টি–টোয়েন্টি আর ওয়ানডের দাপুটে ব্যস্ততা শেষে আবারও ফিরে এসেছে টেস্ট ক্রিকেটের নীরবতা, ধৈর্য আর দীর্ঘ লড়াইয়ের মঞ্চ। বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল ও পাকিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দল-দুই দলই বছরজুড়ে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে যতটা ব্যস্ত ছিল, সাদা বলের বাইরের এই সংস্করণে ততটাই অপেক্ষার মধ্যে ছিল।
সর্বশেষ টেস্টে পাকিস্তান খেলেছিল গত অক্টোবরে দক্ষিণ আফ্রিকা জাতীয় ক্রিকেট দল-এর বিপক্ষে, যেখানে তারা সিরিজ জেতে ২–১ ব্যবধানে। অন্যদিকে বাংলাদেশ সর্বশেষ টেস্ট সিরিজে গত নভেম্বরে আয়ারল্যান্ড জাতীয় ক্রিকেট দল-কে ২–০ ব্যবধানে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসের ঝাঁপ দিয়েছিল। কিন্তু এরপর দুই দলেরই পথ গেছে ভিন্ন দিকে টি–টোয়েন্টি লিগ, আন্তর্জাতিক সিরিজ আর আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ-এর ব্যস্ততায়।
এবার সেই ব্যস্ততার পর্দা সরিয়ে আবারও টেস্টের আলোয় ফিরছে দুই দল। মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম-এ দাঁড়িয়ে পাকিস্তানের পেসার শাহিন শাহ আফ্রিদি বললেন, তারা প্রস্তুত, শুধু এই সিরিজ নয়, বরং বড় স্বপ্নের পথে হাঁটার জন্য। তার ভাষায়, লক্ষ্য এখন আর একটি সিরিজে সীমাবদ্ধ নয়, বরং পুরো আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ জয় করা।
তবে এই সফরের পেছনে আছে অতীতের এক অস্বস্তিকর অধ্যায়ও। বাংলাদেশে ২০২১ সালের সিরিজে এসে টেস্টে হোঁচট খেয়েছিল পাকিস্তান, যা তাদের জন্য ছিল বড় ধাক্কা। কিন্তু আফ্রিদির মতে, অতীত এখন আর ভাবনার বিষয় নয়-বর্তমান আর ভবিষ্যতই আসল লক্ষ্য।
বাংলাদেশের জন্য আবার এই সিরিজ এক ধরনের সুযোগ। সাম্প্রতিক সময়ে সাদা বলের ক্রিকেটে তারা দারুণ ছন্দে আছে, পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে ও টি–টোয়েন্টি সিরিজ জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়েই এবার তারা নামছে টেস্টের লড়াইয়ে। যদিও ইতিহাস বলছে, পাকিস্তানের বিপক্ষে ১৫ টেস্টে বাংলাদেশের জয় মাত্র দুইবার-তবুও ঘরের মাঠের পরিবেশ সবসময়ই আলাদা সমীকরণ তৈরি করে।
এই সমীকরণে বড় ভূমিকা রাখতে পারেন বাংলাদেশের তরুণ পেসার নাহিদ রানা। মিরপুরের উইকেটে ঘাসের উপস্থিতি পেসারদের জন্য বাড়তি সুবিধা দিতে পারে, আর সেখানেই ম্যাচের গতিপথ ঘুরিয়ে দেওয়ার সুযোগ খুঁজবে বাংলাদেশ।
আফ্রিদিও স্বীকার করেছেন নাহিদের সম্ভাবনার কথা, যদিও পাশাপাশি তিনি সতর্কভাবে আশা প্রকাশ করেছেন-বাংলাদেশ যেন তাদের এই তরুণ অস্ত্রকে ঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারে।









Discussion about this post