দেশের তৃণমূল পর্যায়ের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করতে আগামী ১ জুলাই থেকে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর দ্বিতীয় মৌসুমের নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক জানিয়েছেন, আগামী সেপ্টেম্বর থেকে দেশের ইউনিয়ন পর্যায়ে এই প্রতিযোগিতার মূল পর্ব শুরু হবে।
শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুইমিং পুলে আয়োজিত আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় সাঁতার ও ওয়াটার পোলো প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব তথ্য জানান। এ সময় তিনি বলেন, প্রযুক্তির অতিরিক্ত ব্যবহার ও মাদকের ভয়াল থাবা থেকে তরুণ প্রজন্মকে দূরে রেখে মাঠমুখী করতে সরকার জাতীয় শিক্ষাক্রমে খেলাধুলাকে বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নিয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমান সময়ে অতিরিক্ত ডিভাইস ব্যবহারের কারণে শিশুরা ঘরবন্দি হয়ে পড়ছে। তাদের মাঠে ফিরিয়ে আনতে এবং সুস্থ জাতি গড়ে তুলতে সরকার ইতিবাচক ও কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে। নতুন ব্যবস্থায় চতুর্থ শ্রেণি থেকে শুরু করে প্রতিটি শিক্ষার্থীকে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে খেলাধুলায় অংশ নিতে হবে এবং নির্ধারিত শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে।
তিনি বলেন, আগামী জুলাইয়ের মাঝামাঝি প্রথম পর্যায়ের ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর জাতীয় পর্বের খেলা শেষ হবে। এরপর সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া দ্বিতীয় মৌসুমে দেশের সাড়ে চার হাজারের বেশি ইউনিয়নে প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হবে। ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের নিয়ে ইউনিয়ন পর্যায়ে ফুটবল, ক্রিকেট, সাঁতার, ব্যাডমিন্টন, দাবা ও মার্শাল আর্টে হাজার হাজার দল গঠন করা হবে। এর মাধ্যমে দেশের পারিবারিক ও সামাজিক কাঠামোতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
খেলোয়াড়দের পেশাদারিত্ব ও ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় সরকারের উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, আগামী জুলাইয়ের পর আরও ২০০ খেলোয়াড়কে পেশাদারিত্বের আওতায় আনা হবে। এর ফলে মোট প্রায় ৫০০ জন খেলোয়াড় নিয়মিত ক্রীড়া ভাতা ও ক্রীড়াকার্ড সুবিধা পাবেন। এতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলাকেও স্থায়ী পেশা হিসেবে বেছে নেওয়ার সুযোগ পাবে।
উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করে মো. আমিনুল হক বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে শক্তিশালী যোগাযোগ গড়ে তোলা হবে। নিয়মিত যৌথ ক্রীড়া আয়োজনের লক্ষ্যে শিগগিরই মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠানো হবে বলেও জানান তিনি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় সাঁতার ও ওয়াটার পোলো প্রতিযোগিতায় দেশের ছয়টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ১৪টি ইভেন্টে অংশ নেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম এবং অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান।



