অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের ওয়ানডে ইতিহাসে দুটি জয়ই বিশেষভাবে স্মরণীয়। প্রথমটি এসেছিল ২০০৫ সালে কার্ডিফে, আর দ্বিতীয়টি ২০২৬ সালে মিরপুরে। দুই জয়ের মধ্যবর্তী সময় ২১ বছর। তবে এই দুই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সঙ্গে একটি নামই সমানভাবে জড়িয়ে আছে-মোহাম্মদ আশরাফুল।
২০০৫ সালের ১৮ জুনের আগে ওয়ানডেতে ছয়বার অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হয়ে প্রতিবারই হেরেছিল বাংলাদেশ। দুই দলের প্রথম সাক্ষাতের ১৫ বছর পর সপ্তম দেখায় আসে সেই কাঙ্ক্ষিত জয়। কার্ডিফে রিকি পন্টিংয়ের নেতৃত্বাধীন অস্ট্রেলিয়া আগে ব্যাট করে ৫ উইকেটে ২৪৯ রান সংগ্রহ করেছিল।
জবাবে ৭২ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। সেখান থেকে দলকে পথ দেখান অধিনায়ক হাবিবুল বাশার ও মোহাম্মদ আশরাফুল। বাশারের ৪৭ ও আশরাফুলের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে জয়ের ভিত গড়ে ওঠে। পরে আফতাব আহমেদের ১৩ বলে ২১ রানের ঝোড়ো ইনিংসে ৪ বল ও ৫ উইকেট হাতে রেখেই ইতিহাস গড়ে বাংলাদেশ।
এরপর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আরেকটি ওয়ানডে জয় পেতে বাংলাদেশকে অপেক্ষা করতে হয়েছে দীর্ঘ ২১ বছর। তবে এবার আশরাফুল মাঠে ছিলেন না ব্যাট হাতে, ছিলেন বাংলাদেশ দলের ব্যাটিং কোচ হিসেবে।
মিরপুরে শুরু হওয়া তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে আগে ব্যাট করে বাংলাদেশ ২৮৪ রান তোলে। চার বছর পর দলে ফেরা মোসাদ্দেক হোসেন খেলেন ৮৬ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস। জবাবে রানা, মুস্তাফিজুর রহমান ও মোসাদ্দেকের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে চাপে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। সফরকারীরা ৪২.২ ওভারে ৯ উইকেটে ১৯১ রান করার পর বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ হয়ে যায়। পরে ডাকওয়ার্থ-লুইস পদ্ধতিতে ৮৬ রানের জয় পায় স্বাগতিকরা।
এই জয়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আবেগঘন এক বার্তা দিয়েছেন আশরাফুল। তিনি লিখেছেন, ‘১৮ জুন ২০০৫, কার্ডিফ। সেদিন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়ের অংশ হতে পেরেছিলাম একজন খেলোয়াড় হিসেবে। সেই স্মৃতি আজও হৃদয়ের গভীরে অমলিন হয়ে আছে। ৯ জুন ২০২৬, মিরপুর। ২১ বছর পর আবারও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে জয়। তবে এবার মাঠে ব্যাট হাতে নয়, বাংলাদেশ দলের ব্যাটিং কোচ হিসেবে দলের পাশে ছিলাম।’
তিনি আরও লিখেছেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, জীবনের কত সুন্দর এক পরিক্রমা! একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে দুটি ঐতিহাসিক জয়, দুটি ভিন্ন ভূমিকায়– কিন্তু অনুভূতিটা একই, দেশের জন্য গর্ব আর আবেগে ভরা। আজকে ছেলেরা অসাধারণ ক্রিকেট খেলেছে। তাদের আত্মবিশ্বাস, লড়াই আর দলগত প্রচেষ্টা দেখে সত্যিই গর্বিত। এই জয় শুধু একটি ম্যাচের জয় নয়, এটি বাংলাদেশের ক্রিকেটের পথচলার আরেকটি স্মরণীয় অধ্যায়। দোয়া করবেন, যেন বাকি দুই ম্যাচেও একইভাবে ভালো ক্রিকেট খেলতে পারি এবং সিরিজটি দেশের জন্য জয় করতে পারি। আলহামদুল্লাহ। বাংলাদেশের সঙ্গে, বাংলাদেশের জন্য।’
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের দুই ঐতিহাসিক জয়ের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকতে পারা আশরাফুলের জন্য নিঃসন্দেহে এক অনন্য অর্জন। খেলোয়াড় হিসেবে প্রথম জয়ের নায়ক আর কোচ হিসেবে দ্বিতীয় জয়ের সাক্ষী হওয়া সাবেক এই ব্যাটার এখন তাকিয়ে আছেন আরেকটি নতুন ইতিহাসের দিকে-অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডে সিরিজ জয়।









Discussion about this post