জর্ডান নিলের বল অফ-স্টাম্পের বাইরে খানিক লাফিয়ে উঠেছিল। সেটিই নিখুঁত টাইমিংয়ে কাট করলেন মাহমুদুল হাসান জয়। গালি অঞ্চলের ফিল্ডারদের মাঝ দিয়ে বল ছুটে সীমানা পেরোতেই সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের ডাগআউট থেকে উঠে আসে তুমুল করতালি। সতীর্থদের সেই উচ্ছ্বাসের কারণ আর কিছু নয়, জয়ের সেঞ্চুরি পূর্ণ হওয়ার আনন্দ।
১৯০ বলে তিন অঙ্কের মাইলফলক স্পর্শ করেই জয় হেলমেট খুলে ব্যাট উঁচিয়ে সাড়া দেন সতীর্থ ও দর্শকদের অভিনন্দনে। টেস্ট ক্যারিয়ারের এটি তার দ্বিতীয় সেঞ্চুরি এবং দেশের মাটিতে প্রথম। ক্রিকেটের দীর্ঘতম সংস্করণে প্রথম শতক এসেছিল প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে, ২০২২ সালের মার্চে দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে। তখন ৩২৬ বলে ১৫ চার ও ২ ছক্কায় ১৩৭ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেছিলেন তিনি।
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশের সর্বশেষ টেস্ট সিরিজে জায়গা পাননি জয়। তবে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে প্রত্যাবর্তনের এই ম্যাচটিকে তিনি সেঞ্চুরিতে রাঙিয়ে জানান দিয়েছেন নিজের পরিণত ব্যাটিংয়ের কথা। ওপেনিংয়ে তার সঙ্গী সাদমান ইসলাম সেঞ্চুরি মিস করলেও জয় সেই সুযোগ হাতছাড়া করেননি। ৭২ বলে হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করার পর আরও ধীরস্থির ব্যাটিংয়ে পরের পঞ্চাশ করেন ১১৮ বলে। তার ইনিংসে এখন পর্যন্ত এসেছে নয়টি চার ও একটি ছক্কা।
দীর্ঘ সময়ের অপেক্ষা শেষে টেস্ট একাদশে ফিরেই জয়ের এমন ইনিংস বাংলাদেশের ইনিংসে স্থিতি এনে দিয়েছে। সিলেটে দিনের শেষ বিকেলে যখন তিনি সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন, তখন বাংলাদেশের সংগ্রহ ৫৭ ওভারে ১ উইকেটে ২০৬ রান। জয় ১৯৪ বলে ১০০ রানে অপরাজিত, তার সঙ্গে ক্রিজে আছেন মুমিনুল হক ২৫ রানে।
তিন বছর ও ৩০ ইনিংস পর টেস্টে শতকের দেখা পেলেন মাহমুদুল হাসান জয়। ঘরের মাঠে তার এই ইনিংস শুধু ব্যক্তিগত অর্জনই নয়, বরং জাতীয় দলে ফেরার আত্মবিশ্বাসী বার্তাও বয়ে আনল-বাংলাদেশের টেস্ট ওপেনিংয়ে যেন এক নতুন আশার আলো জ্বালিয়ে দিল এই তরুণ ব্যাটসম্যানের নাম।










Discussion about this post