ওয়ানডে সিরিজ জয়ের স্মৃতি তখনও টাটকা। সেই আত্মবিশ্বাস নিয়েই টি-টোয়েন্টি সিরিজে মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু ছোট সংস্করণের ক্রিকেটে পুরোপুরি ভিন্ন এক চিত্র দেখা গেল। তিন ম্যাচের সিরিজে কোথাও নিজেদের মেলে ধরতে না পেরে শেষ পর্যন্ত হোয়াইটওয়াশের তিক্ত স্বাদ নিয়েই মাঠ ছাড়তে হলো টাইগারদের। চট্টগ্রামে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে ৭ উইকেটের দাপুটে জয় তুলে নিয়ে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া।
আগের দুই ম্যাচ হেরে সিরিজ হাতছাড়া হয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশের। তাই শেষ ম্যাচটি ছিল অন্তত সম্মান রক্ষার সুযোগ। কিন্তু ব্যাটিং ব্যর্থতা সেই সম্ভাবনাও নষ্ট করে দেয়। আজ নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ তুলতে পারে মাত্র ১০৯ রান। এক প্রান্ত আগলে রেখে লড়াই করেছেন তাওহীদ হৃদয়। দলের বিপর্যয়ের মধ্যেও অপরাজিত ৬১ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। তবে অন্য প্রান্তে সঙ্গ দিতে পারেননি কেউ। রিশাদ হোসেনের ১৬ রান ছাড়া আর কোনো ইনিংস উল্লেখ করার মতো ছিল না।
সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই বাংলাদেশের বোলারদের চাপে রাখে অস্ট্রেলিয়া। অধিনায়ক মিচেল মার্শের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে দ্রুতই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় সফরকারীরা। তিনি ৬০ রান করে জয়ের ভিত গড়ে দেন। জশ ইংলিস ও কুপার কনোলিও কার্যকর অবদান রাখেন।
একাদশ ওভারের তৃতীয় বলে রিশাদ হোসেন কুপার কনোলিকে ফিরিয়ে সামান্য স্বস্তি এনে দিলেও তা ছিল কেবল ব্যবধান কমানোর চেষ্টা। এরপর ক্রিজে এসে টিম ডেভিড তিন বলের মধ্যেই ম্যাচের ইতি টানেন। ওভারের চতুর্থ ও ষষ্ঠ বলে দুটি বিশাল ছক্কা হাঁকিয়ে জয় নিশ্চিত করেন এই হার্ডহিটার। মাত্র ১১ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ১১২ রান তুলে নেয় অস্ট্রেলিয়া।
৫৪ বল হাতে রেখে পাওয়া এই জয় শুধু ম্যাচ জেতায়নি, সিরিজজুড়ে তাদের আধিপত্যকেও আরও স্পষ্ট করেছে। অন্যদিকে বাংলাদেশের জন্য এটি ছিল হতাশার সমাপ্তি। ওয়ানডেতে যাদের সামনে দুর্দান্ত ক্রিকেট খেলেছিল টাইগাররা, সেই একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে দেখা গেল সম্পূর্ণ ভিন্ন এক দলকে।
সিরিজের শেষ ম্যাচেও ব্যাটিংয়ের দুর্বলতা এবং বোলারদের অসহায়ত্ব বাংলাদেশের পরাজয়ের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ফলে ওয়ানডে সিরিজ জয়ের আনন্দ দ্রুতই ম্লান হয়ে গেল টি-টোয়েন্টি সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশের হতাশায়।









Discussion about this post