বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে প্রথমবার অংশ নিতে যাচ্ছে নোয়াখালী এক্সপ্রেস। নবাগত এই ফ্র্যাঞ্চাইজির হয়ে মাঠে নামার অপেক্ষায় জাতীয় দলের ব্যাটার মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি পরিষ্কার করে দিলেন, বিপিএলের মতো লম্বা প্রতিযোগিতায় শুরুতেই ফল বা শিরোপা নিয়ে না ভেবে ভালো ক্রিকেট খেলাটাই হওয়া উচিত প্রধান লক্ষ্য।
অঙ্কনের চোখে এবারের বিপিএলের দলগুলো বেশ ভারসাম্যপূর্ণ। প্রস্তুতির সুযোগ এবং পরিকল্পনায় এগিয়ে থাকার কারণে প্রতিযোগিতা হবে কঠিন। তিনি বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয় যে সব দল অনেক ভারসাম্যপূর্ণ। সবাই অনেক সময় পেয়েছে দল করার জন্য বা তারা ওই পরিকল্পনা করেই দল করছে। কে কেমনভাবে চাপ সামলাতে করতে পারে, কে কেমনভাবে ম্যাচ জিততে পারে বেশি, ওটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আর ফলাফল নিয়ে অতটা চিন্তা না, কারণ চ্যাম্পিয়নশিপ অনেক দূরে। কতটা ভালো ক্রিকেট খেলতে পারি সেটাই গুরুত্বপূর্ণ।’
প্রথমবারের মতো বিপিএলে নামলেও নোয়াখালী এক্সপ্রেসের ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ নিয়ে সন্তুষ্ট এই ক্রিকেটার। তার মতে, নতুন দল হয়েও সংগঠনে ঘাটতি নেই। অঙ্কন বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয় যে তারা (নোয়াখালী) প্রথমবার হিসেবে খুবই ভালো করছে। এপর্যন্ত দলের পরিবেশ হতে শুরু করে সবকিছুই অনেক গোছানো। আশা করি যে তারাও অনেক বছর চালিয়ে যেতে পারবে। নোয়াখালীর অনেক ভালো ভক্ত-সমর্থকও আছে। আশা করি তারা অনেক ভালো করবে বিপিএলে।’
নোয়াখালীর স্কোয়াডে থাকা অভিজ্ঞ আফগান অলরাউন্ডার মোহাম্মদ নবীর উপস্থিতিকে বড় শক্তি মনে করছেন অঙ্কন। নবীর অভিজ্ঞতা তরুণ ও নতুন দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে বলে বিশ্বাস তার। অঙ্কনের ভাষায়, ‘অনেক কাজে লাগবে (মোহাম্মদ নবীর অভিজ্ঞতা)। সে অনেক বছর ধরে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট খেলছে, বিপিএলও অনেক বছর খেলছে। আশা করছি যে আমরা ভালো ক্রিকেট খেলতে পারবো দল হিসেবে।’
শিরোপা জয়ের স্বপ্ন থাকলেও অঙ্কনের ভাবনায় আগে প্রতিটি ম্যাচে দল হিসেবে পারফর্ম করা। বড় নাম বা ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে দলগত পরিকল্পনা ও পারফরম্যান্সকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। অঙ্কন বলেন, ‘আসলে সবারই লক্ষ্য থাকে যে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার। কিন্তু আমার কাছে মনে হয় যে আমরা প্রথম থেকে দল হিসেবে কতটা গুছানো ক্রিকেট খেলতে পারছি, কতটা সবাই পারফরম্যান্স করতে পারছে-সেটাই গুরুত্বপূর্ণ বড় নাম নিয়ে চিন্তা করার চেয়ে। প্রত্যেকটা ম্যাচ ভালো খেলাটা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’
ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে ব্যাটিং পজিশন পরিস্থিতি অনুযায়ী বদলে যেতে পারে, এ বিষয়টি স্বাভাবিক বলেই দেখছেন অঙ্কন। দলের প্রয়োজনে যেকোনো জায়গায় খেলতে মানসিকভাবে প্রস্তুত তিনি। তার কথায়, ‘আমরা যাঁরা মিডল অর্ডার, লোয়ার অর্ডারে খেলি যে কারোর পজিশন চেঞ্জ হতে পারে। তার কারণে আমরা আগে থেকেই যদি সেট করে রাখি যে আমি এই পজিশনে খেলব সেটা হবে না। আমাদের কথা হচ্ছে যে আমরা কোন পজিশনে কখন কে কোথায় আসলে নামবে, কে কোথায় কার কি প্ল্যান ওই অনুযায়ী খেলবে।’
নোয়াখালী এক্সপ্রেসের স্কোয়াডে রয়েছেন হাসান মাহমুদ, সৌম্য সরকার, জাকের আলী, হাবিবুর রহমান সোহানদের মতো দেশি ক্রিকেটাররা। বিদেশি কোটায় জনসন চার্লস, কুশল মেন্ডিস, মোহাম্মদ নবী ও হায়দার আলীর উপস্থিতি দলকে দিয়েছে বাড়তি গভীরতা। এই স্কোয়াড নিয়ে আশাবাদী অঙ্কন, পাশাপাশি জাতীয় দলে ফেরার লক্ষ্যও চোখের আড়াল করছেন না।
অঙ্কনের কণ্ঠে সেই প্রত্যাশা স্পষ্ট, ‘প্রত্যেকটা খেলোয়াড়ই ভালো ক্রিকেট খেলে জাতীয় দলে জায়গা পেতে চায়। আমারও তেমন লক্ষ্য আছে। আমি দলের হয়ে যেখানে যে পজিশনে সুযোগ পাই যেন অবদান রাখতে পারি। আমার কাছে মনে হয় যে আমি যদি ভালো ক্রিকেট খেলতে পারি অবশ্যই ইনশাআল্লাহ ভালো সুযোগ আসবে।’










Discussion about this post