ডারউইনের মারারা ওভালে দিনের শুরুটা বাংলাদেশের জন্য ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। একের পর এক উইকেট হারিয়ে যখন ইনিংসটা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হচ্ছিল, তখন একাই প্রতিরোধের দেয়াল হয়ে দাঁড়ালেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তার ব্যাট থেকে এলো অপরাজিত ১০৯ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস। সেই শতকের ওপর ভর করেই ২৬৩ রানের লড়াকু সংগ্রহ গড়ে বাংলাদেশ। এরপর দিনের শেষ ভাগে নতুন বল হাতে ঝলক দেখালেন টাইগার পেসাররা। সব মিলিয়ে অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচের প্রথম দিনটি শেষ হলো বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে।
তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচে টস জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। কিন্তু শুরুতেই সেই সিদ্ধান্তের মূল্য দিতে হয় বাংলাদেশকে। ইনিংসের তৃতীয় ওভারেই কোনো রান না করে ফিরে যান ওপেনার তানজিদ হাসান। হ্যানো জ্যাকবসের বলে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন তিনি।
এরপর শাদমান ইসলাম কিছুটা স্বস্তি এনে দেওয়ার চেষ্টা করেন। ৪৭ বলে ৩১ রানের ইনিংসে চারটি বাউন্ডারি হাঁকিয়েছিলেন এই ওপেনার। কিন্তু বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। কোরি রকিচিওলির বলে তার বিদায়ের পর একই বোলারের শিকার হন মুমিনুল হকও। অভিজ্ঞ এই ব্যাটার ৫৮ বল খেলে করেন ১৬ রান।
দলীয় ৬১ রানের মধ্যেই বাংলাদেশের চতুর্থ উইকেটের পতন ঘটে। সেই ধাক্কাটা আরও বড় হয়ে আসে যখন অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিমও শূন্য রানে ফিরে যান। মাত্র চার বল খেলেই কোরির তৃতীয় শিকারে পরিণত হন তিনি।
চাপের মুখে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন। ৫৩ বলে ৩৭ রানের ইনিংসে সাতটি চার ছিল তার। কিন্তু দলীয় ১০৫ রানে শান্ত ফিরে গেলে আবারও বিপদে পড়ে বাংলাদেশ। অমিত হাসানও ১৫ রানের বেশি করতে পারেননি। ১১০ রানে ষষ্ঠ উইকেট হারানোর পর বাংলাদেশের ইনিংস কোথায় গিয়ে থামবে, তা নিয়েই তৈরি হয় শঙ্কা।
সেখান থেকেই গল্পটা বদলে দেন মেহেদী হাসান মিরাজ।
প্রথমে পরিস্থিতি বুঝে খেলেছেন তিনি। ঝুঁকি না নিয়ে উইকেটে থাকার চেষ্টা করেছেন। পরে যখন দলের প্রয়োজন হয়েছে, তখন পাল্টা আক্রমণে গেছেন। সৌম্য সরকারকে নিয়ে গড়েছেন ৪৮ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি। সৌম্য ১৬ রান করে ফিরে গেলেও মিরাজ নিজের কাজটা করে গেছেন।
তাইজুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়েও মূল্যবান সময় কাটান তিনি। তাইজুল করেন ১০ রান। এরপর শেষ দিকে খালেদ আহমেদকে নিয়ে গড়ে তোলেন আরও গুরুত্বপূর্ণ এক জুটি। খালেদের ১৫ রানের সঙ্গে মিরাজের দৃঢ়তায় বাংলাদেশের স্কোর পৌঁছে যায় ২৬৩-তে।
১৪১ বলে অপরাজিত ১০৯ রানের ইনিংসে মিরাজ হাঁকিয়েছেন ১১টি চার ও চারটি ছক্কা। শুধু একটি শতক নয়, কঠিন পরিস্থিতিতে কীভাবে লোয়ার অর্ডারকে সঙ্গে নিয়ে ইনিংস টেনে নিতে হয়, তারও উদাহরণ তৈরি করেছেন তিনি। বাংলাদেশের ২৬৩ রানের ইনিংসে সবচেয়ে বড় পার্থক্য গড়ে দেওয়া নামটি নিঃসন্দেহে মেহেদী হাসান মিরাজ।
অস্ট্রেলিয়া একাদশের হয়ে বল হাতে বাংলাদেশের ব্যাটিং বিপর্যয়ের মূল কারিগর ছিলেন অফস্পিনার কোরি। ২৪ ওভারে ৮৩ রান দিয়ে তিনি একাই তুলে নেন ৬ উইকেট। তার ঘূর্ণিতে বাংলাদেশের শীর্ষ সারির ব্যাটাররা বেশ ভুগেছেন। এছাড়া জ্যাকবস, ক্যাম্পবেল থম্পসন, জেভিয়ার ক্রোন ও জের্সিস ওয়াদিয়া একটি করে উইকেট নেন।
২৬৩ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা অবশ্য বাংলাদেশের বোলাররাই নিয়ন্ত্রণ করেন। নতুন বল হাতে হাসান মাহমুদ প্রথম ওভারেই ফিরিয়ে দেন অস্ট্রেলিয়া একাদশের অন্যতম আলোচিত তরুণ ব্যাটার স্যাম কনস্টাসকে। এরপর নিজের দ্বিতীয় ওভারে তাসকিন আহমেদ ক্যাম্পবেল কেলাওয়েকে বোল্ড করে দেন। মাত্র ১ রানেই দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে স্বাগতিকরা।
এরপর অধিনায়ক কার্টিস প্যাটারসন ও জশ ফিলিপ দিনের বাকি সময় সামলে নেন। আর কোনো বিপদ হতে দেননি তারা। প্রথম দিন শেষে অস্ট্রেলিয়া একাদশের সংগ্রহ ২ উইকেটে ৫১ রান। প্যাটারসন ২৬ এবং ফিলিপ ২২ রানে অপরাজিত আছেন। বাংলাদেশের চেয়ে এখনো ২১২ রানে পিছিয়ে রয়েছে তারা।
বাংলাদেশের হয়ে হাসান মাহমুদের বোলিং ছিল সবচেয়ে নজরকাড়া। চার ওভারে মাত্র চার রান দিয়ে একটি উইকেট নিয়েছেন তিনি। তাসকিনও একটি উইকেট পেয়েছেন। খালেদ আহমেদ ও এবাদত হোসেন উইকেট না পেলেও নিয়ন্ত্রিত বোলিং করে অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটারদের চাপের মধ্যে রেখেছেন।










Discussion about this post