জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) টি-টোয়েন্টি আসরে মাহমুদুল হাসান জয়ের ব্যাট থেকে ঝরল আগুন। তার বিধ্বংসী সেঞ্চুরির ওপর ভর করে চট্টগ্রাম বিভাগ উড়িয়ে দিল সিলেটকে। প্রায় একতরফা এই লড়াইয়ে জয় পেল চট্টগ্রাম ৯৯ রানের বিশাল ব্যবধানে। ছয় ম্যাচ শেষে চার জয়ে তারা এখন পয়েন্ট তালিকার এক নম্বরে, অন্যদিকে একমাত্র জয় নিয়েই নিচের দিকে সিলেট।
আজ দিনটি শুরু হয়েছিল জয়ের হাত ধরেই, শেষও হয়েছে তার নাম উচ্চারণে। টস হেরে ব্যাট হাতে নামা চট্টগ্রাম ইনিংসের শুরুতে আক্রমণাত্মক ভঙ্গি নিয়েই এগোয়। মুমিনুল হক ও মাহমুদুল হাসান জয় জুটি গড়েন ৬৩ রানের। মুমিনুলের ১৯ বলে ৩২ রানের ইনিংস ছিল ছোট কিন্তু কার্যকর। রাজা তাকে ফেরানোর পর দিপু (২) ও সাদিকুর (১৪) দ্রুত ফিরলে খানিকটা চাপে পড়ে দল।
তবে সেই চাপ কাটিয়ে ম্যাচে ফেরেন জয়। তার সঙ্গে ক্রিজে যোগ দেন ইরফান শুক্কুর, আর তারপর শুরু হয় সত্যিকারের রানের ঝড়। দুজন মিলে মাত্র ১২ ওভারে গড়ে তোলেন ১২২ রানের দুর্দান্ত পার্টনারশিপ। এই সময় জয় যেন নিজের নামের মতোই চট্টগ্রামকে এনে দেন জয় নিশ্চিত করার আশ্বাস।
মাহমুদুল হাসান জয়ের ব্যাটে তখন ছক্কার বৃষ্টি। সীমানা পেরোনো বল গুনে রাখা যাচ্ছিল না। ৬৩ বলে গড়া তার ১১০ রানের ইনিংসে ছিল পাঁচটি চার ও নয়টি ছক্কা। ইরফান শুক্কুরও ছিলেন সমান আগ্রাসী, মাত্র ২২ বলে ৪১ রান করে ফেরেন তিনি। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে চট্টগ্রামের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২১৪, টি–টোয়েন্টি ফরম্যাটে একেবারেই দুর্লভ এক স্কোর।
এমন লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ভেঙে পড়ে সিলেটের ব্যাটিং অর্ডার। প্রথম ওভারেই ফিরে যান অধিনায়ক জাকির হাসান। এরপর অমিত হাসান কিছুটা লড়াই করার চেষ্টা করলেও সহযোগিতা পাননি কেউই। অমিতের ব্যাট থেকে আসে ২৫ বলে ৪০ রান, সাতটি চারে সাজানো সেই ইনিংসেই লড়াই টিকেছিল।
শেষ দিকে কিছুটা প্রতিরোধ আসে লোয়ার অর্ডারে আবু জায়েদ রাহীর কাছ থেকে। ২৫ বলে তিনটি চার ও দুটি ছক্কায় ৩৭ রান করেন তিনি। তবে ততক্ষণে ম্যাচ প্রায় শেষ। পুরো দল ১৮.১ ওভারে ১১৫ রানে অলআউট হয়ে যায়।
চট্টগ্রামের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন মোহাম্মদ রুবেল-তিনি ১৫ রান খরচায় নেন তিন উইকেট। আহমেদ শরীফ ও হাসান মুরাদ পান দুটি করে উইকেট, আর আশরাফুল হাসান নেন একটি।










Discussion about this post