চলতি মাসেই আসছে নিউজিল্যান্ড দল। আসন্ন সিরিজকে সামনে রেখে প্রস্তুতি জোরদার করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। ব্যস্ত সূচির ফাঁকে বিশেষ একটি ফিটনেস ক্যাম্প আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে জাতীয় দল ও আশেপাশে থাকা ক্রিকেটাররা নিজেদের শারীরিক সক্ষমতা আরও উন্নত করার লক্ষ্যে কাজ করছেন। এই ক্যাম্পের মূল লক্ষ্য, খেলোয়াড়দের ফিটনেসকে এমন পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া, যাতে সিরিজের চাপ সামাল দিতে তারা পুরোপুরি প্রস্তুত থাকে।
বিসিবির ফিটনেস ট্রেইনার ইয়াকুব চৌধুরি ডালিম জানিয়েছেন, এই ক্যাম্পটি মূলত একটি সমন্বিত ফিটনেস কার্যক্রম, ‘এটা হচ্ছে কম্বাইন ফিটনেস সেশন। এখানে ব্যাটারদের এ্যারোবিক ফিটনেসের দিকে আমরা জোর দিচ্ছি যাতে কম সময়ে অনেকটা দূরত্ব কাভার করতে পারে। এ কারণে আমরা বিভিন্ন ধরনের ট্রেনিং করছি।’
দলের ব্যস্ত আন্তর্জাতিক সূচির কারণে সাধারণত এ ধরনের দীর্ঘমেয়াদি ফিটনেস ক্যাম্পের সুযোগ পাওয়া যায় না। তবে কোচিং স্টাফের সুপারিশে একটি নির্দিষ্ট সময় বের করে এই ক্যাম্প আয়োজন করা হয়েছে বলে জানান ডালিম। তিনি বলেন, ‘আসলে আমাদের শিডিউলটা এত টাইট থাকে যে আসলে উইন্ডোটা বের করা অনেক জটিল হয়।’
প্রতিদিন টানা কয়েক ঘণ্টার অনুশীলন খেলোয়াড়দের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করতে পারে কিনা, সে বিষয়েও সতর্ক টিম ম্যানেজমেন্ট। এ প্রসঙ্গে ডালিম বলেন, ‘এখানে আসলে ওভার ট্রেনিং যাতে না হয় সেটা আমরা ওদের লোড ক্যালকুলেশন করছি। কার কতটুকু লোড করা দরকার, সেই লোড-ওভারলোড হিসাব রেখেই ট্রেনিং করাচ্ছি। কারণ আপনারা জানেন, সিরিজ শুরুর আগে ওই পরিমাণ ফিট না থাকলে ম্যাচগুলো খেলা অনেক কঠিন।’
দলের ইনজুরি পরিস্থিতিও আপাতত নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে আশ্বস্ত করেছেন এই ফিটনেস ট্রেইনার। পাকিস্তানের বিপক্ষে সর্বশেষ সিরিজে না খেলা তানজিম হাসান সাকিব এবং টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত এখন পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্যেই রয়েছেন। ডালিম বলেন, ‘এখন পর্যন্ত বড় কোন ইনজুরি নেই। ওরা জাস্ট প্রি-রিহ্যাবের কাজগুলো করছে। তানজিম সাকিব এবং শান্ত এরা দুজনই আমাদের প্রোটোকলে আছে। ওদেরকে আমরা এখন প্রি-রিহ্যাবের কাজ করাচ্ছি।’
ফিটনেস মূল্যায়নের ক্ষেত্রেও আধুনিক পদ্ধতি অনুসরণ করছে টিম ম্যানেজমেন্ট। বিপ টেস্ট বা ইয়ো-ইয়ো টেস্টের পাশাপাশি এবারও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে ১৬০০ মিটার টাইম ট্রায়ালকে। তবে এই পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দল। এ বিষয়ে ডালিম বলেন, ‘৬০০ মিটার টাইম ট্রায়াল টেস্ট নিচ্ছি। বিপ টেস্ট, ইয়ো-ইয়ো টেস্ট কিংবা ১৬০০ মিটার টাইম ট্রায়াল টেস্ট-এগুলোর মূল বিষয় কিন্তু একই। প্রতি সেকেন্ডে কতটুক দূরত্ব কাভার করছে, এটাই হচ্ছে মুখ্য বিষয়।’










Discussion about this post