বাংলাদেশ ক্রিকেটে লেগ স্পিনার নিয়ে আশাবাদের গল্প খুব বেশি শোনা যায়নি। সেই শূন্যতায় গত কয়েক বছরে নতুন আলো হয়ে উঠেছেন রিশাদ হোসেন। ধারাবাহিক উন্নতি, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি এবং বিদেশের ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে নিজের সামর্থ্য দেখিয়ে তিনি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। তবে কোচ মুশতাক আহমেদের চোখে রিশাদের যাত্রা কেবল শুরু, শেষ নয়।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জয়ের পর টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত বাংলাদেশ দল। প্রথম ম্যাচের আগে শনিবার সংবাদ সম্মেলনে এসে দলের স্পিন বোলিং কোচ মুশতাক রিশাদকে নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন। তার কথায় স্পষ্ট, এই তরুণ লেগ স্পিনারকে আরও বড় অস্ত্রে পরিণত করার পরিকল্পনা চলছে।
রিশাদের সবচেয়ে বড় শক্তি তার সাহসী মানসিকতা ও ভ্যারিয়েশন। কিন্তু আধুনিক ক্রিকেটে শুধু বল ঘোরাতে পারলেই হয় না, প্রতিপক্ষকে ভুল পড়াতে হয়, পরিকল্পনা বদলাতে হয়, লাইনে বৈচিত্র্য আনতে হয়। তাই মুশতাক এখন বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন গুগলির উন্নতিতে।
মুশতাক বলেন, ‘আমরা তার বিভিন্ন ভ্যারিয়েশন নিয়ে কাজ করছি, ক্রিজ ব্যবহার করা নিয়েও কাজ করছি, বিশেষ করে তার গুগলি নিয়ে। তার গুগলিটা আরও একটু উন্নত করা দরকার। গুগলির অ্যাঙ্গেল, ডানহাতি ব্যাটসম্যানদের বিপক্ষে কোন দিকে বল করতে হবে, স্টাম্পের কাছে নাকি স্টাম্পের বাইরে, এসব বিষয় নিয়েও কাজ করছি।’
এই বক্তব্যে বোঝা যায়, রিশাদকে শুধু দক্ষ বোলার নয়, চিন্তাশীল বোলার হিসেবেও গড়ে তোলা হচ্ছে। কোন ব্যাটসম্যানের বিপক্ষে কী পরিকল্পনা, কোন ডেলিভারি কখন ব্যবহার করতে হবে-এসবই এখন তার শেখার অংশ।
মুশতাকের মতে, একজন লেগ স্পিনারের জন্য ক্রিজ ব্যবহার করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ একই জায়গা থেকে বারবার বল করলে ব্যাটসম্যান দ্রুত মানিয়ে নিতে পারে। কিন্তু ক্রিজের ভিন্ন জায়গা ব্যবহার করলে অ্যাঙ্গেল বদলে যায়, বিভ্রান্তি তৈরি হয়। সেই সঙ্গে তিনি জোর দিচ্ছেন রিশাদের বোলিং অ্যাকশনেও।
মুশতাক বলেন, ‘ক্রিজ ব্যবহার করার পাশাপাশি তার বেসিক অ্যাকশন যেন শক্ত ও পুনরাবৃত্তিযোগ্য হয়, আমি সবসময় এই কথাটা বলি। আমার মনে হয় একজন লেগ স্পিনারের জন্য এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, লেগ স্পিনাররা অনেক সময় খরুচে হয়ে যেতে পারে। তাই আমরা তার অ্যাকশন নিয়ে কাজ করতে চাই, যাতে সে শুধু ভালো বলই না, ভালো ওভারও করতে পারে। এখন পর্যন্ত সে অনেক উন্নতি করেছে।’
এই মন্তব্যে উঠে এসেছে রিশাদের পরবর্তী ধাপের লক্ষ্য। শুধু মাঝে মাঝে দুর্দান্ত বল করলেই হবে না, পুরো স্পেলে ধারাবাহিক থাকতে হবে। উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি রান আটকে রাখাও হতে হবে তাঁর বড় গুণ।
বাংলাদেশ দলে দীর্ঘদিন ধরে একজন কার্যকর লেগ স্পিনারের অভাব ছিল। রিশাদ সেই জায়গা পূরণের সম্ভাবনা তৈরি করেছেন। এখন তার সঙ্গে কাজ করছেন মুশতাক আহমেদের মতো অভিজ্ঞ কিংবদন্তি।









Discussion about this post