বিশ্বজুড়ে ফুটবল বিশ্বকাপের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়লেও বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের নজর এখন ক্রিকেটে। দীর্ঘ চার বছর পর পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলতে জিম্বাবুয়ে সফরে গেছে বাংলাদেশ দল। টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে সাত ম্যাচের এই সিরিজ শুধু নতুন মৌসুমের চ্যালেঞ্জই নয়, বরং আগের সফরের হতাশা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোরও বড় সুযোগ টাইগারদের সামনে।
সফরের শুরু হবে লাল বলের ক্রিকেট দিয়ে। আগামী ২৮ জুন হারারে স্পোর্টস ক্লাবে একমাত্র টেস্টে মুখোমুখি হবে দুই দল। বাংলাদেশ সময় দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে শুরু হবে ম্যাচটি। টেস্টের পর একই ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ। ৬, ৯ ও ১১ জুলাই তিনটি ম্যাচই শুরু হবে একই সময়ে, দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে।
সাদা বলের শেষ অধ্যায় হবে বুলাওয়েতে। সেখানে ১৫, ১৭ ও ১৯ জুলাই তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে লড়বে বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ে। প্রতিটি ম্যাচ শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে। ফলে প্রায় তিন সপ্তাহজুড়ে চলবে দুই দলের এই পূর্ণাঙ্গ দ্বৈরথ।
এই সফর বাংলাদেশের জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে সাম্প্রতিক ইতিহাসের কারণেও। ২০২৫ সালে দুই দল সর্বশেষ টেস্ট সিরিজ খেলেছিল। সেই সিরিজের প্রথম টেস্টে জিম্বাবুয়ের কাছে হেরে চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ। যদিও দ্বিতীয় টেস্ট জিতে সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ করেছিল শান্তর দল। তবে ঘরের মাঠে সিরিজ জয়ের সুযোগ হাতছাড়া করার আক্ষেপ এখনও রয়ে গেছে বাংলাদেশের ক্রিকেটে। এবার প্রতিপক্ষের মাঠে সেই হতাশার জবাব দিতে মুখিয়ে থাকবে টাইগাররা।
জিম্বাবুয়ের মাটিতে বাংলাদেশের অতীত পরিসংখ্যানও খুব একটা স্বস্তিদায়ক নয়। ২০২২ সালের সর্বশেষ সফরে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি—দুই সিরিজেই ২-১ ব্যবধানে পরাজিত হয়ে দেশে ফিরতে হয়েছিল বাংলাদেশকে। শুধু তাই নয়, গত ২৫ বছরে জিম্বাবুয়ের মাটিতে অনুষ্ঠিত নয়টি ওয়ানডে সিরিজের মধ্যে বাংলাদেশ জিতেছে মাত্র তিনটিতে। বাকি ছয়বারই সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছে স্বাগতিকরা। অর্থাৎ ইতিহাস বলছে, জিম্বাবুয়ের কন্ডিশনে ভালো ফল পেতে হলে বাংলাদেশকে নিজেদের সেরাটা খেলতেই হবে।
অন্যদিকে, জিম্বাবুয়ের জন্যও এই সিরিজের গুরুত্ব কম নয়। ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর এটিই তাদের প্রথম আন্তর্জাতিক সিরিজ। ঘরের মাঠে ফিরে নতুন করে আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার লক্ষ্য থাকবে স্বাগতিকদেরও।
সব মিলিয়ে, বিশ্বকাপ ফুটবলের উন্মাদনার মাঝেও ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য অপেক্ষা করছে টানটান উত্তেজনার একটি পূর্ণাঙ্গ সিরিজ। অতীতের ব্যর্থতা পেছনে ফেলে নতুন অধ্যায় রচনা করতে চায় বাংলাদেশ। আর সেই মিশনের প্রথম পরীক্ষা শুরু হচ্ছে হারারের লাল মাটিতে, একমাত্র টেস্ট দিয়েই।









Discussion about this post