শুরুটা হয়েছিল ধাক্কা দিয়ে, মাঝপথে এসেছিল সাকিব আল হাসানের প্রতিরোধ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনো কিছুই জাফনা কিংসকে বাঁচাতে পারেনি। ব্যাটারদের ব্যর্থতায় মাত্র ১২৩ রানে গুটিয়ে যাওয়া জাফনা ফাইনালে গল গ্যালান্টসের কাছে হেরেছে ৫ উইকেটে। এই জয়ের মধ্য দিয়ে লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বাদ পেল গল।
জাফনার ইনিংসের শুরুতেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় গলের হাতে। প্রথম দুই ওভারে হারায় দুই উইকেট। সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছিলেন থমাস রজার্স ও দিনুরা কালুপাহানা। দুজনের ব্যাটে জুটি কিছুটা আশা জাগালেও সেটিও স্থায়ী হয়নি।
জাফনার সেই প্রতিরোধ ভাঙার দায়িত্ব নেন সাকিব। নিজের দ্বিতীয় ওভারে এসে একই ওভারে ফেরান রজার্স ও কালুপাহানাকে। প্রথম বলে ক্যাচ দিয়ে ৩৪ রানে থামেন রজার্স। ওভারের শেষ বলে সাকিবের ঘূর্ণিতে বোল্ড হন কালুপাহানা, তার সংগ্রহ ছিল ৩১।
সাকিবের দুই উইকেটে জাফনার বড় সংগ্রহের সম্ভাবনা আরও ক্ষীণ হয়ে যায়। একপ্রান্তে কামিল মিশারা চেষ্টা চালিয়ে গেলেও তাকে খুব একটা সঙ্গ দিতে পারেননি অন্য ব্যাটাররা। ৩২ বলে ৪১ রান করে তিনিই হন জাফনার সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। শেষদিকে চামিন্দু বিক্রমাসিংহে ১৬ বলে ২৪ রান করে দলের স্কোর কিছুটা সম্মানজনক জায়গায় নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবুও ৩৬ বল বাকি থাকতেই অলআউট হয়ে যায় জাফনা।
গলের বোলিং আক্রমণে সবচেয়ে সফল ছিলেন চারিথ আসালাঙ্কা ও ইশান মালিঙ্গা। দুজনই নেন তিনটি করে উইকেট। থারিন্ডু রাথনায়েকে শিকার করেন দুটি উইকেট।
১২৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই গলকে চাপে ফেলার চেষ্টা করেছিল জাফনা। মোহাম্মদ সিরাজ প্রথম ওভারে স্যাম হার্পারকে ফিরিয়ে দেন। পরের ওভারে চারিথ আসালাঙ্কা ফেরান ট্রাভিন ম্যাথুকে। মাত্র ১০ রানে দুই উইকেট হারিয়ে কিছুটা অস্বস্তিতে পড়ে গল।
তবে ছোট লক্ষ্য হওয়ায় সেই চাপ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। চামিকা করুনারত্নে, শাহান আরাচিগে ও অধিনায়ক দাসুন শানাকা দায়িত্ব নিয়ে দলকে এগিয়ে নেন। শানাকার মাত্র ৯ বলে ২০ রানের ঝোড়ো ইনিংস গলের জয়কে আরও সহজ করে দেয়। শেষ পর্যন্ত ২৫ বল হাতে রেখেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় তারা।
ফাইনালে বাংলাদেশের দুই ক্রিকেটারের পারফরম্যান্সও ছিল দুই রকম। তাওহিদ হৃদয় ১০ বলে করেন ১০ রান। পুরো আসরে দুর্দান্ত ব্যাটিং করা এই ব্যাটার পাঁচ ইনিংসে ১৫১ রান করেছেন ১৯৮.৬৮ স্ট্রাইক রেটে। কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নিজের ছন্দ ধরে রাখতে পারেননি।
সাকিবও ব্যাট হাতে ছিলেন নিষ্প্রভ। ১৩ বলে ৯ রান করলেও বল হাতে তিনিই ছিলেন জাফনার বিপক্ষে দলের সবচেয়ে সফল বোলার। চার ওভারে মাত্র ১৫ রান দিয়ে নেন দুটি উইকেট। টি-টোয়েন্টিতে নিজের ১৭তম ফাইনালে এসে এটিই হয়ে গেল ফাইনালে সাকিবের ক্যারিয়ারসেরা বোলিং।
তবে ব্যক্তিগত এই অর্জন সাকিবের জন্য সান্ত্বনা হয়েই থাকল। কারণ তার দুই উইকেট জাফনার ইনিংসকে আটকে দিলেও গলের ১২৪ রানের লক্ষ্য আটকানোর মতো পুঁজি তৈরি করতে পারেনি দলটি।
এলপিএলের আগের পাঁচ আসরে তিনবার ফাইনালে উঠেও শিরোপা জিততে পারেনি গলের কোনো দল। ষষ্ঠ আসরে এসে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটল। আর জাফনার জন্য আবারও ফাইনালের হতাশা। সাকিবের বোলিংয়ে কিছুটা লড়াইয়ের ইঙ্গিত মিললেও শেষ পর্যন্ত ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নিল গল গ্যালান্টসই।









Discussion about this post