ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগের (ডিপিএল) নতুন মৌসুম শুরু হতেই যেন পরিষ্কার হয়ে গেল-এবারের প্রতিযোগিতা হবে তীব্র! কিন্তু সব ম্যাচে সমান লড়াই নাও হতে পারে। উদ্বোধনী দিনেই ছয় ম্যাচের অধিকাংশেই দেখা গেছে একপেশে ফলাফল, যেখানে শক্তির ব্যবধান স্পষ্ট করে দিয়েছে কয়েকটি দল নিজেদের অবস্থান।
আজ দিনের সবচেয়ে আলোচিত জয়টি এসেছে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের কাছ থেকে। পূর্বাচলের ক্রিকেটার্স একাডেমিতে বৃষ্টিতে কমে আসা ৩৪ ওভারের ম্যাচেও তারা খেলেছে পূর্ণ আক্রমণাত্মক ক্রিকেট। ৩ উইকেটে ২৮৩ রানের বিশাল সংগ্রহ-যা এই ফরম্যাটে কার্যত ম্যাচ শেষ করে দেওয়ার মতো। সেই লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে রূপগঞ্জ টাইগার্স লড়াই করলেও শেষ পর্যন্ত ২২ রানের ব্যবধানে হার মানে। ব্যাটে-বলে ভারসাম্যপূর্ণ পারফরম্যান্স দিয়ে রূপগঞ্জ শুরুতেই নিজেদের শিরোপা দাবিদার হিসেবে তুলে ধরে।
একই দিনে আরেকটি ম্যাচে ব্যবধান ছিল আরও বড়, আরও নির্মম। ইউল্যাব ক্রিকেট গ্রাউন্ডে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স যেন প্রতিপক্ষকে কোনো সুযোগই দেয়নি। ব্রাদার্স ইউনিয়ন লিমিটেডকে মাত্র ৮২ রানে গুটিয়ে দিয়ে সহজেই ৯ উইকেটের জয় তুলে নেয় তারা। নাঈম আহমেদের ৪৮ রানের ইনিংস ছিল সেই সহজ জয়ের প্রধান চালিকা শক্তি।
বিকেএসপিতে আরেকটি ম্যাচে দেখা গেছে ব্যাটিংয়ের শক্তি আর ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের মিশেল। বসুন্ধরা স্ট্রাইকার্সের হয়ে সাইফ হাসান যেন নিজের হারানো ছন্দ ফিরে পাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। ৯৬ রানের ইনিংস খেলার পাশাপাশি বল হাতেও অবদান রেখে তিনি ম্যাচসেরা হন। তার সঙ্গে ফজলে মাহমুদ রাব্বির ৮২ রানের জুটি দলকে বড় সংগ্রহ গড়তে সাহায্য করে। ২৮০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে গুলশান ক্রিকেট ক্লাব চেষ্টা করলেও ২৫৪ রানে থেমে যায়।
অন্যদিকে চমকটা এসেছে নতুন দল ঢাকা লেপার্ডসের কাছ থেকে। গতবারের চ্যাম্পিয়ন আবাহনী লিমিটেডকে ৫ উইকেটে হারিয়ে তারা জানিয়ে দিয়েছে, নতুন হলেও তারা লড়াইয়ে পিছিয়ে নেই। জাকির হাসানের ৭৪ রানের ইনিংস ছিল এই জয়ের মূল ভিত্তি। আবাহনীর হয়ে সৌম্য সরকারের ব্যর্থতা শুরুতেই দলকে চাপে ফেলে, যদিও সাব্বির রহমান শেষদিকে ঝড়ো ব্যাটিংয়ে লড়াইয়ের পুঁজি গড়েছিলেন।
আরেক ম্যাচে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব তাদের জয় নিশ্চিত করে অভিজ্ঞতার জোরে। এনামুল হক বিজয়ের ৮০ রানের ইনিংস সহজ করে দেয় পথচলা। সিটি ক্লাবের ১৯৪ রান তাড়া করে ৫ উইকেটে জয় তুলে নেয় মোহামেডান।
দিনের অন্য জয়টি গেছে প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের পক্ষে। দুই ব্যাংকের লড়াইয়ে শেষ হাসি হেসেছে তারা। অগ্রণী ব্যাংকের বিপক্ষে ৪ উইকেটের জয় তুলে নিয়েছে ফেভারিটরা।









Discussion about this post