এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের হতাশাজনক পারফরম্যান্সকে ‘অত্যন্ত হতাশাজনক’ হিসেবে উল্লেখ করে ব্যর্থতার প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করার উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। ভবিষ্যতে শুধু আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ নয়, পদক জয়ের লক্ষ্য নিয়েই বাংলাদেশের ক্রীড়া পরিকল্পনা সাজানো হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
আজ রোববার গণমাধ্যমকে দেওয়া বক্তব্যে আমিনুল হক বলেন, ‘এশিয়ান গেমসে এবারের পারফরম্যান্স অত্যন্ত হতাশাজনক ছিল। এই ব্যর্থতার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান ও ভবিষ্যৎ করণীয় নির্ধারণের জন্য ইতিমধ্যে একটি বিশেষ মূল্যায়ন কমিটি গঠন করা হয়েছে। সরকারের বর্তমান লক্ষ্য কেবল কোনো আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করা নয়, বরং সরাসরি পদকের জন্য লড়াই করা। যেসব ইভেন্টে বাংলাদেশের পদক জয়ের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি, সেগুলোকে সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করে যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করা হবে।’
জাপানে অনুষ্ঠিত ২০২৬ এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের পারফরম্যান্সের চিত্র তুলে ধরতে গিয়ে ক্রিকেটের ব্যর্থতাও সামনে এসেছে। পুরুষ ক্রিকেট দল সেমিফাইনালে পাকিস্তানের কাছে হারের পর ব্রোঞ্জের লড়াইয়ে শ্রীলঙ্কার কাছে ৬৩ রানে হেরে চতুর্থ হয়। অথচ এর আগে এশিয়ান গেমস ক্রিকেটে প্রতিবারই পদক পেয়েছিল বাংলাদেশ পুরুষ দল। ২০১০ সালে সোনা জয়ের পর পরবর্তী আসরগুলোতেও পদক এসেছিল বাংলাদেশের ঘরে। এবারই প্রথম ক্রিকেট থেকে পদকহীন থাকতে হলো দলকে।
ক্রিকেটের পাশাপাশি অন্যান্য ডিসিপ্লিনেও প্রত্যাশিত সাফল্য আসেনি। এবারের আসরে বাংলাদেশের একমাত্র পদক এসেছে উশু থেকে। নারী ৫২ কেজি ওজন শ্রেণিতে ব্রোঞ্জ জিতেছেন জিন্নাত আক্তার। সামগ্রিক ফলাফল সামনে রেখে এখন কোন ইভেন্টে বাংলাদেশের সম্ভাবনা বেশি, কোথায় বিনিয়োগ ও প্রশিক্ষণে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন এবং কীভাবে দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি নেওয়া যায়, তা খতিয়ে দেখবে বিশেষ মূল্যায়ন কমিটি।
আমিনুল হক জানিয়েছেন, সরকারের ক্রীড়া নীতিতে অংশগ্রহণের চেয়ে ফলাফলকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে। সম্ভাবনাময় ইভেন্ট চিহ্নিত করে সেখানে প্রয়োজনীয় গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি বছরব্যাপী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থার কথাও জানিয়েছেন তিনি। আগামী পাঁচ বছর পর অলিম্পিকে পদকের জন্য লড়াই করার লক্ষ্য নিয়েও কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
ক্রীড়াবিদদের উন্নয়নে আর্থিক সহায়তার কথাও তুলে ধরেছেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ক্রীড়াবিদদের জন্য সরকার ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। এরই মধ্যে ৩০০ জন ক্রীড়াবিদকে ক্রীড়া কার্ড দেওয়া হয়েছে এবং তাদের ভাতার আওতায় আনা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে ৫০০ জনকে এই সুবিধার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতি চার মাস পরপর ক্রীড়াবিদদের পারফরম্যান্স পর্যালোচনা করে তালিকা হালনাগাদ করা হবে।
শুধু ভাতা নয়, ক্রীড়াবিদদের নাগরিক ও পরিবহন সুবিধা নিশ্চিত করার উদ্যোগের কথাও জানিয়েছেন আমিনুল হক। রেল, বিমান ও সড়কপথে তাদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তার মতে, ক্রীড়াবিদরা যেন দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে খেলতে পারেন এবং পেশাদারিত্বের সঙ্গে নিজেদের প্রস্তুত করতে পারেন, সে লক্ষ্যেই এসব উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।



