২০২৬ বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে শরিফুল ইসলাম যেন নিজেকে নতুনভাবে চিনিয়ে দিচ্ছেন। চট্টগ্রাম রয়্যালসের হয়ে নিয়মিত উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি টুর্নামেন্টের উইকেট শিকারিদের তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছেন এই বাঁহাতি পেসার। নোয়াখালী এক্সপ্রেসের বিপক্ষে ম্যাচে তার বোলিং স্পেল শুধু পরিসংখ্যানেই নয়, শরিফুলের কথাতেও আলাদা গুরুত্ব পেয়েছে-কারণ সেখানে ছিল বিনয়, বিশ্বাস আর স্পষ্ট পরিকল্পনার ছাপ।
ঢাকা পর্বের প্রথম দিনে নোয়াখালীর বিপক্ষে ৩.৫ ওভারে ৯ রানে ৫ উইকেট নেন শরিফুল। শেষ দুই ওভারে মাত্র ১ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচের রাশ নিজের হাতে তুলে নেন তিনি। এটি তার টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে প্রথম পাঁচ উইকেট নেওয়ার ম্যাচ, যা এসেছে ১৫২তম ম্যাচে। একই সঙ্গে বিপিএলে বাংলাদেশের কোনো পেসারের সবচেয়ে কম রানে পাঁচ উইকেট নেওয়ার রেকর্ডও গড়েন তিনি।
তবে ম্যাচ শেষে শরিফুল পরিষ্কার করে দেন, ব্যক্তিগত কোনো মাইলফলক তার ভাবনায় ছিল না। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘না, না… (পাঁচ উইকেটের আশা ছিল না), পরিকল্পনা ছিল যে, যখনই আমাকে বোলিংয়ে আনবে, রান চেক দিয়ে বল করব। উইকেট তো আর বলে কেউ নিতে পারে না। সেটা আসলে ভাগ্যের বিষয়। তো হয়ে গেছে।’
নিজের উন্নতির পেছনে ধারাবাহিক বিশ্লেষণের কথা তুলে ধরেন শরিফুল। ডাটা অ্যানালিস্ট রাহুলের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘প্রতি ম্যাচের পর উনি (ডাটা অ্যানালিস্ট রাহুল) আমাকে সবকিছু পাঠান এবং যেখানে ভুল করি সেগুলো আর কী আমি পরের ম্যাচে যাতে না করি সেগুলো নিয়ে ম্যাচের আগে সেগুলো আর কি দেখে আসি বা কাজ করে আসি।’
পাঁচ উইকেট পাওয়ার আনন্দ প্রকাশেও শরিফুলের কণ্ঠে ছিল কৃতজ্ঞতার সুর। তিনি বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ অবশ্যই ভালো লাগছে। ফাস্ট বোলার বলেন, স্পিনার বলেন, প্রতিটা বোলারের স্বপ্ন থাকে পাঁচ উইকেট নেওয়া। বিশেষ করে টি-টোয়েন্টিতে। তাই আলহামদুলিল্লাহ। অবশ্যই, অনেক উপভোগ করেছি। বিশেষ করে আমার ভালো লাগছে আমরা ম্যাচ জিতেছি।’
ম্যাচের আগে এক গ্রাউন্ডসম্যানের সঙ্গে হওয়া ছোট্ট কথোপকথনও যেন পরে অন্য অর্থ পেয়ে যায়। সেই মুহূর্তের কথা স্মরণ করে শরিফুল বলেন, “যখন রান-আপ মাপছিলাম, একজন গ্রাউন্ডসম্যান আমাকে বলছিল, ‘ভাইয়া, কেন জানি মনে হচ্ছে আপনি আজকে ৫ উইকেট পাবেন।’ আমি বলছি, ‘ভাই এটা তো এত সহজ না। কিন্তু আল্লাহ দিলে হতে পারে।’ তাই যখন খেলছিলাম, ভালো বল করছিলাম… আমি শেষ উইকেট পর্যন্ত চিন্তা করি নাই যে, পাঁচ উইকেট পাব। আল্লাহ হয়তো কপালে লিখে রেখেছিল, হয়ে গেছে।”
এই ম্যাচে ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন শরিফুল ইসলাম। তবে পুরস্কারের অর্থ তার কাছে ব্যক্তিগত প্রাপ্তির চেয়ে দায়িত্বের জায়গায় বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আগেই দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, অর্থ তুলে দেবেন নিজের এলাকার অসহায় মানুষদের হাতে। বিষয়টি ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘আরেকটা বিষয় আমি বলেছিলাম যে, যতদিনই ক্রিকেট খেলব, যখন ম্যাচসেরা হবো সেই টাকাটা আমার এলাকার যারা আর কি একটু অভাব-অনটনে থাকে তাদের দিয়ে দিব… ইনশাআল্লাহ। তাই আমার খুবই ভালো লাগছে যে এই টাকাটা তাদের কাছে যাবে।’
দল জয়ের গুরুত্ব আবারও ফিরে আসে তার কথায়। ৮ ম্যাচে ১৮ উইকেট নিয়ে বিপিএলের শীর্ষ উইকেটশিকারি শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘অবশ্যই, অনেক উপভোগ করছি। বিশেষ করে আমার ভালো লাগছে, আমরা ম্যাচ জিততে পারছি। আরেকটা বিষয়, আমি বলেছিলাম যে, যতদিন ক্রিকেট খেলব, আমি ম্যান অব দা ম্যাচ হলে, সেই টাকাটা আমার এলাকার যারা একটু অভাব-অনটনে থাকে, তাদেরকে দেব। আমার খুবই ভালো লাগছে যে, এই অর্থটা তাদের কাছে যাবে।’
পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে উইকেট নেওয়ার পর তার নাচের উদযাপন নিয়েও ছিল কৌতূহল। সেটির ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে শরিফুল বলেন, ‘কোনো পরিকল্পনা ছিল না। আমি মাথায় হাত দিয়েছিলাম। নাইম (নাইম শেখ) আমাকে এসে বলল, ‘দে দে ড্যান্স দে, ড্যান্স দে।’ পরে ওইটা ঝোঁকে হয়ে গেছে আর কী। সত্যি কথা। নাইম আমার ভালো বন্ধু, আমরা সবসময় একসঙ্গে অনূর্ধ্ব-১৯ থেকে খেলছি, তো তালে তালে হয়ে গেছে।’










Discussion about this post