ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগে (ডিপিএল) দারুণ এক রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে ঢাকা লিওপার্ডসকে ২ রানে হারিয়ে গুরুত্বপূর্ণ জয় তুলে নিয়েছে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ। বিকেএসপির চার নম্বর মাঠে অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত উত্তেজনা ছড়িয়েছে দুই দল। কখনো মনে হয়েছে ম্যাচটি সহজেই জিতে যাবে ঢাকা লিওপার্ডস, আবার কখনো রূপগঞ্জকে দেখা গেছে নিয়ন্ত্রণে। তবে শেষ পর্যন্ত চাপের মুহূর্তে বল হাতে অসাধারণ দক্ষতা দেখিয়ে দলকে জয় এনে দেন শাহরিয়ার আহমেদ ও সামিউন বশির রাতুল।
২৫০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিং করে ঢাকা লিওপার্ডস। বিশেষ করে জাকির হাসান ও ইফতিখার হোসেন ইফতির ব্যাটে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই চলে যায় তাদের হাতে। দুই ব্যাটারই রূপগঞ্জের বোলারদের চাপে ফেলেন। জাকির হাসান ৬৬ বলে ৫৮ রান করেন। তার ইনিংসে ছিল পরিমিত আক্রমণ ও দায়িত্বশীল ব্যাটিং। তবে সামিউন বশির রাতুলের বলে ইরফান শুক্কুরের হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে ফিরে যান তিনি।
অন্যদিকে ইফতিখার হোসেন ইফতি ছিলেন আরও বেশি আক্রমণাত্মক। ৯১ বলে ৭০ রানের ইনিংসে তিনি মারেন চারটি ছক্কা। তার ব্যাটে ভর করেই জয়ের খুব কাছে পৌঁছে যায় ঢাকা লিওপার্ডস। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সময়ে শাহরিয়ার আহমেদের আঘাতে ভেঙে যায় সেই প্রতিরোধ।
মধ্যক্রমে অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুনও দলকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। ৩৯ বলে ৩১ রান করে তিনি রূপগঞ্জ শিবিরে দুশ্চিন্তা বাড়িয়ে দেন। তবে সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ গড়ে তোলেন মইন খান। শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকে ৪৫ বলে ৫৩ রান করেন তিনি। কিন্তু অন্যপ্রান্তে নিয়মিত উইকেট হারাতে থাকায় তার ইনিংসও দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দিতে পারেনি।
ম্যাচের সবচেয়ে নাটকীয় মুহূর্ত আসে শেষ দিকে। একসময় ঢাকা লিওপার্ডসের শেষ ৯ বলে প্রয়োজন ছিল মাত্র ৩ রান। তখন ম্যাচ প্রায় তাদের হাতেই চলে গিয়েছিল। কিন্তু সেই পরিস্থিতি থেকেই অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়ায় রূপগঞ্জ। শাহরিয়ার আহমেদ ও সামিউন বশির রাতুল অসাধারণ নিয়ন্ত্রিত বোলিং করে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন। শেষ পর্যন্ত ৪৮.৪ ওভারে ২৪৮ রানে অলআউট হয় ঢাকা লিওপার্ডস। শাহরিয়ার আহমেদ ছিলেন ম্যাচের বড় নায়ক। তিনি মাত্র ১৬ রান দিয়ে ৪টি উইকেট শিকার করেন।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ঝড়ের গতিতেই করেছিল রূপগঞ্জ। উদ্বোধনী জুটিতে আশিকুর রহমান শিবলি ও হাবিবুর রহমান দলকে শক্ত ভিত এনে দেন। দুজন মিলে যোগ করেন ৪৬ রান। হাবিবুর রহমান মাত্র ২৩ বলে ৩১ রান করেন, যেখানে ছিল চারটি ছক্কা।
তবে এই জুটি ভাঙার পর দ্রুত উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় দলটি। রবিউল ইসলাম রবি, ইরফান শুক্কুর ও আইচ মোল্লা দ্রুত সাজঘরে ফেরেন। রবি করেন ৭ রান, ইরফান শুক্কুর ৬ এবং আইচ মোল্লা ১৭ রান। ফলে বড় সংগ্রহের সম্ভাবনা কিছুটা কমে যায়।
এক প্রান্ত আগলে রেখে লড়াই চালিয়ে যান আশিকুর রহমান শিবলি। আগের ম্যাচে শতক করা এই ব্যাটার এবারও দারুণ ফর্মের পরিচয় দেন। ৮৯ বলে ৭০ রানের ইনিংসে তিনি মারেন ছয়টি চার ও একটি ছক্কা। আলাউদ্দিন বাবুর বলে আউট হওয়ার আগে দলকে লড়াকু অবস্থানে নিয়ে যান তিনি।
মধ্যক্রমে সামিউন বশির রাতুল গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। ৪৯ বলে ৪৩ রানের ইনিংসে ছিল চারটি চার ও দুটি ছক্কা। অধিনায়ক শেখ মেহেদী হাসানও ৩৬ বলে ৩১ রান করে দলের স্কোর এগিয়ে নেন। এছাড়া শাহরিয়ার আহমেদ ১৭ এবং মাসুম খান রাতুল ১৫ রান যোগ করেন। সব মিলিয়ে ৪৭.৪ ওভারে ২৫০ রানে অলআউট হয় রূপগঞ্জ।
ঢাকা লিওপার্ডসের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন আলাউদ্দিন বাবু। তিনি ৪১ রান দিয়ে ৩টি উইকেট নেন। এছাড়া শেখ পারভেজ হৃদয় ও হাসান মুরাদ দুটি করে উইকেট শিকার করেন।
এই জয়ের ফলে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে ৬ ম্যাচে চতুর্থ জয় তুলে নিল লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ। একই সঙ্গে শিরোপার লড়াইয়েও নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করল শেখ মেহেদী হাসানের দল।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ: ৪৭.৪ ওভারে ২৫০/১০ (শিবলি ৭০, হাবিবুর ৩১, রাতুল ৪৩, মেহেদী ৩১, টুটুল ১৫; বাবু ৩/৪১)
ঢাকা লিওপার্ডস: ৪৮.৪ ওভারে ২৪৮/১০ (জাকির ৫৮, ইফতি ৭০, মিঠুন ৩১, মঈন ৫৩; শাকিল ১/১৯, মেহেদী ১/৩৫, নাসুম ১/৫৬, রাতুল /৫৬, শাহরিয়ার ৪/১৬)।
ফল: লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ ২ রানে জয়ী



