সিলেট টেস্টে এখন পুরো নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশের হাতে। প্রথম ইনিংসে ব্যাটিং বিপর্যয়ের পরও লিটন দাসের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি এবং বোলারদের নিয়ন্ত্রিত পারফরম্যান্সে এগিয়ে গিয়েছিল স্বাগতিকরা। সেই লিডকে পুঁজি করে দ্বিতীয় ইনিংসে আরও পরিণত ও আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিং করেছে বাংলাদেশ। আজ অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিমের অনবদ্য সেঞ্চুরিতে বড় সংগ্রহ গড়ে পাকিস্তানের সামনে ৪৩৭ রানের কঠিন লক্ষ্য ছুড়ে দিয়েছে টাইগাররা।
তৃতীয় দিনের শুরুতেই আজ সোমবার বাংলাদেশের লক্ষ্য ছিল লিডকে যতটা সম্ভব বড় করা। আগের দিন ১৩ রানে অপরাজিত থাকা নাজমুল হোসেন শান্তকে সঙ্গে নিয়ে ব্যাট করতে নামেন মুশফিকুর রহিম। তবে খুব দ্রুতই অধিনায়ককে হারায় বাংলাদেশ। খুররম শাহজাদের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ১৫ রান করে ফিরে যান শান্ত। রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারেননি তিনি। এরপর ক্রিজে এসে লিটন দাস আবারও দলের ভরসার প্রতীক হয়ে ওঠেন।
প্রথম ইনিংসে একার লড়াইয়ে ১২৬ রান করে বাংলাদেশকে বড় বিপর্যয় থেকে উদ্ধার করেছিলেন লিটন। দ্বিতীয় ইনিংসেও সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখেন তিনি। মুশফিককে নিয়ে গড়েন গুরুত্বপূর্ণ জুটি। ধীরে ধীরে পাকিস্তানের নাগালের বাইরে চলে যেতে থাকে ম্যাচ। ৪১তম ওভারে লিটনের এক রানের মাধ্যমে বাংলাদেশের লিড পৌঁছে যায় ২০০ রানে। লাঞ্চ বিরতির আগে দুজনের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে বাংলাদেশের লিড দাঁড়ায় ২৪৯ রানে।
লাঞ্চের পর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন লিটন। ক্যারিয়ারের ২০তম টেস্ট ফিফটি তুলে নেন তিনি। একই সঙ্গে এক ম্যাচের দুই ইনিংস মিলিয়ে নিজের সর্বোচ্চ রান করার কীর্তিও গড়েন। আগের রেকর্ড ছিল ২০২২ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে মিরপুর টেস্টে ১৯৩ রান। এবার সেই রেকর্ড ছাড়িয়ে যান তিনি। শেষ পর্যন্ত ৬৯ রান করে থামলেও দলের বড় সংগ্রহ গড়ার ভিত তৈরি করে দেন এই উইকেটরক্ষক ব্যাটার।
তবে পুরো ইনিংসের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন মুশফিকুর রহিম। বয়স বাড়লেও টেস্ট ক্রিকেটে তার ক্ষুধা যে এতটুকুও কমেনি, সেটি আবারও প্রমাণ করেছেন তিনি। ধৈর্য, অভিজ্ঞতা এবং নিখুঁত শট নির্বাচনের মিশেলে গড়েছেন অসাধারণ এক ইনিংস। ১৭৮ বলে শতক পূর্ণ করেন মুশফিক। তার ইনিংসে ছিল ৯টি চার ও একটি ছক্কা। এটি ছিল টেস্ট ক্যারিয়ারে তার ১৪তম সেঞ্চুরি, যা বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের মধ্যে সর্বোচ্চ।
শুধু সেঞ্চুরিই নয়, এই ইনিংস খেলতে গিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের তিন সংস্করণ মিলিয়ে ১৬ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন মুশফিক। বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে এই কীর্তি আর কারও নেই। শততম টেস্ট খেলা প্রথম বাংলাদেশি ক্রিকেটার হওয়ার পর এবার আরেকটি গৌরবময় অধ্যায় যোগ করলেন নিজের ক্যারিয়ারে।
মুশফিক শেষ পর্যন্ত ২৩৩ বলে ১৩৭ রান করে আউট হন। পাকিস্তানি বোলাররা দীর্ঘ সময় চেষ্টা করেও তাকে থামাতে পারেনি। শেষদিকে তাইজুল ইসলাম ২২ রান করে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। এছাড়া তাসকিন আহমেদ ও শরিফুল ইসলামও কিছু কার্যকর রান যোগ করেন। সব মিলিয়ে ১০২.২ ওভারে ৩৯০ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসের ৪৬ রানের লিড যোগ হয়ে পাকিস্তানের সামনে দাঁড়ায় ৪৩৭ রানের বিশাল লক্ষ্য।
এই লক্ষ্য এখন পাকিস্তানের জন্য ইতিহাস গড়ার সমান চ্যালেঞ্জ। টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড ৪১৮ রান, যা ওয়েস্ট ইন্ডিজের দখলে। পাকিস্তান যদি সিলেটে জিতে যায়, তবে বিশ্বরেকর্ড গড়ার পাশাপাশি নিজেদের টেস্ট ইতিহাসেও সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের নতুন অধ্যায় লিখবে। এর আগে ২০১৫ সালে গলে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৩৭৭ রান তাড়া করে জিতেছিল তারা।
দিনের শেষে অবশ্য পাকিস্তানের শুরুটা স্বস্তিদায়ক ছিল না। মাত্র দুই ওভার ব্যাট করার সুযোগ পেয়েছে তারা। আলো স্বল্পতার কারণে নির্ধারিত সময়ের আগেই দিনের খেলা শেষ ঘোষণা করেন আম্পায়াররা। পাকিস্তানের দুই ওপেনার কোনো রান তুলতে পারেননি। তাসকিন আহমেদ ও শরিফুল ইসলাম টানা মেডেন ওভার করে চাপ তৈরি করেন।









Discussion about this post