বাংলাদেশের ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে আবারও আলোচনার ঝড় উঠেছে। সেই বিতর্কে এবার নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন সাকিব আল হাসান। দেশের ক্রিকেটের জন্য এটিকে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখছেন তিনি। একই সঙ্গে এই সিদ্ধান্তের দায়ও সরকারের কাঁধে চাপিয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক।
মুম্বাইয়ে ইইউ টি-টোয়েন্টি বেলজিয়াম কাপ টুর্নামেন্টের জার্সি উন্মোচন অনুষ্ঠানে সাকিব বলেন, ‘আমি মনে করি এটা বাংলাদেশ ক্রিকেটের অনেক বড় ক্ষতি। বড় সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে। আমরা ক্রিকেটপাগল দেশ। আমাদের দেশ বিশ্বকাপে খেলছে না-এটা বড় একটি মিস। আমার মতে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত সরকারের অনেক বড় ভুল ছিল।’
বাংলাদেশের বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্তের পেছনে ছিল নানা টানাপোড়েন। মুস্তাফিজুর রহমানকে কলকাতা নাইট রাইডার্স ছেড়ে দেওয়ার পর বিষয়টি নতুন মোড় নেয়। ভারত থেকে ম্যাচ সরিয়ে শ্রীলঙ্কায় নেওয়ার জন্য বিসিবি চেষ্টা চালালেও শেষ পর্যন্ত আইসিসি তাতে সাড়া দেয়নি। সে সময় নিরাপত্তা পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে সরকার পক্ষ থেকেও ভারত সফর নিয়ে আপত্তি জানানো হয়েছিল।
বিশ্বকাপ প্রসঙ্গে হতাশা প্রকাশের পাশাপাশি নিজের আন্তর্জাতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও কথা বলেছেন সাকিব। ২০২৪ সালের অক্টোবরে ভারতের বিপক্ষে কানপুর টেস্টের পর আর বাংলাদেশের হয়ে মাঠে নামেননি তিনি। এরপর মিরপুরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বিদায়ী টেস্ট খেলার পরিকল্পনাও পূরণ হয়নি।
আবার কবে জাতীয় দলে ফিরবেন কিংবা বিদায়ী টেস্ট খেলার সুযোগ মিলবে কি না-এ প্রশ্নে সাকিব বলেন, ‘সেটা (বিদায়ী টেস্ট) পরে দেখা যাবে। তবে আশা করছি যে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সব ঠিক হয়ে যাবে। সময় সবকিছুই স্বাভাবিক করে। যা চাই তা-ই পাব আশা করি।’
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে সাম্প্রতিক পরিবর্তন নিয়েও ইতিবাচক সুর ছিল তার কণ্ঠে। নতুন অ্যাডহক কমিটির নেতৃত্বে আছেন তামিম ইকবাল। দীর্ঘদিনের সতীর্থকে সামনে রেখে সাকিব বলেন, ‘আশা করি নির্বাচন হবে এবং সে যদি সভাপতি হয়, তখন তার একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা থাকবে। অবশ্যই বাংলাদেশ ক্রিকেট উপকৃত হবে।’
দেশের ক্রিকেটের বর্তমান অবস্থা নিয়েও সন্তুষ্ট সাকিব। তার মতে, দল এখন আর একজন-দুজনের ওপর নির্ভরশীল নয়; বরং সম্মিলিত পারফরম্যান্সেই এগোচ্ছে বাংলাদেশ। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সাম্প্রতিক সাফল্যকে তিনি সেই পরিবর্তনের উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।










Discussion about this post