বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাম্প্রতিক নির্বাচন ঘিরে সৃষ্টি হওয়া অনিশ্চয়তা কাটিয়ে ঘরোয়া ক্রিকেটে ফিরছে স্বাভাবিকতা। লিগ বর্জনের ঘোষণায় বন্ধ হয়ে যাওয়া ক্লাব ক্রিকেটে আবারও প্রাণ ফিরছে। সব শঙ্কা দূর করে আগামী নভেম্বর মাসে শুরু হতে যাচ্ছে ঢাকার নতুন ক্রিকেট মৌসুম, আর তা শুরু হবে প্রথম বিভাগ ক্রিকেট লিগ দিয়ে।
আজ (বুধবার) মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিসের (সিসিডিএম) চেয়ারম্যান আদনান রহমান দীপন জানান, প্রথম বিভাগ লিগ দিয়েই নতুন মৌসুমের পর্দা উঠবে। বৈঠকে উপস্থিত ২০ ক্লাবের মধ্যে ১৭টির প্রতিনিধিরাই অংশ নেন, আর কেউই লিগ বর্জনের সিদ্ধান্তে অনড় থাকেননি।
দীপন বলেন, ‘আজ আমরা প্রথম বিভাগের দলগুলোর সঙ্গে বৈঠক করেছি। প্রায় সব ক্লাবই উপস্থিত ছিল, এবং কেউই বলেনি যে তারা খেলবে না। সবাই আগ্রহী। সময়সূচি নিয়ে সামান্য মতপার্থক্য আছে, তবে সবাই খেলতে রাজি।’
সিসিডিএমের পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় বিভাগ লিগ একসঙ্গে আয়োজন করা হবে। তবে প্রিমিয়ার লিগ আপাতত সূচিতে নেই, কারণ জাতীয় দলের ব্যস্ততা, বিপিএল ও এনসিএল মিলিয়ে সময়ের চাপ তৈরি হয়েছে। দীপন বলেন, ‘ফাঁক পেলে প্রিমিয়ার লিগও করব, তবে এখন মূল লক্ষ্য অন্য তিন বিভাগ।’
বিসিবি নির্বাচন পরবর্তী অচলাবস্থার পটভূমিতে এই ঘোষণা এসেছে। গত ৬ অক্টোবরের নির্বাচনের পর সরকারি হস্তক্ষেপ ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে ঢাকা ক্লাব ক্রিকেট অর্গানাইজার্স অ্যাসোসিয়েশন সব ধরনের ক্রিকেট কার্যক্রম বন্ধের ঘোষণা দিয়েছিল। তারা পুনর্নির্বাচিত বোর্ডপ্রধান আমিনুল ইসলাম বুলবুলকে ‘অবৈধ সভাপতি’ বলেও অভিহিত করেছিল। এরপর থেকেই স্থবির হয়ে পড়েছিল ঢাকার লিগ ক্রিকেট।
এখন সে স্থবিরতা কাটিয়ে লিগে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছে ক্লাবগুলো। তাদের উৎসাহ দিতে অংশগ্রহণ ফি ৫০ শতাংশ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে সিসিডিএম। আগে যেখানে ক্লাবগুলো পেত ৯ লাখ টাকা, এবার তারা পাবে প্রায় ১৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা, যার মধ্যে জার্সি ও ব্যাগপ্যাক বাবদ অতিরিক্ত এক লাখ টাকাও অন্তর্ভুক্ত।
দীপনের ভাষায়, ‘ক্লাবগুলোকে উৎসাহিত করতেই আমরা পার্টিসিপেশন মানি বাড়াচ্ছি। এ উদ্যোগ ঘরোয়া ক্রিকেটে নতুন উদ্দীপনা যোগ করবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।’
লিগ আয়োজনে মাঠ প্রস্তুতির দিক থেকেও এগিয়ে আছে সিসিডিএম। প্রথম বিভাগের ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে সাতটি ভেন্যুতে-বসুন্ধরা, মোহাম্মদপুরের সিলিকন ভ্যালি, পিকেএসপির এক ও দুই নম্বর মাঠ, কেরানীগঞ্জের তেঘরিয়া মাঠ এবং বিকেএসপি ১ ও ২ নম্বর মাঠ। দীপন জানান, ‘প্রথম বিভাগের জন্য পাঁচটা মাঠ দরকার, কিন্তু আমরা সাতটা মাঠ নিশ্চিত করেছি। ২০ নভেম্বরের পর বিকেএসপি পুরোপুরি পাওয়া যাবে।’
সিসিডিএম চেয়ারম্যান আরও জানান, আগামী মৌসুম থেকে নির্দিষ্ট ক্যালেন্ডার ও কাঠামোগত পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে প্রতিটি ক্লাব আগে থেকেই জানে কোন লিগ কখন শুরু হবে। তিনি বলেন, ‘এখন আমাদের উইন্ডো অক্টোবর থেকে জুন পর্যন্ত, কিন্তু বাস্তবে এপ্রিল-মেতে শেষ হয়ে যায়। আমরা চাই, আগে থেকেই সূচি জানিয়ে দিতে, যেন প্রস্তুতি নেওয়া যায়।’










Discussion about this post