দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আবারও ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগের শিরোপা ঘরে তুলেছে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। বৃষ্টিবিঘ্নিত নাটকীয় এক দিনে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আবাহনী লিমিটেডকে হারানোর পাশাপাশি প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের পরাজয়ও নিশ্চিত করে দিয়েছে তাদের শিরোপা। ১৬ বছর পর দেশের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ লিস্ট ‘এ’ টুর্নামেন্টের ট্রফি উঁচিয়ে ধরেছে মতিঝিলের ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটি।
শেষ রাউন্ড শুরুর আগে শিরোপার দৌড়ে ছিল তিন দল-মোহামেডান, আবাহনী ও প্রাইম ব্যাংক। ১০ ম্যাচ শেষে তিন দলেরই সংগ্রহ ছিল সমান ১৬ পয়েন্ট। তবে শিরোপা জিততে হলে মোহামেডানকে শুধু নিজেদের ম্যাচ জিতলেই চলত না, একই সঙ্গে হেরে যেতে হতো প্রাইম ব্যাংককেও। শেষ পর্যন্ত দুই সমীকরণই মিলেছে তাদের পক্ষে।
বিকেএসপির ৩ নম্বর মাঠে আবাহনীর বিপক্ষে ব্যাটিংয়ে নেমে রান উৎসবে মেতে ওঠে মোহামেডান। পারভেজ হোসেন ইমন ও এনামুল হক বিজয়ের দুর্দান্ত জোড়া সেঞ্চুরিতে ৪০৬ রানের বিশাল সংগ্রহ গড়ে দলটি। এটি বাংলাদেশের লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। ৩৬ রানে প্রথম উইকেট হারানোর পর দ্বিতীয় উইকেটে ২৪৮ রানের অবিশ্বাস্য জুটি গড়েন ইমন ও বিজয়।
ইমন ১১৬ বলে ১০ চার ও ১২ ছক্কায় ১৫০ রান করেন। অন্যদিকে ১১৫ বলে ১১ চার ও ৯ ছক্কায় ১৪১ রান আসে বিজয়ের ব্যাট থেকে। এই ইনিংসের মাধ্যমে লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে নিজের ২৫তম সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি। একই সঙ্গে তামিম ইকবালকে ছাড়িয়ে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির মালিকও হয়ে যান বিজয়। পরে আফিফ হোসেন ৩৩ বলে ৬১ এবং আনিসুল ইসলাম ১৬ বলে ৩০ রান করে দলের স্কোরকে চারশ পেরিয়ে নিতে সহায়তা করেন।
৪০৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে আবাহনী। যদিও অনিক সরকার ও সাব্বির রহমানের ব্যাটে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিল দলটি। বিশেষ করে অনিকের আক্রমণাত্মক ব্যাটিং ম্যাচে কিছুটা উত্তেজনা ফিরিয়ে আনে। তিনি ৬৪ বলে ৮৫ রানে অপরাজিত ছিলেন। সাব্বির রহমান করেন ২৪ রান। তবে ২৪.৪ ওভারে ৪ উইকেটে ১৭৮ রান করার পর বজ্রপাত ও বৃষ্টির কারণে খেলা বন্ধ হয়ে যায়। পরে ডাকওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন (ডিএলএস) পদ্ধতিতে মোহামেডানকে ৬৩ রানে জয়ী ঘোষণা করা হয়।
অন্যদিকে পাশের মাঠে ঢাকা লেপার্ডসের বিপক্ষে খেলছিল প্রাইম ব্যাংক। তারা আগে ব্যাট করে ৮ উইকেটে ২৬৬ রান সংগ্রহ করে। জবাবে লেপার্ডস ২৯.১ ওভারে ৩ উইকেটে ১৪২ রান করার পর বৃষ্টির কারণে খেলা বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ অপেক্ষার পর ডিএলএস পদ্ধতিতে লেপার্ডসকে ৮ রানের জয়ী ঘোষণা করা হয়। এই ফলই শিরোপা নিশ্চিত করে মোহামেডানের।
লিগ পর্ব শেষে ১১ ম্যাচে ৯ জয় ও ১৮ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে থেকে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে মোহামেডান। আবাহনী ও প্রাইম ব্যাংক সমান ১৬ পয়েন্ট পেলেও হেড-টু-হেড ব্যবধানে এগিয়ে থেকে রানার্স-আপ হয়েছে আবাহনী।
শিরোপা জয়ের আনন্দে সরাসরি অংশ নিতে না পারার আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন মোহামেডানের অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয়। বর্তমানে জাতীয় দলের হয়ে অস্ট্রেলিয়া সিরিজের প্রস্তুতিতে থাকায় দলের সঙ্গে নেই তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হৃদয় লিখেছেন, ‘১৬ বছর পর!! হ্যাঁ, দীর্ঘ ১৬ বছর পর আবার চ্যাম্পিয়ন হলো মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। আমার খুব ইচ্ছে ছিল এখন দলের সঙ্গে থাকার। আমি ওদের খুব মিস করছি, মিস করছি চ্যাম্পিয়ন হওয়ার উদযাপন আর অবশ্যই মিস করছি ট্রফিটা। দলের অধিনায়ক হিসেবে আমি ওদের জন্য অত্যন্ত গর্বিত, ওদের জন্য অনেক আনন্দিত এবং আনন্দের এই মুহূর্তে আমিও দূর থেকে ওদের সাথেই চোখে জল ফেলছি। মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের সকল ভক্ত-সমর্থকদের অনেক অনেক অভিনন্দন!’
২০০৯-১০ মৌসুমের পর প্রথমবারের মতো ডিপিএলের শিরোপা জিতে ক্লাব ক্রিকেটে নিজেদের হারানো গৌরব পুনরুদ্ধার করল মোহামেডান। সব মিলিয়ে এটি তাদের দশম ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা।









Discussion about this post