বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে দীর্ঘদিনের এক প্রত্যাশা বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে। জাতীয় পর্যায়ের ক্রীড়াবিদদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রথমবারের মতো চালু হচ্ছে সরকারি ক্রীড়া ভাতা কর্মসূচি। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের উদ্যোগে শুরু হতে যাওয়া এই কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন তারেক রহমান।
শুরুতে ৫০০ ক্রীড়াবিদকে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা থাকলেও প্রথম ধাপে রাখা হয়েছে ১২৯ জনকে। এই তালিকায় স্থান পেয়েছেন দেশের বিভিন্ন কম আলোচিত ডিসিপ্লিনের খেলোয়াড়রা, যারা জাতীয় পর্যায়ে প্রতিনিধিত্ব করলেও দীর্ঘদিন আর্থিক অনিশ্চয়তায় ভুগছিলেন। তবে আপাতত এই তালিকার বাইরে রাখা হয়েছে ক্রিকেট ও ফুটবলের খেলোয়াড়দের, যা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই আলোচনা তৈরি হয়েছে।
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন, ‘শুধু জাতীয় পর্যায়ে যারা বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করেছেন, তারাই পাবেন। আরেকটা বিষয় রয়েছে, আমরা এই যে জাতীয় পর্যায়ে যাদেরকে ক্রীড়া ভাতা প্রদান করব এইটা কিন্তু চার মাস পর পর আমরা রিভিউ করব। তাদের পারফরম্যান্সের ওপরে নিশ্চিত করেই কিন্তু সেটা সংযোজন-বিয়োজন হবে। তারা যদি তাদের সেই পারফরম্যান্স ধরে রাখে তারা কন্টিনিউ করবে, যদি কেউ পারফরম্যান্স থেকে সরে যায় তখন তারা বাদ পড়ে যাবে।’
প্রথম ধাপে অন্তর্ভুক্ত খেলাগুলোর তালিকায় রয়েছে আর্চারি, বক্সিং, সাঁতার, জিমন্যাস্টিকস, ভারোত্তোলন, উশু, প্যারা অ্যাথলেটিকস, কারাতে, সেপাক তাকরো, টেবিল টেনিস, কাবাডি, ভলিবল, বাস্কেটবল, ব্রিজ ও ফুটসাল। এসব খেলায় জাতীয় দলের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করা ক্রীড়াবিদদের একটি বড় অংশ এতদিন নিয়মিত আর্থিক সহায়তা থেকে বঞ্চিত ছিলেন। নতুন এই উদ্যোগ তাদের জন্য স্বস্তির বার্তা হয়ে এসেছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, এই তালিকা চূড়ান্ত নয়; খুব শিগগিরই আরও ক্রীড়াবিদকে যুক্ত করা হবে। একই সঙ্গে জনপ্রিয় খেলার ক্রীড়াবিদদের বিষয়ে ভবিষ্যতে ভাবার কথাও জানিয়েছেন তিনি, ‘ক্রিকেটাররা অত্যন্ত ফাইন্যান্সিয়ালি সলভেন্ট। ক্রিকেটারদের বিষয় নিয়ে আমরা পরবর্তীতে ভাববো। আমরা আপাতত ফুটবল থেকে শুরু করে আমাদের যেসকল ইভেন্টগুলো বা যে সকল ক্রীড়াবিদরা অত্যন্ত জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে তাদেরকে আমরা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে তাদেরকে আমরা এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই।’










Discussion about this post