বিপিএলের দ্বাদশ আসরের নিলাম শুরুর আগেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন উইকেটরক্ষক ব্যাটার এনামুল হক বিজয়। দেশীয় ক্রিকেটারদের চূড়ান্ত তালিকা থেকে তার নাম বাদ পড়ার খবরে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তিনি।
অভিযোগ রয়েছে, ‘রেড ফ্ল্যাগ’ তালিকায় নাম থাকায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কিন্তু এ বিষয়ে বিসিবির কোনো ব্যাখ্যা না পেয়ে শেষ পর্যন্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভে এসে নিজের ক্ষোভ উগরে দেন ৩২ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার।
লাইভে এসে বিসিবি ও বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সঙ্গে যোগাযোগের ব্যর্থচেষ্টার কথা তুলে ধরে বিজয় বলেন, ‘আমি এই লাইভটা করতাম না, যদি বিসিবিকে ফোনে পেতাম। আমি মেইলের মাধ্যমেও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছি। যদি তারা রেসপন্স করতো তাহলে হয়তো এই লাইভটা করতে হতো না। কিন্তু এখন আর উপায় নেই। আমার প্রথম প্রশ্ন হচ্ছে, নিউজের পর আমি ড্রাফট (নিলাম) থেকে বাদ পড়লাম, এর কারণটা কী? আমি কি দোষী? দোষী হয়ে থাকলে প্রমাণ চাই।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘সারা বাংলাদেশের মানুষের পক্ষ হয়ে বিসিবি, বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের কাছে বলতে চাই… আমি যদি দোষী হয়ে থাকি, আমাকে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করে দেন। আমি তো অনেকের পছন্দের খেলোয়াড় না, অনেকের কাছে ভালো সতীর্থও না। হয়তো অনেকের কাছে ভালো খেলোয়াড়ও না। তাহলে ঠিক আছে আমার আর খেলা লাগবে না। দোষী হয়ে থাকলে আমার আর খেলা লাগবে না।’
নিলাম থেকে বাদ পড়ে নিজের মানহানি হয়েছে বলে দাবি তোলেন বিজয়। তাঁর ভাষায়, ‘আমি আপনাদের কাছে জানতে চাই আসলে সমাধানটা কী হবে। এটাই আমার পয়েন্ট। গত বছর যা হয়েছে তা তো হয়েছেই। আপনার কাছে যদি প্রমাণ থাকে আমাকে নিষিদ্ধ করে দেন। আমি খুশি মনে মেনে নেব। সারা বাংলাদেশের মানুষ জানুক আমি খারাপ, আমি অপরাধী, আমি ভালো মানুষ না। আর যদি না হয় তাহলে আমার এই সম্মান আপনাকে ফেরত দিতে হবে। আমার মানহানি যে হচ্ছে সেটা ফেরত দিতে হবে।’
গত মৌসুমে দুর্বার রাজশাহীর হয়ে খেলা বিজয়ের দাবি, চুক্তির পুরো পারিশ্রমিকও তিনি পাননি। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বিপিএলে গত বছর ৫০ লাখের চুক্তি ছিল। ৩০ লাখ পাইনি। এক বছর যাঁরা বিপিএলের দায়িত্বে ছিলেন, অনেক ফোন করেছি, মেইল দিয়েছি। তাঁদের কাছে গিয়ে চেক দেখিয়েছি। রাজশাহী দলের চেক পড়ে আছে। কিন্তু টাকা নেই। এক বছর ধরে ৩০ লাখ টাকা পাইনি। এই টাকা কেন পাচ্ছি না, কারণ জানতে চাই।’
এছাড়া আগের মৌসুমে দলের আর্থিক সংকট সম্পর্কে বিসিবি কর্মকর্তারাও অবগত ছিলেন বলে দাবি করেন তিনি। তার বক্তব্য, ‘রাজশাহীর হয়ে যখন খেলছিলাম, ফারুক ভাই, আকরাম স্যার, মঞ্জু ভাই, মিঠু ভাইও ছিলেন। আমরা যে টাকা পাচ্ছি না, সবাই জানতেন। খেলা বয়কট না করতে অনুরোধ করা হয়েছে। কথা ভুল বলে থাকলে ধরিয়ে দেবেন। কারও বিরুদ্ধে বলছি না। নিজের জন্য বলছি কথাগুলো। বিসিবি থেকে নেতৃত্ব চালিয়ে যেতে বলা হয়েছিল। কিন্তু করিনি। সেঞ্চুরির পরের দিন অধিনায়কত্ব ছেড়েছি।’
বিসিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুর্নীতি দমন ইউনিটের পরামর্শ অনুযায়ী, যেসব ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে ফিক্সিং সন্দেহ রয়েছে, তাঁদের এবার নিলামের তালিকায় রাখা হয়নি। তবে এটি অন্য ঘরোয়া ইভেন্টকে প্রভাবিত করবে না। কিন্তু এই ব্যাখ্যা বিজয়ের ক্ষোভ প্রশমিত করতে পারেনি। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘আমাকে বাদ দেওয়ার কারণ জানান। ফোনে পাচ্ছি না তাদের। সামাজিক মাধ্যমের সুযোগ তাই নিতেই হবে। সমাধানটা কী হবে, জানতে চাই। গত বছর যা হয়েছে, সেটার প্রমাণ থাকলে আমাকে নিষিদ্ধ করুন। সারা বাংলাদেশের মানুষ জানুন যে আমি অপরাধী।’
এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেই আজ ঢাকার পাঁচতারকা হোটেলে বিকেল ৪টা থেকে শুরু হবে বিপিএলের নিলাম।










Discussion about this post