বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের জন্য জয় এখন আর চমক নয়, বরং নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। আইসিসি মেয়েদের টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে একের পর এক নিয়ন্ত্রিত ও আত্মবিশ্বাসী পারফরম্যান্সে টানা পঞ্চম ম্যাচ জিতে নিয়েছে নিগার সুলতানার দল। নেপালের মুলপানিতে সুপার সিক্স পর্বে থাইল্যান্ডকে ৩৯ রানে হারিয়ে বিশ্বকাপের মূল পর্বের দুয়ারে প্রায় পৌঁছেই গেল বাংলাদেশ।
ম্যাচের শুরুটা যদিও স্বস্তির ছিল না। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের প্রথম বলেই দিলারা আক্তার আউট হয়ে গেলে চাপ তৈরি হয়। দ্রুতই শারমিন আক্তার সুপ্তার বিদায়ে স্কোরবোর্ডে জমে ওঠে দুশ্চিন্তা। তবে সেই অস্বস্তি বেশিক্ষণ টিকতে দেননি জুয়াইরিয়া ফেরদৌস ও সোবহানা মোস্তারি। ধৈর্য আর আগ্রাসনের নিখুঁত মিশেলে তারা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধীরে ধীরে নিজেদের হাতে তুলে নেন।
জুয়াইরিয়া ফেরদৌস খেলেন পরিকল্পিত ইনিংস। বল বুঝে খেলেছেন, সুযোগ পেলেই বাউন্ডারি আদায় করেছেন। ৪৫ বলে তার ৫৬ রানের ইনিংস বাংলাদেশের ইনিংসকে স্থিতি দেয়। অন্যদিকে সোবহানা মোস্তারি ছিলেন পুরোপুরি ভিন্ন মেজাজে। ৪২ বলে ৫৯ রান করে তিনি থাইল্যান্ডের বোলারদের উপর নিয়মিত চাপ তৈরি করেন। এই জুটিতেই বড় সংগ্রহের ভিত্তি তৈরি হয়, যা ভাঙে ১২২ রানে।
শেষ দিকে কিছু উইকেট হারালেও রিতু মনির ছোট কিন্তু ঝাঁঝালো ইনিংসে গতি পায় রান। মাত্র ৬ বলেই ১৫ রান তুলে তিনি নিশ্চিত করেন যে থাইল্যান্ডের সামনে সহজ লক্ষ্য থাকছে না। ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের ১৬৫ রান স্পষ্টভাবেই ম্যাচের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়।
লক্ষ্য তাড়ায় থাইল্যান্ড চেষ্টা করলেও শুরু থেকেই রান তোলার চাপ ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রথম বলেই মারুফা আক্তারের আঘাতে তারা হারায় একটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। এরপর চান্থাম ও নান্নাপাত কিছুটা লড়াইয়ের আভাস দিলেও প্রয়োজনীয় রানরেটের বোঝা তাদের কাঁধে ভারী হয়ে ওঠে। চান্থাম সর্বোচ্চ ৪৬ রান করলেও ম্যাচ তখন বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণেই ছিল।
মাঝের ওভারগুলোতে স্বর্ণা আক্তার ও রিতু মনি ম্যাচের শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন। টাইট লাইন–লেংথে বোলিং করে তারা থাইল্যান্ডের ব্যাটিং লাইনআপ ভেঙে ফেলেন। মারুফা আক্তার শুরু ও শেষের ওভারগুলোতে ধারাবাহিক আক্রমণ চালিয়ে তিনটি উইকেট তুলে নেন। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১২৬ রানেই থেমে যায় থাইল্যান্ড।
৩৯ রানের এই জয় বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাসকে আরও শক্ত করেছে। সুপার সিক্সে টানা তৃতীয় জয় এবং পুরো বাছাইপর্বে পাঁচ ম্যাচে পাঁচ জয়, এই পরিসংখ্যানই বলে দেয়, দলটি এখন কতটা ছন্দে আছে। ফলাফলের হিসাব মিলিয়ে দেখলে ২০২৬ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এখন বাংলাদেশের জন্য শুধু সময়ের অপেক্ষা।










Discussion about this post