বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) দুর্নীতি নিয়ে নতুন করে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন বোর্ডের পরিচালক ও সিসিডিএম কমিটির চেয়ারম্যান আদনান রহমান দিপন। একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক ছয় মাসে বিসিবিতে যে পরিমাণ দুর্নীতি হয়েছে, তা আগের ১৫ বছরের চেয়েও বেশি।
দিপনের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন বিসিবির নেতৃত্বে এসেছে বড় ধরনের পরিবর্তন। ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর বিসিবির দায়িত্ব নেন ফারুক আহমেদ। তবে টানা সমালোচনার মধ্যে নয় মাসের মাথায় তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর অন্তর্বর্তীকালীনভাবে বিসিবির সভাপতি হন আমিনুল ইসলাম বুলবুল, যিনি পরবর্তীতে নির্বাচনের মাধ্যমে আবারও সভাপতি নির্বাচিত হন।
এই সময়ের ঘটনাপ্রবাহকে ইঙ্গিত করেই দিপন বলেন, ‘একজন বোর্ড পরিচালক হিসেবে শতভাগ নিশ্চিত করে বলছি, পাপনের ১৫ বছরের সমান দুর্নীতি হয়েছে সবশেষ ছয় মাসে। অনেকের ধারণার বাইরে ছিলো। বোর্ডে না ঢুকলে বিশ্বাস হতো না এরা এত দুর্নীতি করে।’
দিপনের এই বক্তব্যে স্বাভাবিকভাবেই প্রতিক্রিয়া এসেছে বিসিবির বর্তমান সভাপতির কাছ থেকে। গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপ করে আমিনুল ইসলাম বুলবুল স্পষ্টভাবে জানান, এই অভিযোগ তার কাছে গ্রহণযোগ্য নয় এবং এটি দিপনের ব্যক্তিগত মতামত মাত্র। পাশাপাশি তিনি বলেন, দুর্নীতি সংক্রান্ত কোনো অডিট এখনো সম্পন্ন হয়নি।
বুলবুল বলেন, ‘এটা তো তার সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত মত। আমি এটাকে ডিফেন্ড করছি যে এটা তার ব্যক্তিগত মতামত এবং এই ধরনের কোনো অডিট বা এই ধরনের কোনো কাজ আমরা করছি না।’
বিসিবির অতীত কার্যক্রম নিয়েও কথা বলেন বুলবুল। তার মতে, গত ১৫ বছর ধরে বোর্ড একটি নির্দিষ্ট সিস্টেমে চলেছে, যেখানে নানা প্রশ্নবিদ্ধ ঘটনা ঘটেছে। তিনি ঘরোয়া লিগে এক ওভারে ৯০ রান দেওয়ার ঘটনাকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন। একই সঙ্গে পূর্বাচলে নির্মাণাধীন স্টেডিয়ামের জন্য কেনা পিচের মাটি চুরি হওয়ার অভিযোগ নিয়েও মন্তব্য করেন এবং জানান, এসব বিষয় বর্তমানে তদন্তাধীন।
এ প্রসঙ্গে বুলবুল বলেন, ‘একটা সিস্টেমে চলছিল গত ১৫ বছর। যেখানে এক ওভারে ৯০ রানও দেয়া হয়েছিল। এখানে বেশ কিছু পিচের মাটি কেনার পরেও মাটির কোনো হদিস নেই। তো সব অডিট এখন চলছে বাট ওই যে কথাটা (অভিযোগ) ওটা আমি মেনে নিচ্ছি না এবং তার এটা ব্যক্তিগত মত।’










Discussion about this post