২০২৬ বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের ফাইনালের রাতটি রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের জন্য উল্লাসের হলেও চট্টগ্রাম রয়্যালস শিবিরে ছিল মিশ্র অনুভূতি। শিরোপা হাতছাড়া হলেও টুর্নামেন্টজুড়ে ধারাবাহিক ও বিধ্বংসী বোলিং করে আসরের সেরা খেলোয়াড় হয়েছেন শরীফুল ইসলাম। ফাইনাল শেষে সংবাদ সম্মেলনে নিজের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি ভারতের মাটিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার বিসিবির সিদ্ধান্ত নিয়েও স্পষ্ট অবস্থান জানান এই পেসার।
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই প্রাপ্তি ও অপূর্ণতার সমীকরণ টানেন শরীফুল। ব্যক্তিগত স্বীকৃতির আনন্দ থাকলেও দল চ্যাম্পিয়ন না হওয়ায় তার কণ্ঠে ছিল আক্ষেপ। তিনি বলেন,
‘ভালো লাগছে, কিন্তু আমরা যদি চ্যাম্পিয়ন হতাম, অনেক বেশি ভালো লাগত। প্রতিটি খেলোয়াড়ই চায় যে চ্যাম্পিয়নশিপটা তাদের হাতে উঠুক।’
নিরাপত্তা শঙ্কায় ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে বিসিবির পাশে থাকার কথা জানান শরীফুল। তার মতে, এই সিদ্ধান্ত খেলোয়াড়দের নয়, বোর্ডের। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের অভিভাবক হলো বিসিবি। উনারা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আমরা সাধুবাদ জানাই। এখন তো জানি না কী হবে না হবে। এটা নিয়ে আর কোনো কিছু না বলাই ভালো।’
বিশ্বকাপ নিয়ে আলোচনার বাইরে থেকে নিজের ও দলের পারফরম্যান্সে মনোযোগ দেওয়ার কথাও তুলে ধরেন এই পেসার, ‘বিশ্বকাপে যেতে পারছি না বা যাচ্ছি না বা যাওয়া হচ্ছে না, এটা তো পুরোপুরি বিসিবির সিদ্ধান্ত। আমরা সব সময় চিন্তা করি কীভাবে ভালো করব। সবার জায়গা থেকে সেরাটা যাতে খেলতে পারে। আমিও চেষ্টা করেছি, তামিমও (তানজিদ হাসান তামিম) চেষ্টা করেছে। বিশ্বকাপে যাওয়া না যাওয়া তো আমাদের হাতে নেই।’
এই বিপিএলে শরীফুলের পারফরম্যান্স ছিল ইতিহাস গড়া। ১২ ইনিংসে মাত্র ৫.৮৪ ইকোনমি রেটে ২৬ উইকেট নিয়ে তিনি ভেঙেছেন বিপিএলের এক আসরে সর্বোচ্চ উইকেটের রেকর্ড। নোয়াখালীর বিপক্ষে ৯ রান দিয়ে ৫ উইকেট নেওয়ার স্পেলটিই তাঁর কাছে এই আসরের সবচেয়ে বিশেষ মুহূর্ত। সেই ম্যাচ নিয়ে তিনি বলেন,‘আমার মনে হয় টি-টোয়েন্টিতে পাঁচ উইকেট পাওয়াটা অনেক কঠিন বিষয়। তাই ওই দিনের বোলিং ফিগারটা আমি এগিয়ে রাখব।’
টুর্নামেন্ট শুরুর ঠিক আগে মালিকানা সংকটে পড়া চট্টগ্রাম রয়্যালসকে ফাইনাল পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার পেছনে বিসিবির ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন শরীফুল। আর্থিক দুশ্চিন্তামুক্ত পরিবেশে খেলতে পারার জন্য বোর্ডের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বিশেষ করে ধন্যবাদ দেব বিসিবিকে। উনারা যখন দলটার দায়িত্ব নিয়েছে, তখন আমাদের খেলোয়াড়রা যেটা সবসময় বিপিএলে অনেক দলের ক্ষেত্রে হয় যে একটা চিন্তা থাকে পেমেন্ট ইস্যুতে… যখন বিসিবি হাতে নিয়েছে তখন আমরা সবাই খুবই নির্ভার ছিলাম এবং আমরা নিজের দলের মতো করে খেলেছি। মনে করেছি যে, আমাদের নিজের গড়া দল। আমরা ওই ভাবেই প্রতিটা অনুশীলন সেশন বলেন, ম্যাচ বলেন সবসময় এরকম।’
এবারের বিপিএলে এই প্রথম কোনো বিশেষজ্ঞ বোলার ‘প্লেয়ার অব দ্য টুর্নামেন্ট’ হয়েছেন। নিজের এই স্বীকৃতিকে কেবল ব্যক্তিগত নয়, বোলারদের জন্যও ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখছেন শরীফুল। ভবিষ্যৎ নিয়ে তার আশাবাদী কণ্ঠ, ‘ভালো লাগছে, এবার হয়তো আমিই হয়েছি বোলার হিসেবে ম্যান অব দা টুর্নামেন্ট। পরের বছরও হয়তো বা আরেকজন হবে। এখন দেখা যাচ্ছে যে বিপিএলে আমি সবশেষ কয়েকবার দেখেছি যে বোলাররা ভালো লড়াই করছে, গত বছর যেমন তাসকিন ভাই । সামনে আরও বোলাররা ভালো আধিপত্য দেখাবে আশা করি।’










Discussion about this post