আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সাকিব আল হাসানকে শেষবার দেখা গেছে ২০২৪ সালের অক্টোবরে। এরপর কেটে গেছে দীর্ঘ সময়, কিন্তু জাতীয় দলে আর ফেরা হয়নি বাংলাদেশের এই তারকা অলরাউন্ডারের। গত দেড় বছরে তাঁর প্রত্যাবর্তন নিয়ে নানা আলোচনা ও গুঞ্জন শোনা গেলেও সেগুলো শেষ পর্যন্ত বাস্তব রূপ পায়নি। বরং সাকিবের দাবি, তাকে দেশে ফেরানোর জন্য কার্যকর কোনো উদ্যোগই নেওয়া হয়নি।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে সাকিবকে ফেরানোর বিষয়টি আলোচনায় আসে। তখন বোর্ডের সাবেক পরিচালকেরা আশাবাদী কথাও শোনান। কিন্তু সময় গড়ালেও বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি। পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজেও সাকিব ছিলেন না দলে। এর মধ্যেই ৭ এপ্রিল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ পূর্ববর্তী বোর্ড ভেঙে দিয়ে অ্যাডহক কমিটি গঠন করে, যার নেতৃত্বে রয়েছেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল।
মুম্বাইয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম স্পোর্টস স্টারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাকিব বলেন, ‘আগের বোর্ড সত্যিই আমাকে ফেরানোর ইচ্ছে প্রকাশ করেছিল। কিন্তু মুখে বলা আর সেটাকে বাস্তবায়িত করা-দুটির মধ্যে অনেক পার্থক্য থাকে। এখনো আমি শুনি যে সবাই আমাকে ফেরাতে চায়। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো-সত্যিকার অর্থে কেউ তেমন কোনো উদ্যোগ নেয়নি।’
সাকিবের দেশে না ফেরার পেছনে বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে তার রাজনৈতিক পরিচয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের একজন সংসদ সদস্য ছিলেন তিনি, যার জেরে তার বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা মামলা রয়েছে। পাশাপাশি শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারি ও চেক জালিয়াতির অভিযোগও আছে তাঁর বিরুদ্ধে। এর আগে ২০২৪ সালের অক্টোবরে দেশে ফিরে মিরপুরে বিদায়ী টেস্ট খেলার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন সাকিব। সংশ্লিষ্ট দুই উপদেষ্টার কাছ থেকে অনুমতি পেলেও শেষ পর্যন্ত দেশে ফেরা হয়নি বলে তিনি জানিয়েছিলেন।
তবে সব জটিলতার মধ্যেও ঘরের মাঠে খেলার আশা এখনো ছাড়েননি সাকিব। একই সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমি এখনো বিষয়টা খুব একটা ভেবে দেখিনি। তবে বছরের শেষে সবকিছু ঠিকঠাক হয়ে যাবে বলে আশা করি। একটা বিষয় নিশ্চিত যে আমাকে বাংলাদেশে ফিরতেই হবে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, কত তাড়াতাড়ি ফিরতে পারব? তবে এ বছরের শেষের মধ্যেই ফিরে আসতে পারব বলে আশা।’
ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়েও ভাবছেন সাকিব। ৩৯ পেরিয়ে ৪০-এ পা রাখা এই অলরাউন্ডার জানিয়েছেন, অবসরের পর তাঁর সামনে একাধিক পথ খোলা রয়েছে। তিনি বলেন, ‘বেশ কিছু বিকল্প আছে। কোচিং অবশ্যই তার মধ্যে একটি। তবে এখনো কোনো কিছু চূড়ান্ত করিনি। সত্যি বলতে অবসর নেওয়ার পর ক্রিকেটের সঙ্গে জড়ানোর ইচ্ছে নেই। যদি কখনো ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত থাকার কথা চিন্তা করি, তাহলে কোচিং, এমনকি ম্যাচ রেফারিও হতে পারে। তা না হলে ব্যবসার কথাও ভাবতে পারি। রাজনীতিতেও যুক্ত হতে পারি।’









Discussion about this post