বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে আবারও আলো ছড়াতে প্রস্তুত নেপালের তারকা লেগ স্পিনার সন্দ্বীপ লামিচানে। রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের হয়ে খেলতে বর্তমানে বাংলাদেশে অবস্থান করছেন তিনি। বিশ্বের নানা প্রান্তের ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে নিয়মিত খেললেও বিপিএলের সঙ্গে লামিচানের সম্পর্ক নতুন নয়। এর আগে এক মৌসুম সিলেট রয়্যালসের হয়ে খেলেছিলেন তিনি। প্রায় সাত বছর পর বাংলাদেশে ফিরে এই টুর্নামেন্টকে ঘিরে দারুণ আশাবাদী নেপালের এই ক্রিকেটার।
সিলেটে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে লামিচানে বাংলাদেশের ক্রিকেট পরিবেশের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ‘এখানের ক্রিকেটের অবকাঠামো বেশ ভালো। সমর্থকরা সবসময়ই দারুণ। প্রায় ৭ বছর পর আসলাম। ২০১৯ সালে সর্বশেষ এসেছিলাম। ভালো একটি টুর্নামেন্টের অপেক্ষায় আছি।’
দল হিসেবে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের সামর্থ্য নিয়ে লামিচানের বিশ্বাস দৃঢ়। ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সমন্বয় দলটিকে শক্ত ভিত দিয়েছে বলে মনে করেন তিনি। নিজের দল সম্পর্কে লামিচানে বলেন, ‘হ্যাঁ আমাদের দলের অনেক সামর্থ্য রয়েছে। অনেকেই ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে খেলে থাকে। রাজশাহী ওয়ারিয়র্স দলটা দারুণ। আমরা একে অপরের সাথে আগেও খেলেছি। সিলেটের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের জন্য আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি। দলের ভেতরের পরিবেশ অসাধারণ।’
বিপিএলের শিরোপা জয়ের সক্ষমতা রাজশাহীর আছে কি না, এমন প্রশ্নে আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে উত্তর দেন লামিচানে। তিনি বলেন, ‘অবশ্যই। আমাদের সব জায়গা কাভার করা আছে। টপ অর্ডার থেকে শুরু করে বটম, দারুণ প্রতিভা, পেস ইউনিট, স্পিনার সবকিছুই দারুণ। নাজমুল হোসেন শান্ত দলকে নেতৃত্ব দিবে। মুশফিকুর রহিম অনেক অভিজ্ঞ। বিদেশিরাও অনেক অভিজ্ঞ। দারুণ ভারসাম্যপূর্ণ দল। সবাই মুখিয়ে আছে নিজেদের সেরাটা দিতে শিরোপা জেতার জন্য।’
নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স দলে আছেন অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম। সরাসরি সাইনিংয়ে দলে যোগ দিয়েছেন ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। পাশাপাশি বেশ কয়েকজন তরুণ ক্রিকেটার নিয়মিত পারফর্ম করে দলকে শক্তিশালী করেছে। এই সমন্বয় রাজশাহীকে একটি ভারসাম্যপূর্ণ দল হিসেবে গড়ে তুলেছে।
দলের প্রধান কোচ হান্নান সরকারের সঙ্গে প্রথম যোগাযোগের স্মৃতিও তুলে ধরেন লামিচানে। তিনি বলেন, ‘নেপাল লিগের ফাইনাল দেখছিলাম। তিনি টেক্সট পাঠালেন রাজশাহীর হয়ে আমি খেলতে চাই কিনা। দারুণ বিনয়ী একজন মানুষ।’
অনুশীলনের ফাঁকে সিলেট টাইটান্সের পেসার মোহাম্মদ আমিরের সঙ্গে কথোপকথনের কথাও জানান লামিচানে। তিনি বলেন, ‘আগেও একসাথে খেলেছি আমরা। বেশ ভালো বন্ধু। তার অনেক অভিজ্ঞতা রয়েছে। বেশ ভালো আলাপ হয়েছে।’
বিপিএলের উদ্বোধনী ম্যাচে ঘরের মাঠে সিলেট টাইটান্সের বিপক্ষে মাঠে নামবে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। প্রথম ম্যাচেই জয়ের লক্ষ্য স্পষ্ট লামিচানের। তিনি বলেন, ‘আপনি এখানে এসেছেনই ম্যাচ জিতবে। এটা আমাদের সবার লক্ষ্য। দর্শকদের ভালো কিছু দিতে চাই, দলকে ২ পয়েন্ট এনে দিতে চাই।’
বিপিএলে নিজের অংশগ্রহণ নেপালি সমর্থকদের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ তৈরি করবে বলে মনে করেন লামিচানে। সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘সম্ভবত তারাই সেরা সমর্থক। প্রথম দিন থেকেই তারা সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। সব জায়গাতে তারা আমাদের সমর্থন করে যাচ্ছে। আপনাদের প্রতি আমরা অনেক কৃতজ্ঞ। আমাদের সমর্থন করে যান। আমরা চেষ্টা করছি ট্রফিটা আপনাদেরকে এনে দিতে।’ নেপালি ভাষায়ও একই বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনাদের ভালোবাসার জন্য অনেক কৃতজ্ঞ। আমরা ভালোভাবে অনুশীলন করছি এবং চেষ্টা করছি ট্রফিটা এনে দিতে।’
নেপালি দর্শকদের মাঠে এসে খেলা দেখাকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন লামিচানে। তার ভাষায়, ‘হ্যাঁ ভালো ব্যাপার। জানি অনেকে হয়ত ঢাকায় থাকবে, তবে সিলেটে কেউ খেলা দেখতে এলেও দারুণ হবে ব্যাপারটা।’
২৬ ডিসেম্বর বিপিএলের উদ্বোধনী ম্যাচে সিলেট টাইটান্সের বিপক্ষে মাঠে নামার মধ্য দিয়ে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের হয়ে নতুন চ্যালেঞ্জ শুরু হবে সন্দ্বীপ লামিচানের।










Discussion about this post