অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আসন্ন টি-টোয়েন্টি সিরিজের জন্য দল ঘোষণার সংবাদ সম্মেলনে এলো বাংলাদেশের নেতৃত্ব কাঠামোয় গুরুত্বপূর্ণ এক পরিবর্তনের ঘোষণা। অধিনায়কত্বে কোনো পরিবর্তন না এলেও বদল এসেছে সহ-অধিনায়কের পদে। সাইফ হাসান নিজেই দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করায় টি-টোয়েন্টি দলের নতুন সহ-অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন তাওহিদ হৃদয়।
গত নভেম্বরে সাইফ হাসানকে টি-টোয়েন্টি দলের সহ-অধিনায়ক করা হয়েছিল। সে সময় সিদ্ধান্তটি কিছুটা বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছিল, কারণ জাতীয় দলে ফেরার পর তখন পর্যন্ত তিনি খেলেছিলেন মাত্র ১৩টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। তবে দায়িত্ব পাওয়ার পর ব্যাট হাতে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি তিনি।
সহ-অধিনায়ক হওয়ার পর খেলা পাঁচটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচের কোনোটিতেই ২৫ রানের গণ্ডি পেরোতে পারেননি। এরপর বিপিএলেও তার সময়টা খুব একটা ভালো কাটেনি। নয় ম্যাচে মাত্র একটি ফিফটি করেছেন তিনি। এমন পরিস্থিতিতে নেতৃত্বের দায়িত্ব তার ব্যাটিংয়ে প্রভাব ফেলছে বলে মনে করেছেন সাইফ।
দল ঘোষণার সময় প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন জানান, সহ-অধিনায়কত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়ে বোর্ডের কাছে আবেদন করেছিলেন সাইফ, ‘টি-টোয়েন্টি দলের নিয়মিত সহ-অধিনায়ক সাইফ হাসান আমাদের কাছে এসেছেন। তিনি এখান থেকে অব্যাহতি চান। তিনি চান শুধু ব্যাটিংয়ে বেশি মনোযোগ দিতে। টি-টোয়েন্টির সহ-অধিনায়কত্বটা তিনি করতে চাচ্ছেন না।’
এরপর নতুন সহ-অধিনায়কের নাম ঘোষণা করে তিনি বলেন, ‘ক্রিকেট বোর্ড একটা ঘোষণা দিয়েছে। এখন থেকে তাওহিদ হৃদয় টি-টোয়েন্টি দলের সহ-অধিনায়ক।’
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের এই সিদ্ধান্তে বিস্ময়ের খুব একটা সুযোগ নেই। কারণ সাম্প্রতিক সময়ে নেতৃত্ব ও পারফরম্যান্স-দুই ক্ষেত্রেই নিজেকে আলাদা করে প্রমাণ করেছেন হৃদয়। বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। পাঁচ বছর আগে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ টি-টোয়েন্টিতে শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাবকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তিনি। বর্তমানে দেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ক্লাব মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করছেন।
হৃদয়ের নেতৃত্বে চলতি ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে মোহামেডান। দলের নয় ম্যাচের মধ্যে আটটিতেই জয় এসেছে তার নেতৃত্বে। ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সেও উজ্জ্বল এই ব্যাটার। নয় ম্যাচে ৮৮ গড়ে এবং ১২২ স্ট্রাইক রেটে ৫২৮ রান করে টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হিসেবে অবস্থান করছেন তিনি। ফলে নেতৃত্বের অতিরিক্ত চাপ তার পারফরম্যান্সে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলেনি বলেই মনে করছে নির্বাচকরা।
হৃদয়ের অধিনায়কত্বে মুগ্ধ হওয়ার কথাও জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার। তিনি বলেন, ‘এই মৌসুমে তাকে দেখেছি ঢাকা লিগে অধিনায়কত্ব করতে। পুরো টুর্নামেন্টে আসলেই মুগ্ধ করেছে। অধিনায়ক হিসেবে যে ধরনের রোল মডেল আমরা চাই, আমার মনে সব বক্সে টিক মার্ক দিয়েছেন।’
ভবিষ্যতে আরও বড় নেতৃত্বের দায়িত্ব পাওয়ার সম্ভাবনার কথাও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। হাবিবুল বাশার সুমন বলেন, ‘ভবিষ্যত পরে বলে দেবে। কিন্তু এই মুহূর্তে সে সম্ভাব্য সেরা সহ-অধিনায়ক। অধিনায়ক হিসেবে তাকেই বোর্ড বিবেচনা করছে।’
জাতীয় দলের সহ-অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার মধ্য দিয়ে তাওহিদ হৃদয়ের নেতৃত্বগুণের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি মিলল। একই সঙ্গে এটি ইঙ্গিত দিচ্ছে, ভবিষ্যতের নেতৃত্ব পরিকল্পনায় ২৫ বছর বয়সী এই ব্যাটারকে গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় রেখেই এগোতে চায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড।









Discussion about this post