শারজার মাঠে ক্রিকেটের ব্যাট-বলের লড়াই। একদিকে আফগানিস্তানের গর্বিত শিবির, অন্যদিকে বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাসী তরুণ দল। তিন ম্যাচে তিন জয়-শেষ দৃশ্যেও বদলায়নি চিত্রনাট্য। টাইগারদের হাতে ধরা দিল আরেকটি পরিপাটি জয়ের ছবি, আর আফগানদের ভাগ্যে জুটল শূন্যতা আর হতাশা।
রবিবার তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে ৬ উইকেটে জিতল বাংলাদেশ। আফগানিস্তানের ১৪৩ রান টপকে গেল জাকের আলি অনিকের দল ১২ বল বাকি থাকতেই। যাকে বলে হেসে-খেলে জয়!
আজকের এই ম্যাচ ছিল না কেবল একটি জয় বা হার। ছিল একটি প্রতিশোধ, একটি পুনর্জন্মের গল্প। ২০১৮ সালে দেরাদুনে আফগানিস্তানের কাছে হোয়াইটওয়াশ হয়েছিল বাংলাদেশ। সময় বদলেছে, মাঠ বদলেছে, দলের মুখও বদলেছে—কিন্তু সেই ইতিহাসকে পেছনে ফেলতেই যেন এবার ঘুরে দাঁড়াল টাইগাররা।
শেষ ম্যাচে টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় আফগানিস্তান। কিন্তু তাদের ব্যাটিংয়ের সূচনা যেন কুয়াশায় ঢাকা। শরিফুলের শুরুর সাইরেনে নড়ে ওঠে আফগান ইনিংস, এরপর একে একে যোগ দেন সাইফউদ্দিন, নাসুম, তানজিম। উইকেট ঝরতে থাকে শরতের পাতার মতো। গুরবাজ, ইব্রাহিম, রশিদ-সবার ব্যাট নিস্তব্ধ।
যদিও মাঝখানে সেদিকউল্লাহ, রাসুলি ও মুজিব কিছুটা আশার আলো জ্বালাতে চেয়েছিলেন, কিন্তু ১৪৩ রানের বেশি এগোয়নি দলটি। এদিন যেন মাঠের প্রতিটি করতালি, প্রতিটি ধুলার ঘূর্ণি টাইগারদের পাশেই দাঁড়িয়েছিল।
এরপর শুরু হলো বাংলাদেশের রানের সন্ধান। ওপেনিংয়ে নেমে পারভেজের বিদায় হয় দ্রুত, তানজিদ কিছুটা লড়লেন। কিন্তু গল্পের মূল চরিত্র তখনো মঞ্চে ওঠেননি।
সাইফ হাসান!
চোখে আগুন, ব্যাটে বজ্র।
রানের বন্যা বইয়ে দিলেন তিনি, ছক্কার পর ছক্কা, চারের পর চার।
৩৮ বলে ৬৪ রানের এক রত্নখচিত ইনিংস। যেন এক ছন্দময় কবিতা, যার প্রতিটি লাইনে লেখা কেবল ‘জয়’। শেষ দিকে তাকে সঙ্গ দেন সোহান। তার ব্যাট থেকে বের হওয়া একটি ছক্কায় শেষ হয় আফগান অধ্যায়।
দুই ওভার হাতে রেখেই ৬ উইকেটের জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ। এবার দুই দলের লড়াই ওয়ানডে ক্রিকেটে!
সংক্ষিপ্ত স্কোর-
আফগানিস্তান: ২০ ওভারে ১৪৩/৯ (রাসুলি ৩২, আতাল ২৮, মুজিব ২৩*; সাইফউদ্দিন ৩/১৫, নাসুম ২/২৪, তানজিম ২/২৪, শরীফুল ১/৩৩, রিশাদ ১/৩৯)।
বাংলাদেশ: ১৮ ওভারে ১৪৪/৪ (সাইফ ৬৪*, তানজিদ ৩৩, পারভেজ ১৪, নুরুল ১০*, জাকের ১০; মুজিব ২/২৬, ওমরজাই ১/১২, আহমেদজাই ১/৫০)।
ফল: বাংলাদেশ ৬ উইকেটে জয়ী।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: সাইফ হাসান।
ম্যাচ অব দ্য সিরিজ: নাসুম আহমেদ।
সিরিজ: বাংলাদেশ ৩–০ ব্যবধানে জয়ী।










Discussion about this post