মালয়েশিয়া জাতীয় দলকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে সিরিজে শুভসূচনা করেছে বাংলাদেশ হাই পারফরম্যান্স (এইচপি) দল। সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে মালয়েশিয়াকে মাত্র ৬৯ রানে অলআউট করে ৮৯ রানের জয় পেয়েছে টাইগার এইচপি।
প্রথমে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ এইচপি ১৫৮ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায়। জবাবে এইচপির স্পিনারদের বোলিং তোপে দাঁড়াতেই পারেনি মালয়েশিয়া। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে মাত্র ৬৯ রানেই গুটিয়ে যায় দলটি। ফলে বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ এইচপি।
এই সিরিজে এইচপি দলের মেন্টরের দায়িত্বে আছেন জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। তাঁর অভিজ্ঞতা থেকে নানা পরামর্শ ও টোটকা পাচ্ছেন দলের ক্রিকেটাররা। ম্যাচ শেষে এইচপির স্পিনার মোহাম্মদ রুবেল জানিয়েছেন, রিয়াদের পরামর্শ দলের ক্রিকেটারদের ইতিবাচক ক্রিকেট খেলতে সহায়তা করছে।
গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে রুবেল বলেন, ‘উনি (রিয়াদ) আসলে আমাদের অনেক সাহায্য করছেন ব্যাটারদের। বোলারদেরকেও সাহায্য করেছেন। ইতিবাচক ক্রিকেট যেন খেলতে পারি, সেটা পেরেছি ভালো। যার যার প্ল্যান অনুযায়ী সবাই চেষ্টা করেছে ভালো করার। ইনশাআল্লাহ পরের ম্যাচে সবাই আরও ভালো করবে।’
প্রথম ম্যাচে ব্যাটিং নিয়ে সন্তুষ্টির কথাও জানিয়েছেন রুবেল। তার মতে, উইকেট ছিল ব্যাটার ও বোলার উভয়ের জন্যই সহায়ক। তিনি বলেন, ‘উইকেট ভালো ছিল। ব্যাটাররাও অত খারাপ করেনি। আমাদের সেরকম আইডিয়া ছিল না, আশা করি খারাপ হয়নি। সামনে আরও ভালো হবে।’
অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনকে সামনে রেখে দীর্ঘদিনের অনুশীলনও এই সিরিজে কাজে আসছে বলে মনে করেন রুবেল। তার ভাষায়, ‘আমরা অনেক দিন অনুশীলন করেছি। অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশন কেমন হবে সেভাবেই অনুশীলন করেছি। এখন ম্যাচ খেলতে পারছি। এর ফলে আমাদের উপকার হবে। ম্যাচ পরিস্থিতি বুঝতে সাহায্য হবে আমাদের জন্য, পরিস্থিতি কী হবে না হবে এসব বুঝতে সাহায্য হচ্ছে।’
মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের উইকেটের চরিত্র নিয়েও নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন এই স্পিনার। তিনি বলেন, উইকেট খুব একটা স্লো ছিল না, বরং কিছুটা স্কিডি ছিল। তাঁর মতে, ব্যাটারদের পাশাপাশি বোলারদের জন্যও উইকেটটি ভালো ছিল এবং এটি ছিল একটি স্পোর্টিং উইকেট।
প্রতিপক্ষ সম্পর্কে খুব বেশি ধারণা না থাকলেও নিজেদের শক্তির জায়গায় থাকার লক্ষ্যেই খেলেছে বাংলাদেশ এইচপি। রুবেল বলেন, ‘ওদের নিয়ে (মালয়েশিয়া) আমাদের অত আইডিয়া ছিল। আমরা সবাই টার্গেট করেছি নিজেদের শক্তির জায়গাতে থাকার জন্য। সেভাবেই চেষ্টা করেছি আলহামদুলিল্লাহ।’
নিজের বোলিং নিয়েও আত্মবিশ্বাসী রুবেল। তবে আরও উন্নতির প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, ‘বোলিংয়ে বরাবরই আত্মবিশ্বাস থাকে। আমার মনে হয় আরেকটু ভালো করতে হবে। ইনশাআল্লাহ দেখা যাক।’
মালয়েশিয়া তুলনামূলক দুর্বল প্রতিপক্ষ হলেও টি-টোয়েন্টিতে কোনো দলকেই হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই বলে মনে করেন রুবেল। প্রথম ম্যাচে প্রতিপক্ষ সম্পর্কে ধারণা নেওয়ার সুযোগ হয়েছে, এবার দ্বিতীয় ম্যাচে আরও ভালো করার লক্ষ্য এইচপির।
সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টি অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১০ আগস্ট। প্রথম ম্যাচের দাপুটে জয় আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ এইচপির। এখন শেষ ম্যাচেও সেই ধারাবাহিকতা ধরে রেখে সিরিজ জয় নিশ্চিত করাই লক্ষ্য টাইগার এইচপির।










Discussion about this post