সিলেট টেস্টের চতুর্থ দিনে আজ ম্যাচের চিত্র এখন অনেকটাই পরিষ্কার। পাকিস্তান লড়াই চালিয়ে গেলেও বাস্তবতা বলছে, জয়ের পথ এখন বাংলাদেশের জন্যই বেশি উন্মুক্ত। চা বিরতি পর্যন্ত পাকিস্তানের সংগ্রহ ৫ উইকেটে ২০০ রান। জয়ের জন্য এখনও প্রয়োজন ২৩৭ রান, অথচ হাতে আছে মাত্র পাঁচ উইকেট। যে লক্ষ্য তাড়া করতে নেমেছে পাকিস্তান, সেটি ছুঁতে পারলে গড়তে হবে টেস্ট ক্রিকেটের নতুন বিশ্বরেকর্ড।
দিনের শুরুতে অবশ্য সেই অসম্ভবকেও সম্ভব করার ইঙ্গিত দিয়েছিল পাকিস্তান। দুই ওপেনার ইতিবাচক মানসিকতায় ব্যাটিং শুরু করেন। যদিও দ্রুতই নাহিদ রানার বলে ফিরে যান আব্দুল্লাহ ফজল। এরপর আজান আওয়াইসও বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। কিন্তু ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ তখনও পুরোপুরি বাংলাদেশের হাতে যায়নি।
বরং শান মাসুদ ও বাবর আজমের ব্যাটিংয়ে কিছু সময়ের জন্য চাপেই পড়ে যায় বাংলাদেশ। দুজনই আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলতে থাকেন। বিশেষ করে বাবর শুরু থেকেই রান তোলার গতি বাড়িয়ে দেন। শানও ছিলেন আত্মবিশ্বাসী। তৃতীয় উইকেটে ৯২ রানের জুটি গড়ে পাকিস্তানকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনেন এই দুই ব্যাটার। বাংলাদেশের বোলারদের বিপক্ষে তাদের শট নির্বাচন ও রান তোলার গতি দেখে মনে হচ্ছিল, পাকিস্তান হয়তো ইতিহাস গড়ার স্বপ্নকে আরও বড় করে তুলছে।
কিন্তু টেস্ট ক্রিকেটে এক মুহূর্তেই বদলে যেতে পারে ম্যাচের গল্প। সেই কাজটাই করেছেন তাইজুল ইসলাম। দীর্ঘ সময় আক্রমণে না এলেও বল হাতে পেয়েই ম্যাচ ঘুরিয়ে দেন তিনি। প্রথমে ফিরিয়ে দেন বাবর আজমকে। ৫২ বলে ৪৭ রান করা বাবরের বিদায় পাকিস্তানের রান তোলার ছন্দে বড় ধাক্কা দেয়। এরপর আরও বড় আঘাত আসে শান মাসুদের উইকেটে। পাকিস্তান অধিনায়ক ১১৬ বলে ৭১ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেললেও দলকে নিরাপদ জায়গায় নিতে পারেননি।
দুই সেট ব্যাটার ফিরে যাওয়ার পর পাকিস্তানের ইনিংসে আবারও অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। সেই চাপ আরও বাড়ান নাহিদ রানা। নিজের গতি ও আগ্রাসী বোলিংয়ে সৌদ শাকিলকে মাত্র ৬ রানে ফিরিয়ে দেন তিনি। ফলে দ্বিতীয় সেশনের শেষ দিকে পাকিস্তান আবার ব্যাকফুটে চলে যায়।
এখন পাকিস্তানের ভরসা সালমান আলী আঘা ও মোহাম্মদ রিজওয়ান। দুজনই চা বিরতির সময় উইকেটে ছিলেন। তবে তাদের সামনে শুধু রান তোলার চ্যালেঞ্জ নয়, বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণ সামলে শেষ পর্যন্ত টিকে থাকার পরীক্ষাও রয়েছে।
এই ম্যাচে বাংলাদেশের শক্তি হয়ে উঠেছে দলীয় পারফরম্যান্স। প্রথম ইনিংসে লিটন দাসের সেঞ্চুরিতে ২৭৮ রান তোলে স্বাগতিকরা। এরপর পাকিস্তানকে ২৩২ রানে আটকে দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ লিড নেয় তারা। দ্বিতীয় ইনিংসে মুশফিকুর রহিমের ১৩৭ রানের দুর্দান্ত ইনিংস ম্যাচের ভিত্তিটাই বদলে দেয়। লিটন দাস ও মাহমুদুল হাসান জয়ের কার্যকর ইনিংস পাকিস্তানের সামনে পাহাড়সম লক্ষ্য দাঁড় করায়।









Discussion about this post