চট্টগ্রামে সিরিজের দ্বিতীয় টি–টোয়েন্টিতে আয়ারল্যান্ডকে হারিয়ে সিরিজে সমতায় ফিরেছে বাংলাদেশ। জয়ের পেছনে ব্যাটে-বলে অবদান রেখেছেন অনেকেই, তবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন অফস্পিনার শেখ মেহেদী হাসান। আগের ম্যাচে বাইরে থাকলেও এই ম্যাচে সুযোগ পেয়েই তিনি প্রমাণ করেছেন নিজের মূল্য, ৪ ওভারে ২৫ রানে তিন উইকেট, যার মধ্যে আইরিশ দলের গুরুত্বপূর্ণ তিন ব্যাটার টিম টেক্টর, হ্যারি টেক্টর ও বেন কালিতজ।
তবু মেহেদীর শুরুটা ছিল অস্বস্তিকর। ইনিংসের প্রথম ওভারে কোনো উইকেট না পেয়ে দেন ১৩ রান। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে সেই কঠিন শুরুর কথাই উঠে আসে তাঁর কণ্ঠে। মেহেদী বলেন, ‘পাওয়ার প্লেতে দুইজন ডানহাতি ব্যাটার আমার জন্য তো একটু চ্যালেঞ্জিং। যেহেতু ওরা রুম (জায়গা নিয়ে) করে খেলতেছিল বা আমার মাইন্ড নিয়েই খেলছিল তারা।’
তবে সেই চাপ সামলেই তিনি ফিরে আসেন নিজের নিয়ন্ত্রণে। মাঝের ওভারগুলোতে ফিল্ডিং ছড়ানো থাকায় পরিকল্পনা প্রয়োগে সুবিধা হয়েছে বলে জানান, ‘যখন পাঁচটা ফিল্ডার বাইরে থাকে, তখন একটু ভালো পরিকল্পনা করা যায়… আমার শক্তি যা ছিল ওটার উপরেই গেছি।’
আয়ারল্যান্ড যখন ১০ ওভারেই শতকের ঘর ছুঁয়ে ফেলেছে, তখন তাদের ইনিংস ২০০ রানের দিকে যেতে পারে-এমন আশঙ্কা ছিল। কিন্তু বাংলাদেশি বোলাররা মিলেমিশে সেই ধারা থামিয়ে দেন। মেহেদী নিজের কৃতিত্ব একা নিতে চান না। তাঁর মতে, ‘মিডল ওভারে ভালো বল করাতে ওদের ২০–৩০ রান কম হয়েছে, সেখান থেকে প্রত্যাবর্তন করার কৃতিত্ব আমার একার না, বোলাররা সবাই ভালো বল করছে।’
অসাধারণ পারফরম্যান্স সত্ত্বেও তার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকেই, এটাই বাস্তবতা। সংবাদ সম্মেলনে যখন তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো যে পরের ম্যাচে তার সুযোগ পাওয়া নিশ্চিত কি না, তখন মেহেদী প্রশ্নটাই ফিরিয়ে দিলেন বাস্তবতার রূপ দেখিয়ে। তিনি বলেন, ‘আসলে এই প্রশ্নের উত্তর প্রধান কোচ দিতে পারবেন, আপনি যে চ্যানেলে চাকরি করেন, এক মাস এই চ্যানেলে, এক মাস আরেক চ্যানেলে চাকরি করলে আপনার জন্য এটা স্বস্তিদায়ক না। আমার জন্যও ব্যাপারটা একই।’
তবু জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়া তার কাছে এখনও গর্বের, ‘বাংলাদেশ দলের হয়ে খেলা একটা গর্বের বিষয়। সেটা ১০ ম্যাচ পরে খেলি বা নিয়মিত খেলি, গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে খেলাটাই।’










Discussion about this post