ফলো-অন খেলতে নেমে ম্যাচ বাঁচানোর কঠিন পরীক্ষায় পড়েছিল বাংলাদেশ ইমার্জিং দল। তবে আশিকুর রহমান শিবলি ও জাকের আলির দৃঢ় ব্যাটিংয়ে শেষ পর্যন্ত হার এড়িয়ে ড্র নিয়েই মাঠ ছেড়েছে স্বাগতিকরা। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে জিম্বাবুয়ে ‘এ’ দলের বিপক্ষে চার দিনের দ্বিতীয় ম্যাচটি আজ অমীমাংসিতভাবেই শেষ হয়েছে।
বৃষ্টির কারণে ম্যাচের বেশির ভাগ সময়ই খেলা ব্যাহত হয়। প্রথম দুই দিনে অর্ধেকেরও বেশি সময় মাঠে বল গড়ায়নি। শেষ দুই দিন খেলা হলেও কোনো দল ফল বের করতে পারেনি। এর আগের চার দিনের প্রথম ম্যাচেও বৃষ্টির কারণে মাত্র এক দিনের খেলা হয়েছিল।
শনিবার ৮ উইকেটে ২০০ রান নিয়ে প্রথম ইনিংসের শেষ দিনের খেলা শুরু করে বাংলাদেশ ইমার্জিং। তবে আর মাত্র দুই রান যোগ করতেই শেষ দুই উইকেট হারিয়ে ২০২ রানে অলআউট হয়ে যায় স্বাগতিকরা। জিম্বাবুয়ে ‘এ’-এর হয়ে লেগ স্পিনার ভিনসেন্ট মাসেকেসা প্রথম ইনিংসে চার উইকেট শিকার করেন। ৩৫৭ রানের জবাবে ১৫৫ রানে পিছিয়ে থাকায় বাংলাদেশকে ফলো-অন করতে হয়।
দ্বিতীয় ইনিংসে অবশ্য শুরুটা ছিল ইতিবাচক। উদ্বোধনী জুটিতে আশিকুর রহমান শিবলি ও শাহাদাত হোসেন যোগ করেন ৫৪ রান। তবে সেটি বড় হতে পারেনি। শাহাদাত ২২ রান করে আউট হওয়ার পর ইফতিখার হোসেন ইফতি শূন্য রানে ফিরে যান। বৃষ্টি বিরতির পর প্রিতম কুমারও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। এরপর আফিফ হোসেনও দ্রুত বিদায় নিলে আবারও চাপে পড়ে বাংলাদেশ।
সেখান থেকেই দলের হাল ধরেন শিবলি ও জাকের আলি। চতুর্থ উইকেটে দুজন ৬৪ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে ইনিংসকে স্থিতি এনে দেন। প্রথম ইনিংসে থিতু হয়েও বড় ইনিংস খেলতে না পারা শিবলি এবার ১০৬ বলে ফিফটি তুলে নেন। মাসেকেসার এক ওভারে দুটি পুল শটে ছক্কা মেরে অর্ধশতক স্পর্শ করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ৬২ রান করে একই বোলারের এলবিডব্লিউর শিকার হন।
শিবলির বিদায়ের পরও জাকের আলি দায়িত্বশীল ব্যাটিং চালিয়ে যান। প্রথম ইনিংসে ৬১ রান করা এই ব্যাটার দ্বিতীয় ইনিংসেও অপরাজিত ৫৬ রান করেন। তার সঙ্গে আশরাফুল হাসান রোহান অপরাজিত থেকে দিনের বাকি সময় পার করে দিলে ড্র নিশ্চিত হয়।
জিম্বাবুয়ে ‘এ’ দলের হয়ে পুরো ম্যাচে সবচেয়ে সফল ছিলেন লেগ স্পিনার ভিনসেন্ট মাসেকেসা। প্রথম ইনিংসে চার ও দ্বিতীয় ইনিংসে আরও চার উইকেট নিয়ে ম্যাচে মোট আট উইকেট শিকার করেন। এর সঙ্গে আগের ইনিংসের পারফরম্যান্স মিলিয়ে ম্যাচজুড়ে তার বোলিং ছিল সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয়। তবে শেষ পর্যন্ত শিবলি ও জাকেরের দৃঢ়তায় জয় অধরাই থেকে যায় সফরকারীদের।









Discussion about this post