চট্টগ্রামে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে ব্যাট হাতে আবারও হতাশ করেছে বাংলাদেশ। হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর লক্ষ্যে মাঠে নামা স্বাগতিকরা শুরু থেকেই অস্ট্রেলিয়ার বোলিং আক্রমণের সামনে অসহায় আত্মসমর্পণ করে। একপর্যায়ে মাত্র ৩৬ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বড় বিপদের মুখে পড়ে টাইগাররা। তবে অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয়ের দায়িত্বশীল ফিফটিতে ভর করে শেষ পর্যন্ত ৮ উইকেটে ১০৯ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ।
টসে জিতে আজ প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিলেও সেই সুবিধা কাজে লাগাতে পারেননি বাংলাদেশি ব্যাটাররা। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে দল। দুর্ভাগ্যজনক রান আউটে ফিরে যান তামিম, আর কিছুক্ষণ পরই মাত্র ১ রান করে সাজঘরে ফেরেন সাইফ হাসান। সাম্প্রতিক সময়ের ধারাবাহিক ব্যর্থতার সঙ্গে যোগ হয় আরও একটি হতাশার অধ্যায়।
এরপর তিন নম্বরে নামা পারভেজ হোসেন ইমনও হতাশ করেন। ১৩ বল মোকাবিলা করে মাত্র ১ রান করা এই বাঁহাতি ব্যাটার আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের হয়ে অন্তত ১০ বল খেলে সর্বনিম্ন স্ট্রাইকরেটের রেকর্ড গড়েন। তার ধীরগতির ইনিংস বাংলাদেশের বিপদ আরও বাড়িয়ে দেয়।
পাঁচ ওভার শেষে স্কোরবোর্ডে মাত্র ১১ রান তুলতে সক্ষম হয় বাংলাদেশ, হারায় ৩ উইকেট। রান তোলার চেয়ে উইকেট বাঁচানোর লড়াইয়েই যেন বেশি ব্যস্ত ছিলেন ব্যাটাররা। পাওয়ার প্লের শেষ দিকে নুরুল হাসান সোহান ও তাওহীদ হৃদয় কয়েকটি বাউন্ডারিতে চাপ কমানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু সোহান ৮ বলে ৬ রান করে ফিরে গেলে সেই সম্ভাবনাও দ্রুত শেষ হয়ে যায়।
দলের হাল ধরতে ব্যর্থ হন শামীম পাটোয়ারীও। উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেওয়ার আগে তার ব্যাট থেকে আসে মাত্র ৩ রান। ফলে ৩৬ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে অলআউট হওয়ার শঙ্কায় পড়ে বাংলাদেশ।
এমন পরিস্থিতিতে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন তাওহীদ হৃদয় ও রিশাদ হোসেন। রিশাদ ১৪ বলে ১৬ রান করে আউট হলেও হৃদয় একপ্রান্ত আগলে রেখে ইনিংস এগিয়ে নেন। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়লেও দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে দলকে লড়াই করার মতো একটি সংগ্রহ এনে দেন তিনি।
বাংলাদেশের ইনিংসের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি ছিল অধিনায়কের ব্যাট। ৫১ বলে ৬১ রানের ইনিংসে তিনি একাই দলের রানসংগ্রহের ভার বহন করেন। তার এই ফিফটির কারণেই লজ্জার রেকর্ড এড়িয়ে শতরান পেরোতে সক্ষম হয় বাংলাদেশ।
শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভার খেলে ৮ উইকেট হারিয়ে ১০৯ রান সংগ্রহ করে স্বাগতিকরা।










Discussion about this post