ছুটি শেষে আবারও ক্রিকেটে ফিরেছে ব্যস্ততা। জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা নেমে পড়েছেন প্রস্তুতিতে, সামনে ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ সাদা বলের সিরিজ। সেই লক্ষ্যেই শুরু হয়েছে টাইগারদের প্রস্তুতি ক্যাম্প, যেখানে শুরু থেকেই ফিটনেস ও ফিল্ডিংকে দেওয়া হয়েছে সর্বোচ্চ গুরুত্ব।
সাম্প্রতিক সময়টায় টানা খেলার মধ্যে দিয়ে গেছে বাংলাদেশ দল। পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ শেষ করে কিছুটা বিশ্রামের সুযোগ মিললেও সামনে ঠাসা সূচি থাকায় দ্রুতই মাঠে ফিরতে হয়েছে ক্রিকেটারদের। প্রধান কোচ ফিল সিমন্সের অধীনে নতুন উদ্যমে শুরু হয়েছে অনুশীলন, যেখানে প্রতিটি সেশনেই পরিকল্পনার ছাপ স্পষ্ট।
প্রথম দিনের অনুশীলনে ফিটনেস দিয়েই শুরু হয় কার্যক্রম। দীর্ঘ রানিং সেশন, কন্ডিশনিং ড্রিল এবং শারীরিক সক্ষমতা বাড়ানোর নানা অনুশীলনে ব্যস্ত সময় কাটান ক্রিকেটাররা। টি-টোয়েন্টি দলের সদস্যরা আগে শুরু করলেও ধীরে ধীরে ওয়ানডে ও টেস্ট দলের ক্রিকেটাররাও যুক্ত হন। লক্ষ্য একটাই-আসন্ন সিরিজের আগে শারীরিকভাবে সর্বোচ্চ প্রস্তুত হওয়া।
এরপর ফোকাস যায় ফিল্ডিংয়ে। ফিল্ডিং কোচ জেমস পারামেন্ট খেলোয়াড়দের বিভিন্ন ভাগে ভাগ করে আলাদা আলাদা অনুশীলন করান। গ্রাউন্ড ফিল্ডিংয়ের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়, কারণ সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোতে এই জায়গায় কিছু দুর্বলতা দেখা গেছে। দ্রুত বল কুড়িয়ে নেওয়া, রান বাঁচানো এবং সুযোগ তৈরি করে রান আউট করার মতো গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোতে বাড়তি মনোযোগ দেওয়া হয়েছে।
এই ক্যাম্পে অভিজ্ঞদের পাশাপাশি নতুনদেরও সুযোগ দেওয়া হয়েছে নিজেদের প্রমাণ করার। স্পিন অলরাউন্ডার এসএম মেহেরব হোসেন প্রথমবারের মতো ডাক পেয়েছেন। এছাড়া রুয়েল মিয়া ও আব্দুল গাফফার সাকলাইনও নজর কাড়ছেন। অন্যদিকে ইনজুরি কাটিয়ে দলে ফিরেছেন তানজিম হাসান সাকিব ও মাহমুদুল হাসান জয়, যা দলে নতুন ভারসাম্য যোগ করেছে।
কোচিং স্টাফের সক্রিয় উপস্থিতিতে অনুশীলনে এসেছে গতি। সিনিয়র সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন, ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুলl এবং অন্যান্য কোচদের তত্ত্বাবধানে প্রতিটি সেশন চলছে নিবিড়ভাবে। ফিজিও ও ট্রেনিং স্টাফদের নজরেও রয়েছে খেলোয়াড়দের ফিটনেস অগ্রগতি।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম সপ্তাহ শেষে শুরু হবে ব্যাট-বলের স্কিল ট্রেনিং। এরই মধ্যে সিরিজের সূচিও নির্ধারিত। আগামী ১৩ এপ্রিল ঢাকায় আসবে নিউজিল্যান্ড দল। ১৭ এপ্রিল মিরপুরে শুরু হবে ওয়ানডে সিরিজ, যার শেষ ম্যাচটি হবে ২৩ এপ্রিল চট্টগ্রামে। এরপর টি-টোয়েন্টি সিরিজের ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে চট্টগ্রাম ও ঢাকায়।










Discussion about this post