির্বাচনে প্রযুক্তির ব্যবহারও ছিল উল্লেখযোগ্য। প্রচলিত ব্যালট ভোটের পাশাপাশি ৩৯ জন ভোটার অনলাইনে ই-ভোটের মাধ্যমে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। দুপুর ১টা পর্যন্ত ই-ভোট দেওয়ার সুযোগ ছিল। বিসিবির নির্বাচনে ই-ভোট ব্যবস্থার এই প্রয়োগকে আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে ক্যাটাগরি-১ ও ক্যাটাগরি-২-এ। তবে ভোট শুরুর আগেই কয়েকটি পদে ফল নিশ্চিত হয়ে যায়। ক্যাটাগরি-৩ থেকে সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর একক প্রার্থী হওয়ায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরিচালক নির্বাচিত হন। এছাড়া ক্যাটাগরি-২ থেকেও আরও সাতজন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় পান। ফলে ভোটের আগেই মোট আটজন পরিচালক নির্বাচিত হয়ে যান। এরপর বাকি ১৫টি পরিচালক পদের জন্য অনুষ্ঠিত হয় ভোটযুদ্ধ। ক্লাব কোটা এবং খুলনা ও বরিশাল বিভাগের আসনগুলোতে ছিল সবচেয়ে বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতা।
ক্লাব ক্যাটাগরিতে সাঈদ ইব্রাহিম ৭২, ইসরাফিল খসরু ৭২, মাসুদুজ্জামান ৭০, ফয়সাল ইয়াসির ৬৮, ফাহিম সিনহা ৬৬, শানিয়ান তানিম ৬৬, সাকিফ আহমেদ ৬৫, আসিফ রব্বানী ৬৪, মির্জা ইয়াসির ৬৩, রফিকুল ইসলাম ৫৩, ড. শামীম ৪১ ভোট পেয়েছেন। হেরে যাওয়া প্রার্থীদের মধ্যে সৈয়দ বোরহানুল ৪০, আমজাদ হোসেন ৩২, ফায়াজুর রহমান ২৩ এবং মেজর ইমরোজ ২০ ভোট পেয়েছেন।
ক্যাটাগরি-দুইয়ে বিসিবি নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন ফায়াজুর রহমান (উত্তরা ক্রিকেট ক্লাব), মেজর ইমরোজ আহমেদ (অবঃ) (কাঁঠালবাগান গ্রীন ক্রিসেন্ট ক্লাব), আমজাদ হোসেন (ট্রাই স্টেট ক্রিকেটার্স) ও সৈয়দ বোরহানুল হোসেন (তেজগাঁও ক্রিকেট একাডেমি)। তারা পাশ করেননি।
বিসিবির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী পরিচালক পদের চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পরই শুরু হবে পরবর্তী ধাপ। নির্বাচিত পরিচালকদের ভোটে রোববার সন্ধ্যা ৭টায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে বিসিবির সভাপতি ও সহ-সভাপতি নির্বাচন। এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল প্রকাশ করেনি নির্বাচন কমিশন।










Discussion about this post