জাতীয় দলের বাইরে থাকা দেশের অনেক ক্রিকেটারের জন্য ঘরোয়া লিগই আয়ের প্রধান উৎস। বিশেষ করে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ (ডিপিএল) এবং বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) তাদের জীবিকার বড় ভরসা। তবে যারা বিপিএলে সুযোগ পান না, তারা ডিপিএলের ওপরই নির্ভরশীল। সেই লিগটি এবার মাঠে না গড়ানোর শঙ্কা তৈরি হওয়ায় উদ্বেগে পড়েছেন অনেক ক্রিকেটার।
ডিপিএল ঘিরে এই অনিশ্চয়তার পেছনে রয়েছে প্রশাসনিক দ্বন্দ্ব। সর্বশেষ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) নির্বাচনে সরকারি হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলেছে ঢাকার অধিকাংশ ক্লাব। এ কারণে বর্তমান বোর্ডের অধীনে ডিপিএল ও প্রথম বিভাগ ক্রিকেট লিগে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ। যদিও বিসিবি বিকল্প টুর্নামেন্ট আয়োজনের চেষ্টা করেছে, তাতে পরিস্থিতির খুব একটা পরিবর্তন আসেনি।
এ অবস্থায় খেলাকে কোনোভাবেই জিম্মি না করার আহ্বান জানিয়েছেন বিসিবির আম্পায়ার্স কমিটির চেয়ারম্যান ইফতেখার রহমান মিঠু। তিনি বলেন, ‘আমি একজন সাবেক ক্রিকেটার হিসেবে বলছি, যে যাই হোক, যেই বিবাদই থাকুক, খেলাকে আমরা জিম্মি করতে পারি না। খেলাটা খেলা উচিত খেলার মতো আর অন্যান্য বিবাদ থাকলে আপনি এটা সমাধান করেন। সেটা হচ্ছে এটা আমার একদম ব্যক্তিগত মতামত যে খেলার সাথে অন্য কিছুকে জড়াবেন না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার অনুরোধ থাকবে ক্লাবগুলো আছে তাদের কাছে, এটা খেলোয়াড়দের আয়ের উৎস। আমরা তো শুধু বিপিএলে যে কয়জন খেলছে সেটার জন্য না, যে খেলোয়াড়রা শুধু লিগে খেলছে, তাদের আয়ের মাধ্যম এটা। সুতরাং প্রিমিয়ার লিগটা হয়ে যাওয়া উচিত।’
এদিকে আন্তর্জাতিক সূচিতে বিরতি থাকায় দেশের ক্রিকেটাররা বর্তমানে ফিটনেস ক্যাম্পে অংশ নিচ্ছেন। আসন্ন নিউজিল্যান্ড সিরিজের আগ পর্যন্ত এই ক্যাম্প চলবে। সাম্প্রতিক বিপিএলের বেশিরভাগ ম্যাচ সিলেটে আয়োজন করা হয়, কেবল শেষের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হয় শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম-এ। ভবিষ্যতে ঢাকার বাইরে আরও বেশি ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে বিসিবির।
ক্রিকেটকে ঢাকাকেন্দ্রিকতা থেকে বের করে সারাদেশে ছড়িয়ে দিতে চান বর্তমান বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। এ প্রসঙ্গে ইফতেখার রহমান মিঠু বলেন, ‘আমাদের প্রেসিডেন্ট সাহেবের (আমিনুল ইসলাম বুলবুল) ইচ্ছে যে, ক্রিকেটকে ঢাকাকেন্দ্রিক থেকে সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে দেওয়া। এই জন্যই বিপিএলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সিলেটে করা হয়েছে প্রথমবারের মত। নারী বিপিএলও কিন্তু ঢাকার বাইরে উদ্বোধন হচ্ছে। এসব পদক্ষেপের মানেই হচ্ছে আমরা ঢাকা থেকে ক্রিকেটকে বাইরে ছড়িয়ে দিতে চাই।’
তিনি আরও জানান, ঢাকার বাইরে ম্যাচ আয়োজন হলে সেখানে খেলোয়াড় পর্যবেক্ষণের জন্য নির্বাচকদেরও পাঠানো হবে। এতে করে নতুন প্রতিভা খুঁজে বের করা সহজ হবে।
বিসিবির নির্বাচক প্যানেলেও পরিবর্তন এসেছে। মেয়াদ শেষ হওয়ায় প্রধান নির্বাচকের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন গাজী আশরাফ হোসেন লিপু। তার জায়গায় নতুন প্রধান নির্বাচক হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন হাবিবুল বাশার। এছাড়া সহকারী নির্বাচক হিসেবে যুক্ত হয়েছেন নাদিফ চৌধুরী এবং মোহাম্মদ নাঈম। আগের মতোই সহকারী নির্বাচকের দায়িত্বে থাকছেন হাসিবুল হোসেন।










Discussion about this post