সিলেটে দিনটা যেন পুরোপুরিই বাংলাদেশের ছিল। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের প্রথম টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে স্কোরবোর্ডে ঝলমল করছে ১ম উইকেটে ৩৩৮। দিনের নায়ক মাহমুদুল হাসান জয়, অপরাজিত ১৬৯ রানে। তার সঙ্গে ক্রিজে আছেন অভিজ্ঞ মুমিনুল হক, ৮০ রানে। দিনের শুরুতে আয়ারল্যান্ডকে ২৮৬ রানে গুটিয়ে দেওয়ার পর ব্যাট হাতে যেন দারুণ ছন্দে দিন কাটিয়েছে স্বাগতিকরা।
সকালে দিনের খেলা শুরু হয়েছিল আয়ারল্যান্ডের ইনিংস দিয়ে। আগের দিন ৮ উইকেটে ২৭০ রানে শেষ করা অতিথিরা টিকেছিল মাত্র ১৪ বল। যোগ করতে পেরেছে আরও ১৬ রান, শেষ পর্যন্ত অলআউট ২৮৬ রানে। এরপর শুরু হয় বাংলাদেশের ব্যাটিং উৎসব। ওপেনিংয়ে মাহমুদুল হাসান জয় ও সাদমান ইসলামের ব্যাটে গড়া হয় দারুণ ভিত্তি-১৬৮ রানের জুটি। দুজনই খেলেছেন সুনিপুণ ইনিংস। সাদমান ফিরেছেন ৮০ রানে, তবে তার সেই ধৈর্যশীল ব্যাটিং দিয়েই তৈরি হয় মজবুত প্ল্যাটফর্ম।
এরপর মুমিনুল হকের সঙ্গে জুটি বেঁধে জয় আরও উজ্জ্বল হয়ে ওঠেন। দুজনের অবিচ্ছিন্ন ১৭০ রানের পার্টনারশিপে বাংলাদেশের লিড ৫২ রানে গিয়ে দাঁড়ায়। সেঞ্চুরি তুলে নেওয়ার পর থেমে থাকেননি জয়। চার-ছক্কার ঝড় তুলতে তুলতে দেড়শও পার করেন এই তরুণ ওপেনার। ২৮৩ বল খেলে ১৪ চার ও ৪ ছক্কায় গড়া তার অপরাজিত ১৬৯ রানের ইনিংস এখন পর্যন্ত ক্যারিয়ারের সেরা। এক সময় ১৩৮ ছিল তার সর্বোচ্চ, এবার সেই সীমা পেরিয়ে রেখে দিয়েছেন ডাবল সেঞ্চুরির আশাও জিইয়ে।
অন্য প্রান্তে মুমিনুলও দেখিয়েছেন নিজের পুরোনো ছন্দ। ১২৪ বলে ৮০ রানের ইনিংসে ছিল পাঁচটি চার ও দুটি ছক্কা। শান্ত, হিসেবি ব্যাটিংয়ে তিনি যেমন জুটিকে এগিয়ে নিয়েছেন, তেমনি জয়ের আক্রমণাত্মক ধাঁচকেও নিখুঁত সমর্থন দিয়েছেন।
আয়ারল্যান্ডের হয়ে একমাত্র উইকেটটি পেয়েছেন ম্যাথু হামফ্রেস। তবে বাকি বোলাররা ছিলেন সম্পূর্ণ বিবর্ণ। ম্যাককার্থি, ইয়াং, ম্যাকব্রিন, নিল-কেউই বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে কোনো চাপ তৈরি করতে পারেননি।
শেষ বিকেলে ৮৫ ওভারে ১ উইকেটে ৩৩৮ রানে দিন শেষ করে বাংলাদেশ। হাতে ৯ উইকেট, সামনে লম্বা সময়-এ অবস্থায় টাইগাররা শুধু এগিয়ে নয়, নিয়ন্ত্রণেও।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
আয়ারল্যান্ড ১ম ইনিংস: ৯২.২ ওভারে ২৮৬/১০ (স্টার্লিং ৬০, কারমাইকেল ৫৯, ক্যাম্ফার ৪৪, টাকার ৪১; মিরাজ ৩/৫০, হাসান ২/৪২, মুরাদ ২/৪৭, তাইজুল ২/৭৮)। বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ৮৫ ওভারে ৩৩৮/১ (মাহমুদুল ১৬৯*, সাদমান ৮০, মুমিনুল ৮০*; হামফ্রিস ১/৭৮)।
(২য় দিন শেষে)










Discussion about this post