ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের (ডিপিএল) ষষ্ঠ রাউন্ড যেন ছিল স্নায়ুর লড়াইয়ের এক দীর্ঘ দিন। কোথাও শেষ বলে নির্ধারিত হয়েছে জয়-হার, কোথাও শেষ ওভারে বদলে গেছে ম্যাচের গতি। ছয় ম্যাচের এই রাউন্ডে তিনটি ম্যাচই শেষ হয়েছে স্বল্প ব্যবধানে। এক রানে জিতেছে রূপগঞ্জ টাইগার্স, দুই রানে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ আর এক উইকেটের নাটকীয় জয় পেয়েছে বসুন্ধরা স্ট্রাইকার্স। অন্যদিকে বড় জয় পেয়েছে মোহামেডান, আবাহনী ও গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স।
দিনের সবচেয়ে রুদ্ধশ্বাস ম্যাচগুলোর একটি হয়েছে ইউল্যাব ক্রিকেট গ্রাউন্ডে। সেখানে ব্রাদার্স ইউনিয়নকে মাত্র ১ রানে হারিয়েছে রূপগঞ্জ টাইগার্স। শেষ ওভারে ব্রাদার্সের দরকার ছিল ৮ রান। ম্যাচ তখন দুই দলের জন্যই সমান খোলা। মহিউদ্দিন তারেকের প্রথম চার বলে আসে ৫ রান। কিন্তু পঞ্চম বলেই গোলাম কিবরিয়ার উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় ব্রাদার্স। শেষ বলে নাঈম ইসলাম জুনিয়র এক রান নিলেও আরেকটি রান অধরাই থেকে যায়।
এর আগে ব্যাট হাতে রূপগঞ্জ টাইগার্সকে লড়াই করার পুঁজি এনে দেন মোহাম্মদ আবদুল্লাহ ও মাহমুদুল হাসান। আবদুল্লাহ অপরাজিত ৮১ রান করেন, মাহমুদুল যোগ করেন ৬৭। তাদের ইনিংসে ভর করে ৫ উইকেটে ২৩৮ রান তোলে দলটি। জবাবে ব্রাদার্স থামে ২৩৭ রানে। এই জয় রূপগঞ্জ টাইগার্সের এবারের আসরে প্রথম, আর ব্রাদার্সের পঞ্চম হার।
বিকেএসপির ৪ নম্বর মাঠেও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দুলেছে ম্যাচের পাল্লা। ২৫০ রান তাড়া করতে নেমে ঢাকা লেপার্ডস একসময় বেশ ভালো অবস্থানে ছিল। শেষ ১০ বলে প্রয়োজন ছিল মাত্র ১০ রান, হাতে তিন উইকেট। কিন্তু ঠিক তখনই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারায় তারা। লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের বোলাররা চাপে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করেন। শেষ তিন উইকেটের দুটি তুলে নেন শাহরিয়ার আহমেদ, আর শেষ আঘাতটি করেন সামিউন বাসীর। শেষ পর্যন্ত ২৪৮ রানেই থামে লেপার্ডস।
বসুন্ধরা স্পোর্টস কমপ্লেক্সেও জমে ওঠে আরেকটি নাটক। সিটি ক্লাবের করা ২৩১ রান তাড়া করতে গিয়ে শেষ ওভার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে বসুন্ধরা স্ট্রাইকার্সকে। ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয় শেষ ওভারের পঞ্চম বলে। আবদুল গাফফার সাকলায়েনের বলে চার মেরে দলের জয় নিশ্চিত করেন ইরফান হোসেন। ১ বল হাতে রেখেই ১ উইকেটের জয় তুলে নেয় স্ট্রাইকার্স।
দিনের সবচেয়ে বড় ব্যক্তিগত ইনিংসটি এসেছে বিকেএসপির ৩ নম্বর মাঠে। আবাহনীর জার্সিতে দুর্দান্ত সেঞ্চুরি করেছেন জাকের আলী। চার নম্বরে নেমে ১০৩ বলে ১৩৩ রানের বিস্ফোরক ইনিংস খেলেন তিনি। ৯টি ছক্কা ও ১০টি চারে সাজানো এই ইনিংসে ভর করেই ৫০ ওভারে ৩৪১ রান তোলে আবাহনী। মাহিদুল ইসলামও গুরুত্বপূর্ণ ৭৫ রান যোগ করেন।
এত বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই পিছিয়ে পড়ে প্রাইম ব্যাংক। শেষ পর্যন্ত ২৩৫ রানে অলআউট হয়ে ১০৫ রানের বড় হার দেখে দলটি। শামীম হোসেন সর্বোচ্চ ৫১ রান করেন। এই জয়ে ছয় ম্যাচে চতুর্থ জয় তুলে নেয় আবাহনী।
মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে অবশ্য ম্যাচের গল্পটা ছিল একতরফা। অগ্রণী ব্যাংককে মাত্র ১৩৩ রানে গুটিয়ে দেয় মোহামেডান। বল হাতে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ও মুশফিক হাসান নেন চারটি করে উইকেট।
তবে ম্যাচের আসল আলো কেড়ে নেন তাওহিদ হৃদয়। রান তাড়ায় নেমে শুরু থেকেই ঝড় তোলেন তিনি। মাত্র ১৭ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন, যা দেশের লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে দ্বিতীয় দ্রুততম ফিফটি। শেষ পর্যন্ত ২৪ বলে অপরাজিত ৭১ রান করে মাঠ ছাড়েন হৃদয়। তার ইনিংসে ছিল ১০টি চার ও ৪টি ছক্কা। মাত্র ১১.৩ ওভারেই লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে মোহামেডান।
ষষ্ঠ রাউন্ড শেষে পয়েন্ট তালিকার লড়াইটাও জমে উঠেছে। ১০ পয়েন্ট করে আছে মোহামেডান ও প্রাইম ব্যাংক, যদিও রান রেটে এগিয়ে শীর্ষে মোহামেডান। আবাহনী ও লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের পয়েন্ট ৮ করে। রান রেটে এগিয়ে তিন নম্বরে আছে আবাহনী। গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স, ঢাকা লেপার্ডস ও বসুন্ধরা স্ট্রাইকার্সও নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছে গুরুত্বপূর্ণ জয় দিয়ে।









Discussion about this post