টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে বড় ধরনের আর্থিক ও কূটনৈতিক চাপে পড়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। বিশ্বকাপ বয়কটের সিদ্ধান্ত নিলে আইসিসি থেকে পাওয়া বার্ষিক ৩১৬ কোটি টাকার লভ্যাংশ হারানোর পাশাপাশি কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে হতে পারে পাকিস্তানকে। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের খেলার সম্ভাবনাও জোরালো হচ্ছে।
পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান মহসিন নকভি জানিয়েছেন, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে আগামী শুক্র অথবা সোমবার। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠকের পর এই বক্তব্য দেন নকভি। সরকারের সঙ্গে আলোচনা শেষ হলেই বোর্ডের অবস্থান পরিষ্কার হবে বলে জানান তিনি।
আইসিসি এই ইস্যুতে ইতোমধ্যেই কঠোর অবস্থান নিয়েছে। ভারতের মাটিতে আয়োজিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সংস্থাটি হাইব্রিড মডেল অনুমোদন করেছিল। সেই অনুযায়ী পাকিস্তানের সব ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের সূচিও প্রকাশ করা হয়েছে। কিন্তু এরপরও যদি পাকিস্তান খেলতে অস্বীকৃতি জানায়, তাহলে সেটিকে সরাসরি চুক্তিভঙ্গ হিসেবে গণ্য করবে আইসিসি।
আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, কোনো বড় টুর্নামেন্টের আগে পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। শেষ মুহূর্তে বিশ্বকাপ বর্জন করলে সেই চুক্তি ভাঙা হবে। এর ফলে ভবিষ্যতে আর কোনো আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় হাইব্রিড মডেলের দাবি তুলতে পারবে না পাকিস্তান। যেখানে খেলা হবে, সেখানেই খেলতে বাধ্য করা হবে দলটিকে।
এই সিদ্ধান্তের আর্থিক প্রভাবও বিশাল। আইসিসি থেকে প্রতি বছর লভ্যাংশ হিসেবে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড পায় প্রায় ৩১৬ কোটি টাকা। আইসিসি স্পষ্ট করে জানিয়েছে, বিশ্বকাপ বয়কট করলে এই পুরো অর্থ কেটে নেওয়া হবে। এতে সরাসরি বড় ধরনের লোকসানে পড়বে পিসিবি।
শুধু বোর্ড নয়, শাস্তির মুখে পড়তে পারেন জাতীয় দলের ক্রিকেটাররাও। বিশ্বকাপ বর্জনের ক্ষেত্রে বাবর আজম, সলমন আলি আঘাদের মতো তারকা ক্রিকেটারদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রাখছে আইসিসি।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, পাকিস্তান সরে দাঁড়ালে বিশ্বকাপে তাদের জায়গা শূন্য থাকবে না। আইসিসির পক্ষ থেকে জানা গেছে, এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশকে বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ দেওয়া হতে পারে। ফলে পাকিস্তানের সিদ্ধান্ত শুধু তাদের ক্রিকেট নয়, বাংলাদেশের বিশ্বকাপ স্বপ্নের সঙ্গেও সরাসরি জড়িয়ে যাচ্ছে।
এখন অপেক্ষা শুক্র বা আগামী সোমবারের। সেই সিদ্ধান্তেই স্পষ্ট হবে-পাকিস্তান বিশ্বকাপে নামছে, নাকি কোটি কোটি টাকার ক্ষতি আর দীর্ঘমেয়াদি কড়াকড়ির পথে যাচ্ছে।










Discussion about this post